সবুজের নান্দনিক সংরক্ষণে বনসাই

89

স্টাফ রিপোর্টার : ছোট্ট একটি টবে সামান্য মাটির মধ্যে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে বাগানবিলাস গাছ। সবুজে আবৃত গাছটিতে ফুটে আছে সাদা সাদা অসংখ্য ফুল। দৃষ্টিনন্দন এ গাছটি মন কাড়ছে আগত দর্শনার্থীদের। কেউ কেউ প্রকৃতির একাত্মতায় ছুঁয়ে দেখতে চাচ্ছে গাছটিকে। তবে সেই আশা অনেকটায় ব্যর্থ হচ্ছে। কেননা গাছে হাত দেয়া নিষেধ। গাছটির মালিকের মতে গাছটির বয়স ৫০ বছর। একটি ছোট্ট পাত্রে এত বয়সি গাছ রয়েছে সেটা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। আসলেই তাই! তবে গাছটির শিল্পীর মতে, ৫০ উর্ধ্ব বাগানবিলাস গাছের গুঁড়ি থেকেই বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ করেই এটিকে তৈরি করা হয়েছে। সন্তানের মতোই দীর্ঘ ৫ বছর সযতেœ লালন-পালন করা হয়েছে এই গাছটিকে। প্রদর্শনীতে থাকা এই গাছটির মূল্য সবচেয়ে বেশি। প্রদশর্নীতে গাছটির মূল্য সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা রাখা হয়েছে।  গাছটির শিল্পী রাজশাহী বনসাই সোসাইটি’র সদস্য খন্দকার আকিব জাবেদ জানান, বনসাই মূলত একটি শখ। ছোট থেকে প্রকৃতির প্রতি, গাছের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই এটা করা। আমার বাড়িতে খুব বেশি জায়গা নেই। কিন্তু আমি গাছ লাগাতে ভালোবাসি। আমার ছাদে এখন অনেক গাছ আছে। পড়াশোনার পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা করা, গাছকে কিভাবে নান্দনিক করা যায় এটা নিয়েই বেশি ভাবি। আর বনসাই সোসাইটি আমাকে তা করতে সাহায্য করেছে। আর এখন শখের পাশাপশি অর্থনৈতিকভাবেও সাহায্য করছে বনসাই। এটা আমাকে আরো বড় কিছু করতে অনুপ্রাণিত করে। তবে আমাদের যেটা খুব পছন্দের গাছ সেটা আমরা বিক্রি করি না।
একমাত্র এই গাছটিই নয়, রাজশাহী কলেজে তিন দিনব্যাপি শুরু হওয়া বনসাই প্রদর্শনীর গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে ৪৫ জন শিল্পীর সাড়ে তিনশো গাছ। প্রতিটি গাছে ফুটে উঠেছে ভিন্ন ভিন্ন শিল্পীর বিচিত্র জীবন্ত আর্ট। আর এই আর্ট যে যত নিখুঁত আর মনের মাধুরী মিশিয়ে অপূর্ব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারবে সেই সেরা বনসাই শিল্পী। এসব শিল্পীদের সবুজের এমন কারুকাজ দেখতে এবং গাছের সাথে পরিচিত হতে দর্শনার্থীরা আসছেন বনসাই প্রদর্শনীতে। সবুজ নগরীর পরিচ্ছন্ন কলেজ ক্যাম্পাসে সবুজের এমন প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের প্রচুর সমাগম দেখা যাচ্ছে।
রাজশাহী কলেজ উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ন ম আল মামুন চৌধুরী বলেন, শহুরে জীবনে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়ার সুযোগ খুব কম। তবে এখন বিভিন্ন কৌশলে সেই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমনি একটি কৌশল হলো বনসাই। রাজশাহী কলেজ এরই মধ্যে সবুজ ক্যাম্পসে পরিচিত হয়েছে। এই ক্যাম্পাসে বনসাই প্রদর্শনীর এমন আয়োজন দর্শনার্থীদের আরো বেশি আকৃষ্ট করবে। গাছের এমন আয়োজনের জন্য বনসাই সোসাইটিকে স্বাগত জানায়।
প্রদর্শনীতে ঘুরতে আসা রবিউল জানান, গাছের এমন রূপ দেখতে খুব ভালো লাগছে। বন্ধুরা সবাই মিলে এখানে এসেছি, গাছ দেখছি। নতুন নতুন অনেক গাছ এখানে দেখতে পেলাম। বনসাই’র এমন আয়োজন ভবিষ্যতে আরো দেখতে চাই।
শক্ত কা-, ছোট পাতা, কষ্ট সহ্য করতে পারে এমন গাছকে খর্বাকৃতি করার কাজকে বনসাই বলা হয়। এছাড়া যে সকল গাছের বৃদ্ধি ধীরে ধীরে হয়। গাছের কা- মোটা, বছরে একবার পাতা ঝরে, গাছের ঝুরি নামে, শিকড় কেটে দিলে ঝুরি গাছের শিকড়ের কাজ করে এমন গাছের বনসাই করা হয়। একটি বনসাই গাছ ছোট পাত্রে বেড়ে উঠে। নিয়মিত নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে গাছকে বাঁচিয়ে রাখা হয়।
রাজশাহী বনসাই সোসাইটির সভাপতি সৈয়দ মাহফুজ ই তৌহিদ টুটু বলেন, আমরা বনসাই’র এমন প্রদর্শনীর মাধ্যমে সবুজকে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি। বনসাই এখন শুধু শখ নয়Ñ এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও আছে। যুব সমাজ যদি বনসাই করতে আগ্রহী হয় তাহলে বৃক্ষের প্রতি ভালোবাসা আরো বাড়বে। এতে একদিকে যেমন সুস্থ যুব সমাজ পাওয়া যাবে অন্যদিকে তারা বনসাই তৈরি করে অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবে।
রাজশাহী কলেজে রাজশাহী বনসাই সোসাইটি আয়োজিত ২০তম বনসাই প্রদর্শনীতে কামিনী, জিলাপী, চায়নিজ বট, পাইকড়, তেঁতুল, শেওড়া, বাংলা বট, বট, ঝুমুর, ডুমুর, ফুকেল টি, থাই চেরি, সেফিলেনা, ফাইকাস, ফুকেনটি, বাগানবিলাস, বৈচি, কদবেল, পেন্টোস, ছাতিমসহ ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির নান্দনিক গাছ স্থান পেয়েছে।

SHARE