রাজশাহীতে টেন্ডার নিয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

115

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে রেল ভবনে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে আহত রাসেল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তিনি নগরীর শিরোইল স্টেশনপাড়া মহল্লার মো. কাসেমের ছেলে।

রামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ (এএসআই) রফিকুল ইসলাম রফিক সন্ধ্যায় জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় রাসলকে। পরে জরুরি অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্যে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের (পূর্ব) সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রাজার অবস্থাও সংকটাপন্ন।

এছাড়া ছুরিকাঘাতে মেনা নামের আরেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি একই এলাকার ফরহাদের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, রেল ভবনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রাজা ও আওয়ামী লীগ কর্মী সুজন আলীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার দুপুরে রেল ভবনের সামনে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এরই একপর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনার পর পুলিশ গিয়ে রেলভবন ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম সংলগ্ন ভাংড়ির দোকানের সামনে থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করে।

সুজন আলীর বাড়ি নগরীর শিরোইল কাঁচাবাজারে। ঘটনার পর থেকেই সুজন গ্রুপের সবাই পলাতক। নগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, বুধবার দুপুরে রেলভবনে টেন্ডার ড্রপের শেষ দিন ছিলো। টেন্ডার ড্রপের পর রাজা ও সুজন স্টেডিয়াম মার্কেটের সামনে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সুজন গ্রুপের সদস্যরা রাজা গ্রুপের সদস্যদের ছুরিকাঘাত করে। এতে রাজা (৪০) ও তার ছোট ভাই রাসেল (৩২) এবং মেনা (২২) নামের তিনজন গুরুতর আহত হয়। এদের মধ্যে রাসেল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রাজার অবস্থাও সংকটাপন্ন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সে সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে পাঠান। সন্ধ্যায় রাসেল মারা যান। আর সংঘর্ষের পরই এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর রেলভবন ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম সংলগ্ন ভাংড়ির দোকানের সামনে থেকে একটি রক্তমাখা ছুরিও উদ্ধার করে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ সুজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার জানান, ঠিকাদারি বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজা ও সুজন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এটা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। এর সাথে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রাজার ছোট ভাই রাসেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আ’লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তার মৃত্যুতে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আতিকুর রহমান কালু এবং সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। গতকাল বুধবার এক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

SHARE