৩২ লাখ টাকা চুরি, পালানোর সময় প্রেমিকাসহ গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক : ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে প্রেমিকাসহ এক দোকান কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি করা ৩১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করে ডিবি লালবাগ বিভাগ।

গ্রেপ্তার দোকান কর্মচারীর নাম সাঈদ আহমেদ, আর তার প্রেমিকার নাম মোসা. রিতা।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) ডিবি লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, কোতয়ালী থানাধীন ইসলামপুরে নাশওয়ান ফ্যাশন নামে কাপড় বিক্রির একটি দোকানে বিশ্বস্ততা, অভিজ্ঞতা এবং সততা দেখিয়ে ২০২২ সালে চাকরি নেয় সাঈদ আহমেদ। সে একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম। আগে তার নাম ছিল প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। বাড়ি গাইবান্ধার সদর থানায়। ইতঃপূর্বে চাকরি করেছে রংপুরের বিভিন্ন কাপড়ের দোকানে। ঘরে প্রথম স্ত্রী বাইতুন্নেছা লতা, দ্বিতীয় স্ত্রী বিউটি আক্তার।

আরও পড়ুনঃ   চট্টগ্রামে ডাস্টবিনে পড়ে ছিল গর্ভপাতের দুটি মানব ভ্রূণ

মশিউর রহমান বলেন, গত শুক্রবার ও শনিবারে কাপড় বিক্রির প্রায় ৩২ লাখ টাকা জমা ছিল দোকানের লকারে। রোববার সকালে সাঈদ আরেক কর্মচারীকে নিয়ে কাছাকাছি ঢাকা ব্যাংকে যায় টাকা জমা দিতে। পথে কর্মচারীকে দোকানে ফেরত পাঠিয়ে একাই প্রবেশ করে ব্যাংকে। ব্যাংকের মধ্যে কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে চলে যায় সোজা প্রেমিকার কাছে গাজীপুরে। সেখান থেকে প্রেমিকাকে নিয়ে যায় নরসিংদী, তারপর বগুড়া।

বগুড়ায় অনেক কেনাকাটা করে সেখান থেকে যায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধার তেঁতুলিয়ায়। আনন্দ ফুর্তি করে দুই হাতে খরচ করতে থাকে টাকা। সেখান থেকে যায় প্রেমিকার বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে। গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনাল টিম সোমবার সেখানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে সাঈদ এবং তার প্রেমিকা রিতাকে।

আরও পড়ুনঃ   নগরীতে ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার; গ্রেপ্তার ২

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাঙ্ক ও মাটিতে গর্ত করে লুকিয়ে রাখা ৩১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয় তাদের কাছ থেকে। গ্রেপ্তার সাঈদ জানায়, প্রেমিকাকে বিয়ে করে ঘুরে বেড়ানোর জন্যই সে টাকা চুরি করেছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে এই ভয়ে সে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সেখান দিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়ে যশোর দিয়ে যাওয়ার পথে ফরিদপুরে গ্রেপ্তার হয় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার রিতার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানা এলাকায়। বিবাহিতা হলেও বর্তমানে সে আলাদা থাকে। নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করে। সাঈদ ও রিতা পরস্পর যোগসাজশে চুরির পরিকল্পনা করে এবং তাকে বিয়ে করতেই সাঈদ এই টাকা চুরি করে।