গাজায় ত্রাণ প্রবেশের নতুন রুট খোলার ঘোষণা ইসরায়েলের

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গাজায় ত্রাণ সরবারের নতুন রুট ঘোষণা করেছে ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। এক বিবৃতিতে মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, এখন থেকে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে ত্রাণপণ্য খালাস করা হবে এবং ইরেজ সীমান্ত দিয়ে গাজায় পাঠানো হবে ত্রাণ।

সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় আন্তর্জাতিক খাদ্য সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের ৭ জন স্বেচ্ছাসেবী নিহত হয়েছেন। এই স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ছিলেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহিতা চাইলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি ইচ্ছাকৃত হামলা ছিল না, তবে যুদ্ধে এমন হয়েই থাকে।’

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য ক্ষোভকে আরও উসকে দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে ৩০ মিনিট কথা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। সেই ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যদি গাজায় বেসামরিক ফিলিস্তিনি হত্যা বন্ধ এবং ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশে বাধা তুলে নিতে শিগগির কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয় ইসরায়েলের সরকার, তাহলে ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন নীতি পরিবর্তন করা হবে।

আরও পড়ুনঃ   গাজায় গণকবরের বিষয়ে ইসরায়েলের কাছে ‘জবাব’ চেয়েছে হোয়াইট হাউস

সেই ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাঝরাতে এক বিবৃতি জারি করে গাজায় ত্রাণ সরবরাহের নতুন এই রুটের ঘোষণা দেয় ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। তবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই রুট ‘অস্থায়ী’।

ইসরায়েলের সরকার এই বিবৃতি জারির অল্প সময়ের মধ্যে পাল্টা এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে ধন্যবাদ। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন হবে।’

গত ৭ অক্টোবর গাজার ইরেজ সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় ১ হাজার হামাস যোদ্ধা। তারপর সেখানে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যা করে ১ হাজার ২০০ জন মানুষকে, পাশপাশি জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় ২৪২ জনকে।

আরও পড়ুনঃ   যুদ্ধে ইউক্রেন ৪১০ সৈন্য হারিয়েছে: রাশিয়া

অভূতপূর্ব সেই হামলার পর সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। সেই অভিযানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৫ হাজার। সেই সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে গত কয়েক মাস ধরে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে আসছে; কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের আগ পর্যন্ত এই যুদ্ধ থামবে না।