রাজশাহী জেলা আ.লীগের সম্মেলন ৪ ডিসেম্বর

138

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৪ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং ৩ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই দুইটি জেলার সম্মেলন সফল করতে জেলা নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এক্ষেত্রে সকল নেতা তাকে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেন। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্য দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। গতকালও দুই জন একে অপরকে দোষারোপ করে বক্তব্য রাখেন। রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিমের হস্তক্ষেপে শুক্রবার তাদের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে। এই দুই নেতাসহ রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা সম্মেলন সফল করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বর্তমান কমিটিই এ সম্মেলনের আয়োজন করবে। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে রাজশাহীর নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে আগামী ৩ মাসের মধ্যে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নের সম্মেলন করার ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এ ব্যাপারে রাসিক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং ৪ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আয়োজন করা হবে। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। আশা করছি উৎসব মুখর পরিবেশে সফলভাবে সম্মেলন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দায়িত্বের পরিবর্তন হবে, পূনর্বণ্টন হবে। এখান থেকে ওখানে যাবে। কেউ তো এক পদে সারাজীবন থাকবে না।
বিতর্কিত ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে কেউ বাদ যাবে না জানিয়ে কাদের বলেন, বিতর্কিতদের বাদ দেয়া হবে। বিতর্কিত ছাড়া কেউ বাদ যাবে না। আওয়ামী লীগে কেউ বাদ যায় না। বিতর্কিত ছাড়া কেউ বাদ যাবে না, দায়িত্বের পরিবর্তন হবে। এখান থেকে ওখানে যাবে। আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট অন্য সংগঠনগুলোর আসন্ন জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে সব তিক্ততার অবসান ঘটবে আশা প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে সব তিক্ততার অবসান ঘটবে। সম্মেলনের যে তারিখ ঘোষণা করা হবে, যে অনুযায়ী সম্মেলন করতে হবে। কাদা ছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে সে প্রতিযোগিতা হবে সুস্থ। অসুস্থ প্রতিযোগিতা কোনো অবস্থায় বরদাশত করা হবে না। এটি আমি নেত্রীর পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই। দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের পার্টিতে যারা আসছেন তারা সবাই অনুপ্রবেশকারী নয়। কারও বিরুদ্ধে যদি সাম্প্রদায়িকতার সংশ্লিষ্টতা না থাকে, কোনো প্রকার মামলা-মোকদ্দমা, কোনো প্রকার অপরাধের সংশ্লিষ্টতা না থাকে তারা অনুপ্রবেশকারী নয়। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে তাদের আওয়ামী লীগে জায়গা দেয়া হবে না। বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা দল ছাড়ছে-এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটা বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতির অনিবার্য পরিণতি।’ আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত অশুভ শক্তি এখনো চক্রান্ত করে যাচ্ছে। অতীতের মতো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাদের সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে। শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার মূল লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের লড়াই চলবে। চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত সকল ভেদাভেদ ভুলে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দফতর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য, রাজশাহী মহানগর সভাপতি ও রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই বরফ শীতল সম্পর্ক রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাতক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে। সম্প্রতি তারা অবস্থান নিয়েছেন দুই মেরুতে। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভেদ। পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে দুজনই রাজনীতির মাঠে ছড়াচ্ছেন উত্তাপ। এ নিয়ে শুক্রবার ওমর ফারুক চৌধুরী ও আসাদুজ্জামান আসাদকে দাঁড় করানো হয় কেন্দ্রের কাঠগড়ায়। সেখানে এ দুই নেতার বিরোধের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা হয়। জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন হয়। ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ হওয়ার পর ৬ ডিসেম্বর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সভাপতি-সম্পাদকের দ্বন্দ্বে ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবরের পর জেলা আওয়ামী লীগের আর কোনো সভা হয়নি। সম্প্রতি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ৬৬ নেতার মধ্যে সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ছাড়াই ৪১ জন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়। দাবি করেন বহিষ্কারেরও।

SHARE