ঝলমলে তানজীদ-রিশাদ, সিরিজ জয় বাংলাদেশের

অনলাইন ডেস্ক : বোলাররা জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল প্রথম ইনিংসেই। ব্যাটিংয়ে সৌম্যর পরিবর্তে কনকাশন সাব হয়ে নামা তানজীদ ফিফটিতে সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতনে লক্ষ্য কঠিন হতে থাকে একটা সময়ে।

শেষ মুহূর্তে রিশাদ হোসেন ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন। চার-ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতান খুব সহজে। তাতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। যা বাংলাদেশের ৩৫তম ওয়ানডে সিরিজ জয়।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০২১ সালে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে সেটিই ছিল প্রথম সিরিজ জয়। তিন বছর পর সাফল্যের খাতায় আরেকটি পালক যুক্ত হলো। ৪ উইকেটে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে তৃতীয় ওয়ানডেতে।

দিনের ম্যাচে টস ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কা টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও বাংলাদেশ আগে ফিল্ডিং করতে চেয়েছিল। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় ২৩৫ রানে। তবে এই ইনিংস সব আলো কেড়ে নেন জানিথ লিয়ানাগে। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছয় নম্বরে নেমে দলকে খাদের কিনারা থেকে দলকে তুলে এনে দেন লড়াকু সংগ্রহ। ১০১ রান করে সেঞ্চুরির খাতা খোলেন। তাতে মনে হচ্ছিল শ্রীলঙ্কা লড়াই করতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ   মিরপুরে তামিম-শান্তর লম্বা আলোচনা

কিন্তু ওপেনিংয়ে সৌম্যর কনকাশন হিসেবে নামা তানজিদ শুরুতেই তাদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেন। ৮১ বলে ৮৪ রান করেন ৯ চার ও ৪ ছক্কায়। কিন্তু তার ফেরার পর ম্যাচে রোমাঞ্চ ছড়ায়। তাওহীদ, মিরাজ, মাহমুদউল্লাহরা আউট হওয়ায় চাপে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু রিশাদ ক্রিজে আসার পর সব হিসেব ওলটপালট করে দেন। মাত্র ১৮ বলে ৪৮ রান করেন ২৬৬.৬৬ স্ট্রাইক রেটে। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় মাঠ মাতিয়ে দলের জয়ের পথ মসৃণ করেন।

বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ফিফটির সুযোগ ছিল তার। কিন্তু উইনিং শট মুশফিকের থেকে আসায় রিশাদের আর স্ট্রাইকে যাওয়া হয়নি। টি-টোয়েন্টিতেও তার এমন ধ্বংসাত্মক ইনিংস ছিল। ৩০ বলে ৫৩ রান করেছিলেন ৭ ছক্কায়। এবার ওয়ানডেতেও শেষ দিকে নেমে নিজের ব্যাটিং কারিশমা দেখালেন। বোলিংয়ে ১ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলায় তার হাতেই গেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। আর সিরিজে ১৬৩ রান করে সিরিজ সেরা নাজমুল হোসেন শান্ত।

প্রথম ইনিংসের শেষ প্রান্তে বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটার চোটে পড়েন। প্রথমে মোস্তাফিজুর রহমান পায়ে টান পড়ায় নিজের স্পেল শেষ করতে পারেননি। পরে সীমানায় ফিল্ডিংয়ের সময় সৌম্য সরকার ব্যথা পেয়ে ছেড়েছেন মাঠ। ইনিংসের শেষ ওভারে ক্যাচ নিয়ে গিয়ে এনামুল হক বিজয় ও জাকের আলীর সংঘর্ষ! বুকে ব্যথা পেয়ে জাকের স্ট্রাচারে করে ছাড়েন মাঠ। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এমন ‘হ-য-ব-র-ল’ দিনে শ্রীলঙ্কার জানিথ লিয়ানাগে দ্যুতি ছড়ান।

আরও পড়ুনঃ   সল্টের ‘কালবৈশাখী ঝড়ে’ নববর্ষ বরণ কলকাতার

ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা লিয়ানাগে ১০২ বলে ১০১ রান করেন ১১ চার ও ২ ছক্কায়। তার ইনিংসটি কেন আলাদা, কেন চাকচিক্যময় তা বুঝিয়ে দেবে এই পরিসংখ্যান। লঙ্কান অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস যখন ড্রেসিংরুমে ফেরেন তখন দলের রান ৪ উইকেটে ৭৪। সেখান থেকে পঞ্চম উইকেটে আসালাঙ্কার সঙ্গে তার জুটি ৪৩ রান। স্কোর ৫ উইকেটে ১১৭। ওই অবস্থান থেকে শ্রীলঙ্কা ১১৮ রান পায়, যার ৮২ রান একাই করেন লিয়ানাগে। বাংলাদেশ অবশ্য খারাপ করেনি। একমাত্র লিয়ানাগে বাদে শ্রীলঙ্কার সব ব্যাটসম্যানকেই খাবি খাইয়েছে।

নতুন বলে তাসকিন আহমেদ দুই ওপেনারের উইকেট তুলে নেন পরপর দুই ওভারে। মোস্তাফিজ তানজিমের পরিবর্তে সুযোগ পেয়ে নতুন বলে উইকেট নেওয়ার পর শেষদিকে এসেও সাফল্য পেয়েছেন। রিশাদ হোসেনও উইকেট নিয়ে রেখেছেন অবদান। শেষমেশ তার ব্যাটেই বিজয়ের পতাকা উড়ায় বাংলাদেশ।