রাবিতে বৃষ্টি হলেই ভোগান্তি

168

স্টাফ রিপোর্টার : সামান্য বৃষ্টিতেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টি হলেই ক্যাম্পাসের এই জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে রাস্তাঘাটের অসংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে অনুন্নত মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলেই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিকল্পনায় উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা যোগ করে শিগগিরই জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।
গত ২৪ এবং ২৫ অক্টোবর দিনরাত বৃষ্টিতে ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসময় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দীন একাডেমিক ভবনের সামনে, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে, টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন এলাকা, বিজ্ঞান ভবনগুলোর সম্মুখভাগে বৃষ্টির পানি জমে যায়। বঙ্গবন্ধু হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তার দুধারের ড্রেন ভর্তি হয়ে রাস্তায় পানি উঠে যায়। এছাড়া শহীদ হবিবুর রহমান হল এবং মাদার বখশ্ হলের সম্মুখ ভাগেও পানি জমে গেছে। শুধু তাই নয় চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণসহ এর আশেপাশের সড়কগুলোতেও পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুদিনের বৃষ্টিতেই নয়, ক্যাম্পাসে একটু বৃষ্টি হলেই ক্যাম্পাসের অধিকাংশ স্থানে এমন জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যাওয়া-আসায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এজন্য ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাটের সংস্কার জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃষ্টির সময়ে সব থেকে বড় সমস্যা এই জলাবদ্ধতা। এই সমস্যাটি দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। এতে করে ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারী সকলেই সমানভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর আগেও আমি প্রশাসনের সাথে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটু বৃষ্টিতেই ক্যাম্পাসের নর্দমাগুলোগুলোও পানিতে ডুবে যায়। ক্যাম্পাসের ভেতর আটকে থাকা পানি বের হবার পথ না থাকায় সৃষ্টি হয় তখন ওই পানি উপচে উঠে সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি করে। এরপর ক্যাম্পাসজুড়ে ভেসে বেড়ায় নর্দমাগুলোতে থাকা আবর্জনা। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে বিকট দুর্গন্ধ তৈরি হয়। যাতে টেকা দায় হয়ে পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, অপরিল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাই এই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী নিলাশা মিতু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আমাদের হলের সামনে পানি জমার কারণে ক্লাসে যেতে সমস্যা হয়। হলের সামনে ড্রেন থেকে পচা দুর্গন্ধ প্রতিনিয়তই ভেসে আসে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা। অন্যথায় জলাবদ্ধতার কারণে চর্ম রোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ দেখা দিবে।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানি ড্রেন থেকে উপচে রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় উপায়ান্তর না থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে এর মধ্য দিয়েই চলাচল করছেন।
এভাবে চলাচলের ফলে চর্ম-রোগসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. তবিবুর রহমান শেখ। তিনি বলেন, নোংরা পানি যখন মানুষের সংস্পর্শে আসে ঠিক তখনই বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের সৃষ্টি হয়। ক্যাম্পাসে যখন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় তখন বিভিন্ন সময় পানি পার হয়ে ক্লাসে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। এতে করে চর্মরোগ হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এছাড়াও যে কোন জলাবদ্ধতাই স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম কারণ।
তবে রাবি ক্যাম্পাসের এমন দৃশ্য নতুন নয়। এর আগে জলাবদ্ধতা ও অনুন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। জলাবদ্ধতার নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি ভাবছেন জানতে চাইলে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হতে পারে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না হওয়া। তবে এই ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য বড় পরিকল্পনা প্রয়োজন। যা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ^বিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যানে (মহাপরিকল্পনা) এখনও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়নি। এটি এখন পর্যন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানে সংযুক্ত করার পরই কেবল এর অগ্রগতি হবে।’
এ বিষয় জানতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়ার দফতরে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিকেল থেকে রাত সাড়ে আটটার পর্যন্ত মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

SHARE