‘মোনালিসা’ চিত্রকর্মে স্যুপ ছুড়ে প্রতিবাদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসায় স্যুপ নিক্ষেপ করেছেন প্রতিবাদকারীরা।

তবে বুলেটপ্রুফ গ্লাসে ঢাকা থাকায় এই চিত্রকর্মের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ষোড়শ শতকের এই চিত্রকর্ম বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর একটি। প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে চিত্রকর্মটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টি-শার্ট পরা দুই নারী বিক্ষোভকারী চিত্রকর্মটিতে স্যুপ ছুড়ে মারছেন।

স্যুপ ছুড়ে মারার পর মোনালিসার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন তারা। এ সময় তারা ‘‘আমাদের কৃষি ব্যবস্থা অসুস্থ’’, ‘‘স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই খাবারের অধিকার’’ চাই বলে দাবি জানান।

পরে মিউজিয়ামের নিরাপত্তা কর্মীরা বিক্ষোভকারীদের সামনে কালো কাপড়ের পর্দা টানিয়ে দেন এবং চিত্রকর্মটি যে কক্ষে রয়েছে, সেটি থেকে লোকজনকে বের করে দেন।

ফ্রান্সের রাজধানীতে গত কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন দেশটির শত শত কৃষক। ক্রমবর্ধমান জ্বালানির ব্যয় বন্ধ এবং কৃষি আইন শিথিল করার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা। গত শুক্রবার প্যারিস এবং এর উপকণ্ঠের প্রধান প্রধান রাস্তাগুলোতে যান চলাচলে বাধা দেন কৃষকরা।

এর আগে, ১৯৫০ এর দশকের শুরুর দিকে ল্যুভর মিউজিয়ামে আসা এক দর্শনার্থী মোনালিসা চিত্রকর্মে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেছিলেন। এই ঘটনার পরপরই চিত্রকর্মটি কাঁচ দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়।

পরে ২০১৯ সালে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা চিত্রকর্মটি রক্ষায় আরও বেশি স্বচ্ছ বুলেটপ্রুফ গ্লাস স্থাপন করেছে। ২০২২ সালে এক পরিবেশ আন্দোলনকারী ল্যুভরে সংরক্ষিত বিখ্যাত এই চিত্রকর্মে কেক নিক্ষেপ করেন। এ সময় তিনি ‘‘ধরিত্রীর কথা ভাবতে’’ বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

১৯১১ সালে ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে চুরি যায় মোনালিসা চিত্রকর্ম। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পর্যটক ল্যুভর মিউজিয়াম পরিদর্শন করেছেন। আর মিউজিয়ামেরই কর্মচারী ভিনসেনজো পেরুগিয়া ওই সময় রাতারাতি চিত্রকর্মটি একটি আলমারিতে লুকিয়ে রাখেন।

দুই বছর পর ইতালির ফ্লোরেন্সের একজন প্রাচীন জিনিসপত্রের ডিলারের কাছে চিত্রকর্মটি বিক্রির চেষ্টা করেন ভিনসেনজো। সেই সময় এটা উদ্ধার করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘মোনালিসা’ চিত্রকর্মে স্যুপ ছুড়ে প্রতিবাদ

আপডেট সময় : ১২:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪

অনলাইন ডেস্ক : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসায় স্যুপ নিক্ষেপ করেছেন প্রতিবাদকারীরা।

তবে বুলেটপ্রুফ গ্লাসে ঢাকা থাকায় এই চিত্রকর্মের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ষোড়শ শতকের এই চিত্রকর্ম বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর একটি। প্যারিসের ল্যুভর মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে চিত্রকর্মটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টি-শার্ট পরা দুই নারী বিক্ষোভকারী চিত্রকর্মটিতে স্যুপ ছুড়ে মারছেন।

স্যুপ ছুড়ে মারার পর মোনালিসার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন তারা। এ সময় তারা ‘‘আমাদের কৃষি ব্যবস্থা অসুস্থ’’, ‘‘স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই খাবারের অধিকার’’ চাই বলে দাবি জানান।

পরে মিউজিয়ামের নিরাপত্তা কর্মীরা বিক্ষোভকারীদের সামনে কালো কাপড়ের পর্দা টানিয়ে দেন এবং চিত্রকর্মটি যে কক্ষে রয়েছে, সেটি থেকে লোকজনকে বের করে দেন।

ফ্রান্সের রাজধানীতে গত কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন দেশটির শত শত কৃষক। ক্রমবর্ধমান জ্বালানির ব্যয় বন্ধ এবং কৃষি আইন শিথিল করার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা। গত শুক্রবার প্যারিস এবং এর উপকণ্ঠের প্রধান প্রধান রাস্তাগুলোতে যান চলাচলে বাধা দেন কৃষকরা।

এর আগে, ১৯৫০ এর দশকের শুরুর দিকে ল্যুভর মিউজিয়ামে আসা এক দর্শনার্থী মোনালিসা চিত্রকর্মে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেছিলেন। এই ঘটনার পরপরই চিত্রকর্মটি কাঁচ দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়।

পরে ২০১৯ সালে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা চিত্রকর্মটি রক্ষায় আরও বেশি স্বচ্ছ বুলেটপ্রুফ গ্লাস স্থাপন করেছে। ২০২২ সালে এক পরিবেশ আন্দোলনকারী ল্যুভরে সংরক্ষিত বিখ্যাত এই চিত্রকর্মে কেক নিক্ষেপ করেন। এ সময় তিনি ‘‘ধরিত্রীর কথা ভাবতে’’ বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

১৯১১ সালে ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে চুরি যায় মোনালিসা চিত্রকর্ম। এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পর্যটক ল্যুভর মিউজিয়াম পরিদর্শন করেছেন। আর মিউজিয়ামেরই কর্মচারী ভিনসেনজো পেরুগিয়া ওই সময় রাতারাতি চিত্রকর্মটি একটি আলমারিতে লুকিয়ে রাখেন।

দুই বছর পর ইতালির ফ্লোরেন্সের একজন প্রাচীন জিনিসপত্রের ডিলারের কাছে চিত্রকর্মটি বিক্রির চেষ্টা করেন ভিনসেনজো। সেই সময় এটা উদ্ধার করা হয়।