বাঘায় তাপদাহে বাড়ছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি!শিশু ও বৃদ্ধরা ঝুঁকিতে

মোহা: আসলাম আলী, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাঘায় তাপদাহে বাড়ছে ডায়রিয়া-সহ বিভিন্ন রোগব্যাধি। তবে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অতি খরতাপমাত্রার কারণে বাড়ছে বিভিন্ন রোগব্যাধি। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শিশু ও বৃদ্ধরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এতে ডায়রিয়া,বমি,জ্বর ও গলা ব্যথাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। শিশু ও বৃদ্ধদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।

চিকিৎসকরা বলছেন,গরম বৃদ্ধি পাওয়ার করনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
তারা জানান,গরমের এ সময়টাতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। খাদ্য তালিকায় থাকা দরকার সুষম খাবারসহ পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন‘সি’জাতীয় খাবার ও রসালো ফল। এ সময় সুস্থ থাকতে খেতে হবে মৌসুমি ফল,শাকসবজি ও প্রচুর পরিমাণে পানি। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুনঃ   নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ১৪ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ বেসরকারি হাসপাতাল এবং রোগ নিরাময় কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে,গরমে নানা রোগ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা,জ্বর,ঠান্ডা,কাশি, নিউমোনিয়া,বমি,পেটব্যথা,গলাব্যথা ও এলার্জিজনিত রোগসহ নানা ধরনের সমস্যা সমস্যা। অধিকাংশ রোগীকেই চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। খুব কমসংখ্যক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাঘা পৌরসভার বানিয়া পাড়ার মুনছুর আলী বলেন,গরমে পাটের জমিতে নিড়ানির সময় বমি শুরু হয়,সাথে পেটব্যথা। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা নিয়েছি। উপজেলার গড়গরি ইউনিয়নের সিমুলতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন,আমার সাত বছরের শিশু তাইসা গত কয়দিন ধরে পাতলা পায়খানাজনিত সমস্যায় ভুগছিল। বাড়ির পাশের ওষুধ দোকান থেকে ঔষধ নিয়ে খাইয়েছিলাম। তেমন কোনো উন্নতি না দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি। চার বছর বয়সী ইউসুফ এর বাড়ি বাজু বাঘা ইউনিয়নের মোল্লা পাড়া গ্রামে।

আরও পড়ুনঃ   রাজশাহী অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

শিশুটির মা সাদিয়া আক্তার জানান,ইউসুফ এর গত কয়েক দিন ধরে হালকা জ্বর ছিল। এরমধ্যে তার ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। এ জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান বলেন,এই গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি সকল বয়সী মানুষের ঠাণ্ডা,সর্দি-কাশি,জ্বর হতে পারে। এ ছাড়া পেট খারাপ,কলেরা, আমাশয়,ডায়রিয়,নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় অতিরিক্ত গরমের তীব্রতায় হিটস্ট্রোক হতে পারে। এক্ষেত্রে একটু পর পর পানি ও ওরস্যালাইন খাওয়া পরামর্শ দেন তিনি। প্রস্রাবের রঙ ও পরিমাণের দিকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রস্রাবের রঙ বদলের পাশাপাশি পরিমাণ কমে গেলে পানিসহ তরলজাতীয় খাবারের পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ-সহ এবং প্রত্যেককে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।