তানোরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার কান্ড!

সাইদ সাজু, তানোর : রাজশাহীর তানোরে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোসাব্বির হোসেন আলিফ কে ন্যাংটা করে জুতার মালা গলায় পড়িয়ে ঘুরাতে চেয়েছেন তানিয়া নামের সহকারী শিক্ষিকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীর মা রুমি খাতুন বাদি হয়ে শিক্ষিকা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহীর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

গত ২৯ মে উপজেলার কলমা ইউনিয়ন (ইউপির) নড়িয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে এমন ঘটনাটি। এঘটনার পর থেকে লজ্জায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ওই ছাত্র। ফলে শিক্ষিকার এমন কান্ডে হতবাক অভিভাবক মহল। সেই সাথে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ। শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি তুলেছেন শিক্ষার্থীসহ অভিভাবক মহল।

অভিযোগে উল্লেখ, গত মাসের ২৯ তারিখ বুধবার সকালের দিকে উপজেলার কলমা ইউনিয়ন (ইউপির) নড়িয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলা অবস্থায় তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র মোসাব্বির হোসেন আলিফ কে সহকারী শিক্ষিকা তানিয়া খাতুন বলে তোকে ন্যাংটা করে জুতার মালা গলায় পরিয়ে বদনা কানের দুল বানিয়ে পুরো গ্রাম ঘুরানো হবে। একথা শোনার পর শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা উসকানি দিতেই থাকে। আলিফ বাধ্য হয়ে কান্না করতে করতে বাড়িতে গিয়ে তার মাসহ পরিবারকে এসব কথা বলে।

আরও পড়ুনঃ   নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২২ এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার

 

পরদিন বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীর মাসহ পরিবারের লোকজন স্কুলে এলে প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি নিয়ে অনুতপ্ত হয়ে মিমাংসা করে দেন। কিন্তু সহকারী শিক্ষিকার স্বামী মাদারিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তোহিদুর রহমান মুকুল ওই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছাত্রসহ তার মাকে অকাথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন।
ছাত্রের মা রুমি খাতুব বলেন, ছাত্ররা ছোট আর শিক্ষিকা মায়ের মত। তারাই যদি শিক্ষার্থীকে এধরণের কথাবার্তা বলে তাহলে কি শিক্ষা দিবে। ওই শিক্ষিকার কারনে এর আগেও কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। শিক্ষিকার বাড়িও নড়িয়াল গ্রামে একারনে এমন দাপট দেখায়।

আরও পড়ুনঃ   নিউ রাজশাহী স্কয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক ছাড়ায় ভুয়া সনদ, নিয়ন্ত্রণে রামেক ব্রাদার মিজান

অভিযুক্ত শিক্ষিকা তানিয়া খাতুনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার কথা কি বিশ্বাস করবেন, পরে কথা বলছি বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নড়িয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মিমাংসা করে দিয়েছিলাম, শিক্ষিকাও ভূল স্বীকার করেছিল। কিন্তু তার স্বামী বেশি বাড়াবাড়ি করার কারনে এসব হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।