স্কুলশিক্ষককে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

অনলাইন ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরে মলম পার্টি অপবাদ দিয়ে স্কুলশিক্ষক আক্তার হোসেন বাবুকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে পেটানোর ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে তাদেরকে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শহীদ আলম, সাইমন হোসেন ও তার ভাই শ্রাবন। শহীদ আলম লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল মান্নানের ছেলে, সাইমন হোসেন ও শ্রাবন একই এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, রোববার রাতে ভুক্তভোগী বাবুর ভাই মাসুদুর রহমান মাসুদ বাদী হয়ে সুমন ওরফে পেঁচা সুমনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। রাতেই পৌর শহরের সমসেরাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুনঃ   অধ্যক্ষের ছেলের বিয়ে খেতে দিতে হবে ৫০০ টাকা

জানা গেছে, শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আইয়ুব আলীর পুল এলাকায় শিক্ষক বাবুর মলম পার্টি অপবাদ দিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি সদর হাসপাতালে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাবু লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের লাহারকান্দি এলাকার মৃত লকিয়ত উল্যাহর ছেলে ও ঢাকার ক্যামব্রিজ স্কলারর্স স্কুলের শিক্ষক।

স্কুলশিক্ষকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে বাবু বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর আইয়ুব আলীর পুল এলাকায় তিনি ছোট ভাই মাসুদের বাড়িতে দাওয়াতে যান। সেখান থেকে আসার পথে পেঁচা সুমন, সাইমন হোসেন, অটোরিকশা চালক আলাউদ্দিন আলো, মমিন উল্যাহ ও শ্রাবনসহ কয়েকজন তাকে মলম পার্টি অপবাদ দিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইলফোন নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে তাকে জনসম্মুখে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

আরও পড়ুনঃ   তানোরে শিশুকে বলাৎকারের ভিডিও ভাইরাল, আত্মগোপনে যুবলীগ নেতা

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, শিক্ষককে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।