পুঠিয়ার ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবতের জীবন

100

স্টাফ রিপোর্টার, পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিভিন্ন এলাকায় গত দুই যুগে গড়ে উঠেছে প্রায় ৩০টি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেখানে মোটা অংকের অনুদানের মাধ্যমে চাকুরি নিতে গিয়ে অনেকেই হারিয়েছেন শেষ সম্ভবল ভিটে-মাটি। এমপিওর আশায় গত দেড়যুগেরও বেশী সময় ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনা বেতনে পাঠদান করাচ্ছেন। তারা দীর্ঘদিন থেকে বেতন না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কোনো আশার আলো দেখতে না পেয়ে ইতিমধ্যে বিলুপ্ত ঘটেছে এক ডজনেরও বেশী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত দেড়’যুগ পূর্বেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমপিও ছাড়া প্রায় ৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকায় ছিল। তার মধ্যে দীর্ঘদিন এমপিও ভূক্ত না হওয়ায় বেশীর ভাগ প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি ঘটেছে। বর্তমানে ৮টি নিন্ম মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫ টি দাখিল ও আলিম মাদ্রাসা, ২টি বিএম ও একটি মহিলা কলেজ তাদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন।

অপরদিকে সম্প্রতি নতুন করে এমপিওর তালিকায় নাম এসেছে চারটি প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে দুইটি বিএম কলেজ, একটি আলিম মাদ্রাসা ও অপর একটি বিদ্যালয় নিন্ম থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে রুপান্তর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ এমপিও না হওয়ার কারণ হিসাবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে দলীয় প্রতিহিংসার কথা উল্লেখ করছেন। এছাড়া অপরিকল্পিত ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠা, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পছন্দ মত সভাপতি নির্বাচনে ব্যর্থতাসহ নানা অভিযোগ করছেন।

ওই শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রথমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরি নিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মোটা অংকের টাকা দিতে হয়েছে। অনেকেই শেষ সম্বল বাড়ীর ভিটে বিক্রি ও ধারদেনা করে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন এই প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিও না হওয়ায় প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীগণ বিনা বেতনে বছরের পর বছর তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তারা এখনও আশায় বুক বেধে রয়েছেন একদিন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও হবে এবং বেতন-ভাতা পেয়ে সংসারের দুঃখের পর সুখের আলো আসবে।

বারইপাড়া নিন্ম মাধ্যমিক স্কুলের ইসলামী শিক্ষার শিক্ষক একরামুল হক বলেন, প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে প্রায় ২০ বছর যাবত উক্ত বিনা বেতনে চাকুরী করছি। আমাদের এখানে এসএসসি পর্যন্ত পাঠদান চালাচ্ছি। প্রতিবছর জেএসসি ও এসএসসিতে ছাত্র-ছাত্রীরা ভালো ফলাফল করছে। প্রতিষ্ঠানে এতো শ্রম দিয়েও আজ আমাদের ঘরে সময় মত চুলোও জ্বলছেনা। এখন অনেক শিক্ষকদের চাকুরীর বয়স পেরিয়ে গেছে। যার কারণে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানেও চাকুরি করতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল হক বলেন, বিভিন্ন এলাকায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা গুলোতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘ দিন থেকে বিনা বেতনে পাঠদান করাচ্ছেন। তারা খেয়ে না খেয়ে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন এটা আমার কাছেও অনেক খারাপ লাগে। বর্তমানে পাঠদান কার্যক্রম করছে প্রায় ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে এই উপজেলায় সম্প্রতি এমপিও-র তালিকায় নাম এসেছে চারটি প্রতিষ্ঠানের।

SHARE