গ্রেফতার আরো চার, অবস্থান কর্মসূচি পালিত

134

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদকে লাঞ্ছনার ঘটনায় আরো চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে নগরীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট নয়জনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ। তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। লাঞ্ছনার ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মেহেদী হাসান আশিক, মেহেদী হাসান হিরা, নবীউল উৎস ও নজরুল ইসলাম। তারা পলিটেকনিক ইন্সটিউটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী। নগরীর চন্দ্রিমা থানার ওসি শেখ মো গোলাম মোস্তফা বলেন, গ্রেফতারকৃতরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। সিসিটিভির ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের ধরতেও পুলিশ তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ঢাকা থেকে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে পৌঁছেন। গতকাল সকাল থেকেই তারা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পুকুরের পানির গভীরতাও পরিমাপ করেছেন। এছাড়া ইন্সটিউটের ১১১৯ নম্বর কক্ষে অবস্থিত ছাত্রলীগের টর্চার সেলও পরিদর্শন করেছেন। দুপুরে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব এসএম ফেরদৌস আলম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কয়েকটি ধাপ মেনে তদন্ত করেছি। তদন্তের স্পট পরিদর্শন করেছি, আক্রমণের ম্যানারটা জানার চেষ্টা করেছি, শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি, ভিকটিমের সাথে কথা বলেছি, রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের লোকদের সাথে কথা বলেছি, তাদের সেন্টিমেন্ট জানার চেষ্টা করেছি। আশা করছি ভালো একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো। তারপর মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, পুকুরের গভীরতা আমরা মেপে দেখেছি ১২ থেকে ১৫ ফিট গভীর। পুকুরের মাঝখানে গভীরতা আরো বেশি। সেখান থেকে বলা যায়, যদি অধ্যক্ষ সাঁতার না জানতেন তাহলে বিপজ্জনক কিছু বা প্রাণনাশের আশংকা ছিলো। এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো ছয় দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পলিটেকনিক ইন্সটিউটের শিক্ষার্থীরা। তবে আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো খুবই কম। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের নেতারা আন্দোলনকারীদের ফোনে ও ফেসবুকের মাধ্যমে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। যাতে কেউ এই আন্দোলনে আর অংশ না নেন। এই কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। এদিকে ছাত্রলীগ পলিটেক ইন্সটিটিউট শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটিও গতকাল সোমবার সকালে ইন্সটিটিউটে এসে শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছেন। তারা দাবি করেছেন, একমাত্র কামাল হোসেন সৌরভ ব্যতিত ছাত্রলীগের আর কোনো নেতাকর্মী হামলার সাথে জড়িত না। উল্লেখ্য, অনুপস্থিতির কারণে পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না দেয়ায় গত শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সামনে থেকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে অধ্যক্ষককে ক্যাম্পাসের ভেতরের পুকুরে ফেলে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে সাঁতার জানার কারণে তিনি রক্ষা পান।

SHARE