অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার ঘটনায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

153

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে পুকুরে ফেলে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। শনিবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় অধ্যক্ষ নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ গোলাম মোস্তফা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন- কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভ, ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পঞ্চম পর্বের শিক্ষার্থী মুরাদ হোসেন, পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ছাত্র শান্ত, ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ছাত্র বনি, মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ছাত্র হাসিবুল ইসলাম শান্ত, ইলেক্ট্রো-মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ছাত্র সালমান টনি, একই বিভাগের সপ্তম পর্বের ছাত্র হাবিবুল ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ছাত্র মারুফ হোসেন।
ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, অধ্যক্ষ নিজে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শনিবার দুপুরে যোহরের নামাজ পড়ে নিজ কার্যালয়ে ফেরার সময় অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে টেনেহিঁচড়ে লাঞ্ছিত করে পুকুরে ফেলে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে আশেপাশে থাকা কর্মকর্তারা তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করেন। জানা যায়, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্লাসে উপস্থিত না থাকা ও মিডটার্ম পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মী নিয়ম অনুযায়ী ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছিলেন না। তারা অবৈধভাবে তাদেরকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দিতে অধ্যক্ষকে চাপ দেয়। অধ্যক্ষ তাতে রাজি না হওয়ায় তারা এ ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন বলেন, কারিগরি শিক্ষায় ৭৫ ভাগ ক্লাস না করলে এবং মিড টার্ম পরীক্ষায় অংশ না নিলে ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এতে সে কিছুই শিখেনি বলে প্রতীয়মান হয়। তাই আমি কোনোভাবে তাদের চাপে রাজি হয়নি। এ ব্যাপারে রাজশাহী পলিটেকনিক ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রিগেন বলেন, ‘অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগের ছেলেরা জড়িত কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি আমার খতিয়ে দেখছি। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এদিকে, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে টেনে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগের সেই নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে কেন্দ্রে সুপারিশেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার রাতে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ছাত্রলীগের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি সভায় রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। জরুরি সভায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশেরও সিদ্ধান্ত হয়। রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি রকি কুমার ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, ওই সভায় ঘটনাটি তদন্তের জন্য মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ কুমার রায়কে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। ওই সভায় অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভসহ ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীকে ইনস্টিটিউট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য কারিগরি বোর্ডের কাছে রবিবার অফিস সময়ে চিঠি পাঠানোর কথা রয়েছে।

SHARE