রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্কুল খোলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪ ৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। রোববার ভোর ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি এবারের শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগের দিন শনিবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার পর্যন্ত এটিও ছিল মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

রাজশাহীতে প্রতিদিনই তাপমাত্রা কমলেও খোলা রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। গত ১৬ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউসি) কোন জেলার দিনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস দেখে মাউসির উপপরিচালকেরা দিনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে না উঠা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেবেন বলেও ওই চিঠিতে মাউশি জানিয়ে দেয়।

এই নির্দেশনা পাওয়ার পর গত ২১ ও ২২ জানুয়ারি রাজশাহীর মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী। এছাড়া রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের নির্দেশনায় ২১, ২২ ও ২৩ জানুয়ারি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও বন্ধ রাখা হয়।

স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ থেকে ২৬ জানুয়ারি রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ১০ ডিগ্রি, ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ৯ ডিগ্রি, ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন রোববার (২৮) জানুয়ারি তা ৭ ডিগ্রিতে নামে।

এমন তাপমাত্রাতেও স্কুল খোলা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে তাপমাত্রা একটু কম থাকলেও বেলা ১২টার মধ্যে বেড়ে যাচ্ছে। আকাশে রোদ আছে, সমস্যা হবে না। সে কারণে স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘স্কুল তো খোলে সকাল ১০টায়। আর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ভোর ৬টায়। এরমধ্যে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। যেসব সরকারী স্কুলে একাধিক শিফট আছে, তাদেরও সকাল ১০টায় ক্লাস শুরু করতে বলা হয়েছে। মাউশির উপপরিচালকের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা এভাবে স্কুল খোলা রাখছি।’

মাউশির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, শীতের কারণে স্কুল বন্ধ নিয়ে মাউশির নতুন কোন নির্দেশনা আসেনি। তবে আগের চিঠি মোতাবেকই স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে। ওই চিঠিতে লেখা আছে “দিনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে স্কুল বন্ধ রাখতে হবে।” দিনের বেলা তো রাজশাহীর তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে থাকে না। শুধু ভোরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘ভোরে তাপমাত্রা একটু কম থাকলেও সারাদিন কোন সমস্যা হচ্ছে না। রোদ উঠে যাচ্ছে। তাপমাত্রাও বেড়ে যাচ্ছে। তাই এতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার কোন কারণ নেই। সে কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, ‘দুইদিন ধরে রাজশাহীর ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর আগে ছিল মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আজ (রোববার) সকালে বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। তাই শীত অনুভূত হচ্ছিল বেশি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্কুল খোলা

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। রোববার ভোর ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি এবারের শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগের দিন শনিবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার পর্যন্ত এটিও ছিল মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

রাজশাহীতে প্রতিদিনই তাপমাত্রা কমলেও খোলা রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। গত ১৬ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউসি) কোন জেলার দিনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস দেখে মাউসির উপপরিচালকেরা দিনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে না উঠা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেবেন বলেও ওই চিঠিতে মাউশি জানিয়ে দেয়।

এই নির্দেশনা পাওয়ার পর গত ২১ ও ২২ জানুয়ারি রাজশাহীর মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী। এছাড়া রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের নির্দেশনায় ২১, ২২ ও ২৩ জানুয়ারি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও বন্ধ রাখা হয়।

স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ থেকে ২৬ জানুয়ারি রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি, ১০ ডিগ্রি, ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ৯ ডিগ্রি, ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন রোববার (২৮) জানুয়ারি তা ৭ ডিগ্রিতে নামে।

এমন তাপমাত্রাতেও স্কুল খোলা রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে তাপমাত্রা একটু কম থাকলেও বেলা ১২টার মধ্যে বেড়ে যাচ্ছে। আকাশে রোদ আছে, সমস্যা হবে না। সে কারণে স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘স্কুল তো খোলে সকাল ১০টায়। আর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ভোর ৬টায়। এরমধ্যে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। যেসব সরকারী স্কুলে একাধিক শিফট আছে, তাদেরও সকাল ১০টায় ক্লাস শুরু করতে বলা হয়েছে। মাউশির উপপরিচালকের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা এভাবে স্কুল খোলা রাখছি।’

মাউশির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, শীতের কারণে স্কুল বন্ধ নিয়ে মাউশির নতুন কোন নির্দেশনা আসেনি। তবে আগের চিঠি মোতাবেকই স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে। ওই চিঠিতে লেখা আছে “দিনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে স্কুল বন্ধ রাখতে হবে।” দিনের বেলা তো রাজশাহীর তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে থাকে না। শুধু ভোরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘ভোরে তাপমাত্রা একটু কম থাকলেও সারাদিন কোন সমস্যা হচ্ছে না। রোদ উঠে যাচ্ছে। তাপমাত্রাও বেড়ে যাচ্ছে। তাই এতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার কোন কারণ নেই। সে কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, ‘দুইদিন ধরে রাজশাহীর ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর আগে ছিল মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আজ (রোববার) সকালে বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। তাই শীত অনুভূত হচ্ছিল বেশি।’