অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় নেই : বাদশা

120

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে লাঞ্ছিত করে পানিতে ফেলে দেয়ার সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তার জন্য তিনি ‘যুদ্ধ’ করবেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে সহানুভূতি জানাতে তার কার্যালয়ে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন। রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়নি। স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। রাজশাহীতে তাদের খাতির করা হলেও ঢাকায় হবে না। বিষয়টি নিয়ে তিনি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এবং শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন জানিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, এই পলিটেকনিকে ছাত্রমৈত্রী নেতা সানিকে খুন করা হয়েছে। তার রক্তের দাগ না মুছতেই মাত্রা অতিক্রম করে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করা হলো। এদের দমন করা এখন অপরিহার্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি ঢাকায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলব, যেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, এখানে এসে শুনলাম, অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সিংহভাগই অনুপ্রবেশ করেছে। তারা শিবির-ছাত্রদল থেকে এসেছে। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়ন চলছে। সারাদেশেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা চলছে। এসব নিয়ে আমি সংসদীয় কমিটি এবং শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে না। বাদশা বলেন, শিক্ষকদের অসম্মান করা এখন রীতিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনও শিক্ষকদের পা ছুঁয়ে সালাম করি। পলিটেকনিকের এই ঘটনা শুনে আমি স্তম্ভিত। রাজশাহীর এই ঘটনা নিয়ে ঢাকায় একটা অনুষ্ঠানে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমি বলেছি, যে পুকুরে অধ্যক্ষকে ফেলে দেয়া হয়েছিল সেই পুকুরের পানিতে আমি মুখটা ধুয়ে আসব। কারণ, শিক্ষক পবিত্র। তাকে পানিতে ফেলে দেয়ায় পানিটাও পবিত্র হয়ে গেছে। সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এ সময় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ওই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করেন। এছাড়া সংগ্রহ করেন ঘটনার সময়ের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ। এসব তিনি সংদীয় কমিটি এবং শিক্ষামন্ত্রীকে দেখাবেন বলে জানিয়েছেন। এ সময় অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ, পাওয়ার বিভাগের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান, ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের প্রধান শহিদুল ইসলাম, ইলেক্ট্রোমেডিক্যাল বিভাগের প্রধান মো. ইউনুস, পলিকেটনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক পরিষদের সভাপতি এসএম হুমায়ুন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অ্যাকাডেমিক) আলতাফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, মিডটার্মে ফেল এবং ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম-সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে গত ২ নভেম্বর সকালে অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়ে চাপ দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওইদিন দুপুরে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার পর টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়া হয়। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ ৫০ জনকে আসামি করে ওই রাতে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেন অধ্যক্ষ। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে। গত ৭ নভেস্বর কমিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রওনক মাহমুদের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। একইসঙ্গে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের কমিটি এবং তাদের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

SHARE