বিয়ে করার অপরাধে কলেজছাত্রীকে পেটাল এসআই

149

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় টাকার দাবিতে পুলিশের এক এসআই বেধড়ক পিটিয়েছে কলেজছাত্রী এক তরুণী বধূকে। আহত ওই ছাত্রী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। পিতা-মাতার অমতে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে সোমবার দুপুরে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মনিরা আকতার নামের ওই ছাত্রী জানান, তিনি সম্প্রতি গাবতলীর ফজিলা আজিজ মেমোরিয়াল টেকনিক্যাল কলেজে পড়াশোনাকালে একই উপজেলার সোনারায় ইউপির মধ্যখুপি গ্রামের ইমরান হোসেনের সাথে প্রেম হয়। এই প্রেমের সম্পর্ক মেনে নেয়নি মনিরার বাবা জাহিদুল ইসলাম। তিনি উল্টো তার প্রেমিক ইমরানের নামে গাবতলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের তদন্তভার পান গাবতলী থানার এসআই রিপন মিয়া। তিনি তদন্তকাজের অংশ হিসেবে ইমরান ও মনিরার সাথে সাক্ষাৎ করে প্রকৃত ঘটনা জানেন। এরপর বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে অভিযোগকারী মনিরার বাবা জাহিদুল ও প্রেমিক ইমরান দুজনের কাছ থেকে মাঝে-মাঝেই টাকা হাতিয়ে নিতে থাকেন।

একপর্যায়ে নভেম্বরের ১ তারিখে মনিরা ও ইমরান নিজেদের সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে ইমরানের গ্রামের বাড়িতে বসবাস শুরু করে তারা। খবরটি জানতে পেরে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিপন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রবিবার রাত ১০টার দিকে ইমরানের বাড়ি ঘেরাও করে। এরপর ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে নববিবাহিত দম্পতির ঘরে।

পরে এসআই রিপন মনিরার বাবার অভিযোগের তদন্তকারী হিসেবে কেন তাকে না জানিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করা হলো তা জানতে চান মনিরার কাছে। মনিরা কারণ জানালে, ক্ষুব্ধ হয়ে এসআই রিপন মিয়া বলেন, ঠিক আছে বিবাহ করেছিস ভালো কথা এখন ১০ হাজার টাকা দে। এই বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মনিরা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রিপন মিয়া আরো ক্ষুব্ধ হয়ে মনিরাকে চড় থাপ্পড় কিল ঘুষি মারতে শুরু করে। এর একপর্যায়ে মনিরাকে লাঠিপেটা করেন তিনি। এ সময় মনিরার স্বামী এমরান তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারপিট করা হয়।

একপর্যায়ে চিৎকার শুনে গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসলে এসআই রিপন মিয়া দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। মাঝরাতেই আহত অবস্থায় মনিরাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান।

সোমবার দুপুরে গাবতলী থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, এস আই রিপন মিয়া দোষি হলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। এসআই রিপন মিয়া জানান, আমি মারপিট করিনি। আমি অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। এর বাইরে কোনো কিছু নেই। বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সামসুজ্জামান বলেন, মনিরার শারীরিক আঘাত বেশ গুরুতর। তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

SHARE