নগরীতে জেল হত্যা দিবস পালিত

108

স্টাফ রিপোর্টার : যথাযোগ্য মর্যাদায় রাজশাহী মহানগরীতে পালিত হয়েছে জেল হত্যা দিবস। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহিদ চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে স্মরণ করেছে কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি। জেলহত্যা বাঙালির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক দিন। এই দিনে জাতীয় চারনেতাকে জেলখানায় গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যা করা হয়। এর ফলে বাঙালির অপূরণীয় ক্ষতি হয়। এটা একটা শোকের দিন। আমাদের এই শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। শোককে শক্তিতে পরিণত করার মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চারনেতার আদর্শ বাস্তবায়ন সম্ভব। আমরা চাই দ্রুত বিচারের রায় কার্যকর করা হোক। একই সাথে বক্তারা জেলা হত্যা দিবস রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পালনের দাবি জানান। গতকাল রোববার জেলহত্যা দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তারা এ কথা বলেন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনীতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে। বক্তারা আরো বলেন, একাত্তরের সেই প্রেতত্মারা এখনো আমাদেরই ভেতরে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে। যেকোনো মুহূর্তে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই আমাদের সজাগ থাকতে হবে। যাতে এই ধরনের কোনো শক্তি কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। নগর আওয়ামী লীগ : দিবসটি উপলক্ষে নগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিশাল শোক র‌্যালি, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন, শহিদ কামারুজ্জামানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পন, জাতীয় চার নেতার স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসের কর্মসূচিতে আরো ছিল মানবভোজ বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা ইত্যাদি। সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে শহিদ কামারুজ্জামান পরিবারের সদস্য নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্না এবং মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে রোববার সকাল সাড়ে নয়টায় কুমারপাড়াস্থ নগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়স্থ স্বাধীনতা চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পন করে মহানগর আওয়ামী লীগ। এরপর সেখানে অন্যান্য সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। এরপর সেখান থেকে বের করা হয় বিশাল শোক র‌্যালি। শোক র‌্যালিতে কারো হাতে ছিল বঙ্গবন্ধুর ছবি, কারো হাতে ছিল জাতীয় চার নেতার ছবি, আবার অনেকের হাতে ছিল কালো পতাকা। শোক র‌্যালিটি সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট হয়ে সোনাদিঘির মোড় ঘুরে কাদিরগঞ্জস্থ শহিদ কামারুজ্জামানের কবরের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর শহিদ কামারুজ্জামানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন মহানগর আওয়ামী লীগ। এছাড়া পুষ্পস্তবক অর্পন করে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. নওশের আলী, মাহ্ফুজুল আলম লোটন, মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, সৈয়দ শাহাদত হোসেন, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, নিঘাত পারভিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাক হোসেন, মো. রেজাউল ইসলাম বাবুল, নাঈমুল হুদা রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজাদ, অ্যাডভোকেট আসলাম সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, নগর যুবলীগ সভাপতি রমজান আলী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া শহিদ কামারুজ্জামানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পন করেছেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির পিপিএম, বিপিএম, জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুল সোবহানের নেতৃত্বে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন, উপাচার্য রফিকুল ইসলাম শেখের নেতৃত্বে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোকবুল হোসেনসহ রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবীসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনসাধারণ। এদিকে কাদিরগঞ্জে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। অন্যদিকে সকালে মহানগরের ১৪ নং ওয়ার্ড (পূর্ব) আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন মেয়র। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্না। জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন স্থানে মানবভোজ বিতরণ করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সন্তান সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। গতকাল দুপুরে নগরীর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কুমারপাড়া দলীয় কার্যালয়ে খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হুদা রানা, উপ-প্রচার সম্পাদক মীর ইশতিয়াক আহমেদ লিমন প্রমুখ। এছাড়া রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে গোরহাঙ্গা এলাকায় খাবার বিতরণ করেছেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। এছাড়া কাদিরগঞ্জ, আমবাগান ক্লাব ও উপশহর হাউজিং এটেস্ট মাঠে উপস্থিত থেকে মানবভোজ বিতরণ করেন মেয়র। রাজশাহী জেলা আ’লীগ: রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ বিভিন্ন আয়োজনে জেলহত্যা দিবস পালন করে। জেলহত্যা দিবস ৩ রা নভেম্বরের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ রাত ১২.১ মিনিটে জাতীয় নেতা শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে জাতীয় নেতা শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, জেলা আ’লীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিকলীগ, কৃষকলীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সকাল ৯ টায় লক্ষ্মীপুর মোড়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা অপর্ণের মাধ্যমে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। সকাল সাড়ে দশ টায় জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক জিনাতুন নেসা তালুকদার। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। বক্তব্যে তিনি বলেন, জেলহত্যা দিবসে জাতীয় চারনেতার অন্যতম রাজশাহীর কৃতি সন্তান শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান রাজশাহীর নেতা ছিলেন না। তিনি সমগ্র বাংলাদেশের নেতা ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তাদের মত মহান নেতাদের দলে এখন কিছু হাইব্রিড, ফ্রিডম পার্টি, বিএনপি, জামায়াত থেকে এসে নেতা হয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগ কর্মীদের শাসন করছে। তাদের আচার-ব্যবহার এমন যে আওয়ামী লীগের কর্মীরা দলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। দলকে তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বানিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জন করছে। তাদের জন্য আওয়ামী লীগের বয়োবৃদ্ধ, তরুণ এমনকি মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও লাঞ্ছিত হচ্ছে। দলে এই অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে তারাও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে হামলা মামলা পর্যন্ত করে চলেছে। প্রতিনিয়ত ভয়-ভীতি দিয়ে চলেছে। দলের সাংগঠনিক অবস্থা ভেঙ্গে ফেলেছে। এদের হাত থেকে এখনই সময় দলকে রক্ষা করা এবং এদের দল থেকে বের করে দেয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা উপলব্ধি করতে পেরে নিজেই এই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আছি এবং থাকব। তাদেরকে অতিদ্রুত দল থেকে বিতাড়িত করা হবে। আলোচনা সভা শেষে একটি বিশাল শোক র‌্যালি বের করা হয়। শোক র‌্যালিটি লক্ষ্মীপুর মোড় থেকে শুরু হয়ে সিএন্ডবি মোড় দিয়ে ফায়ারবিগ্রেড হয়ে ঘোষপাড়া ঘুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সামনে দিয়ে আবার লক্ষ¥ীপুর দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা সহ সকল শহিদদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম সম্পাদক মাওলানা সিরাত উদ্দিন শাহীন। দোয়া মাহফিল শেষে খাবার বিতরণ করা হয়। রাসিক : রাজশাহী সিটি কপোরেশনের উদ্যোগে ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে নগর ভবনের সিটি হল রুমের কক্ষে সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান এঁর স্মৃতিময় জীবনের ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর আগে সকালে রাজশাহী সিটি কপোরেশনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ নগর ভবন হতে শোক র‌্যালি বের করে শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরে ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায়। রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাওগাতুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, রাসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্যানেল মেয়র বাবু বলেন, ৩রা নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আজ জাতি চরম শ্রদ্ধাভরে এ দিনটিকে স্মরণ করছে। রাজশাহী সিটি কপোরেশনও নানা কর্মসূচি পালন করছে। সকালে শোক র‌্যালি, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান এঁর কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. আবুল কাশেম বলেন, আজ ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস। পচাঁত্তরের পনেরই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় এই দিনটি। পনেরই আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এর আগে এই চার জাতীয় নেতাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এ নির্মম ও বর্বরোচিত ঘটনার পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন দল সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হচ্ছে শোকাবহ এই দিবস। ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ড জেলহত্যার ৪৪ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো এই হত্যা মামলার রায় কার্যকর হয়নি। এই হত্যাকাণ্ডের রায় অতিদ্রুত কার্যকর করার দাবী আজও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই হত্যার বিচার করার মধ্যে দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে। আগামী প্রজন্মকে এ দেশের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর রজব আলী, সচিব আবু হায়াত রহমতুল্লাহ, প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক প্রমুখ। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম শেখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সেলিম হোসেন, পরিচালক ছাত্র কল্যাণ প্রফেসর ড. রবিউল আওয়াল, পরিকল্পনা ও উন্নয়নের পরিচালক প্রফেসর ড. মিয়া জগলুল সাদাত, পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ইকবাল মতিন, আর্কিটেকটার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জহুরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক ছাত্রকল্যাণ মামুনুর রশিদ প্রমুখ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জেল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটির স্মরণে সকাল ৮:১৫ মিনিটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরে উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান, উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর এমএ বারীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কমকর্তা ও বিশিষ্ট শিক্ষকগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুস্পস্তবক অর্পণের পর তারা শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। সেখানে অন্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর লায়লা আরজুমান বানু, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার, প্রক্টর প্রফেসর লুৎফর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী জেলা পরিষদ : যথাযোগ্য মর্যাদায় জেলহত্যা দিবস পালন করেছে রাজশাহী জেলা পরিষদ। দিবস পালন উপলক্ষ্যে গতকাল রোববার জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এছাড়া জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকাল ১০টায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারের সভাপতিত্বে তার নিজ কার্যালয়ে জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর তার সহচর চার নেতাকে কারাগারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বাঙালী জাতি শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আজ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে জাতীয় চার নেতাকে। সভা পরিচালনা করেন জেলা পরিষদের সদস্য আবুল ফজল প্রামানিক। অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, প্যানেল চেয়ারম্যান ৩ নার্গিস আক্তার, সদস্য আসাদুজ্জামান মাসুদ, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য জয়জয়ন্তী সরকার মালতি, কৃষ্ণা দেবী প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি রাজশাহী জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার। রেড ক্রিসেন্টের জেলা ইউনিট এতে সহায়তা করে। জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা পরিষদ পরিচালিত রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রক্তদান করেন। এরপর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারের নেতৃত্বে নগরীর কাদিরগঞ্জে জাতীয় নেতা শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। রাজশাহী কলেজ : বিভিন্ন আয়োজনে রাজশাহী কলেজে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল রোববার র‌্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। কলেজ ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. ইলিয়াসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল খালেক, আলোচনা করেন ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রফেসর আনিসুজ্জামান মানিক, বিশেষ অতিথি ছিলেন ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর পীযূষ কান্তি ঘোষ, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও রাজশাহী কলেজ ইতিহাস বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর তানভিরুল আলমসহ কলেজের বিভাগীয় প্রধানগণ ,শিক্ষক-শির্ক্ষাথীরা উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি: রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি বিভিন্ন আয়োজনে জেলহত্যা দিবস পালন করেছে। দিবস উপলক্ষে সকাল ১১ টায় চেম্বার ভবনে মাদ্রাসার ছাত্রদের কোরআন খতম করা হয়। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান’র নেতৃত্বে চেম্বার পরিচালনা পর্ষদ দুপুর ১২.৩০ মিনিটে শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান’র কবর জিয়ারত এবং পুস্প স্তবক অর্পন করে। দুপুর ১.৪৫ মিনিটে দোয়া মাহফিল এবং দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু, পরিচালকবৃন্দ ফরিদ উদ্দিন, শাহাদৎ হোসেন বাবু, তানজিলুর রহমান, শেখ রেজাউর রহমান দুলাল, রিয়াজ আহমেদ খান, এবিএম হাবিবুল্লাহ (ডলার), বজলুর রহমান, হারুন উর রশিদ, আব্দুল গাফফার, সুলতান মাহমুদ সুমন, আসাদুজ্জামান রবি, এসএম আইয়ুব, সাবেক পরিচালক আতিকুর রহমান, এম শরীফ, রাজশাহী উইমেন চেম্বার’র সভাপতি রোজেটি নাজনীন, ২০নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম, ওয়েব’র সভাপতি আঞ্জুমান আরা পারভীন লিপি, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরা মতিন জোনাকি এবং চেম্বার সচিব গোলাম জাকির হোসেন, সহকারী সচিব আব্দুল্লাহ আল ইয়াসিন সহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। রাকাব : রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) বিভিন্ন আয়োজনে জেলহত্যা দিবস পালন করেছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া অনষ্ঠিত হয়। শেষে র‌্যালি মধ্যে দিয়ে কাদিরগঞ্জে অবস্থিত জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান’র সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতিহা পাঠের আয়োজন করা হয়। এসম উপস্থিত ছিলেন প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তৌহিদা খাতুন, মহাব্যবস্থাপক (পরিচালন) মফিজুল হক, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় মহাব্যবস্থাপক আজিজুল ইসলাম সরকারসহ রাকাব প্রধান কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক, বিভাগীয় ও ইউনিট প্রধানগণ, বিভাগীয় কার্যালয়, বিভাগীয় নিরীক্ষা কার্যালয়, জোনাল কার্যালয়, জোনাল নিরীক্ষা কার্যালয়, রাজশাহী ও রাজশাহী জোনের আওতাধীন বিভিন্ন শাখার সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ, রাকাব কর্মচারী সংসদ (সিবিএ), রাকাব অফিসার্স এসোসিয়েশন এবং রাকাব অফিসার্স ফোরাম’র নেতৃবৃন্দ। পুষ্পার্ঘ অর্পণ শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানসহ জাতীয় চার নেতার বিদ্রোহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। এছাড়া বাদ আসর রাকাব প্রধান কার্যালয়ের মসজিদে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার বিদ্রোহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কলেজ : দিবসটি উপলক্ষে শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান সরকারি কলেজে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি উপস্থিত ছিলেন, সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি কলেজের শিক্ষকদের সাথে শহিদ কামারুজ্জামানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ: বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ’র উদ্দ্যোগে জাতীয় চার নেতার ৪৪ তম শাহাদৎ বার্ষিকী অর্থাৎ জেল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। দিনের কর্মসূচী হিসাবে সকাল ৯:১০ মিনিটে জাতীর চার নেতার অন্যতম শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান’র মাজারে পুষ্পার্ঘ অর্পন এবং বঙ্গবন্ধু ও শহিদ জাতীয় চার নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, রাজশাহী’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী লুৎফুর রহমান, সাধারন সম্পাদক, প্রকৌশলী আসিক রহমান, প্রকৌশলী নিজামুল হক সরকার, প্রকৌশলী মির্জা মোয়াতাসিম বিল্লাহ, প্রকৌশলী আব্দুল আলীম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। জেলা যুবলীগ : রাত ১২ টা কামারুজ্জামানের মাজারে ফুল দেওয়া হয় ও সকাল সাতটায় নগরীর লক্ষীপুর দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকালে শোক র‌্যালি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবলীগ সভাপতি আবু সালেহ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আজম সেন্টু, সহ-সভাপতি বেলাল হোসেন সরকার, মাহমুদ হাসান ফায়সাল প্রমুখ। বঙ্গবন্ধু পরিষদ : বঙ্গবন্ধু পরিষদ জেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা হয়। গতকাল রোববার বিকাল ৪টায় নগরীর আলুপট্টিস্থ নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কনফারেন্স রুমে সভা হয়। জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি রাবি’র সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল খালেকের সভািেপত্ব সভা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপিকা জিন্নাতুন নেছা তালুকদার, রাবি’র উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ নূরুল্লাহ্, ইঞ্জিনিয়ার নওশের আলী, অ্যাডভোকেট আসলাম সরকার, ডা. তবিবুর রহমান শেখ, প্রফেসর ড. হাসিবুল আলম প্রধান, অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল প্রমুখ। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ : বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের উদ্যোগে জেল হত্যা দিবস পালন করা হয়। সকাল সাড়ে নয়টায় শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান এর মাজারে পুষ্পার্ঘ অর্পন ও বঙ্গবন্ধু এবং শহিদ জাতীয় চার নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী লুৎফুর রহমান, সাধারন সম্পাদক, প্রকৌশলী আসিক রহমান, নিজামুল হক সরকার, মির্জা মোয়াতাসিম বিল্লাহ প্রমুখ। জেলা যুব মহিলা লীগ : শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুরস্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও শহীদ এইচএম কামারুজ্জামান হেনার মাজারে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপাশা খাতুন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেয়। এ সময় জেলা যুব মহিলা লীগ, উপজেলা ও পৌরসভা যুব মহিলা লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা সাংসদ : দিবসটি পালন করেছে জেলা ও নগর কমান্ড। মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তাবায়ন মঞ্চ, ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়ন গেরিলা বাহিনি, মুক্তিযুদ্ধ’৭১ ও মুক্তিযুদ্ধ সন্তান কমান্ড কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে। সকালে শহীদ কামারুজ্জামানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় নগর শ্রমিক লীগ : দিবসটি পালন করে শ্রমিক লীগ। সকালে সকালে শহীদ কামারুজ্জামানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নগর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোহেল, সহ-সভাপতি ওয়ালি খান, সাবেক নেতা এনামুল হক, আবু সেলিম, শামসুল হক প্রমুখ।
নেসকো বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারী: নেসকো বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারী লীগের আয়োজনে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার মাজার জিয়ারত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নেসকো পরিচালক (অর্থ প্রশাসন) সৈয়দ গোলাম আহমেদ, প্রকৌশলী খায়রুল আলম, রেজাউল করিম, প্রকল্প পরিচালক মখলেসুর রহমান, শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুস সোহেল প্রমুখ। রেলওয়ে শ্রমিক লীগ : দিবসটি উপলক্ষে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সমাজসেবী শাহিন আকতার রেণী। সভায় সভাপতিত্ব করেন, ওপেন লাইন শাখার সভাপতি জহুরুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, রেলওয়ে শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সভাপতি ওয়ালি খান, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মেহদী হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার আলী। পরিচালায় ছিলেন, রাজশাহী সদর দফতর শাখার সভাপতি মোতাহার হোসেন। জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন : দিবসটি উপলক্ষে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া করা হয়। এসময় ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলীসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

SHARE