নগরীতে মামলাবাজের হাত থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয়দের মানববন্ধন

  • আপডেট সময় : ০১:১৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪ ২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৯ নং ওয়ার্ডের সাতবাড়িয়া এলাকার এক মামলাবাজ ব্যক্তির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা। সামান্য ৫০ ফিট রাস্তাকে কেন্দ্র একের পর এক স্থানীয় লোকজনদের উপর হামলা, মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব মামলা ও হামলার প্রতিবাদে স্থানীরা সাবান নামে ওই ব্যক্তির বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে এলাকার স্থানীয় প্রায় দেড় শতাধিক নারী পুরুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, সাতবাড়িয়া এলাকার সাবান উদ্দিন একটি ছোট রাস্তাকে কেন্দ্র করে এলাকার প্রায় অধিকাংশ লোকজনের বিরুদ্ধে কারণে অকারেণ মামলা দায়ের করেছেন। এ যাবৎ তার মামলার শিকার হয়েছেন যুবক বৃদ্ধসহ অনেকেই। তিনি বলেন, সাবান উদ্দিনের বাসার দক্ষিন পাশ দিয়ে ছোট একটি রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটি দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকার লোকজন হাটাচলা করেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাস্তাটি সংস্কার করতে গেলে সাবান উদ্দিন ওই রাস্তার জমি তার দাবি করে বন্ধ করে দেন। পরে সার্ভেয়ার দিয়ে রাস্তাটির মাপা হয়। তার দাবির প্রেক্ষিতে তিনি যতটুকু জায়গা পাবেন সেই জায়গা ছেড়ে দিয়ে রাস্তাটি করা হয়।

যদিও রাস্তাটির পুর্ব থেকে পশ্চিম পাশের মাথা পর্যন্ত মাত্র ২৫ ফিটের মত কাজ শেষ করেই রাসিক কাজ সমাপ্ত করেছে। তিনি বলেন রাস্তার শেষের মাথায় প্রায় ৮ থেকে ১০ টি বাড়ি রয়েছে। যারা ওই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। কিন্তু সাবান উদ্দিন এই রাস্তা নিয়ে প্রতিনিয়ত স্থানীয়দের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন। কেউ কিছু বললে তার বিরুদ্ধে দায়ের করেন মামলা।

 

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই রাস্তা নিয়ে একের পর এক সমাধানে বসেছেন। তারপরও সাবান উদ্দিনের কারণে সমাধান হয়নি। রাস্তার ব্যাপারে কেউ কিছু বললে সাবান উদ্দিন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ছোট্ট একটি রাস্তা নিয়ে নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়েরের পরিমান এতোটাই বেশি যে থানা পুলিশও এ ব্যাপারে আর সাবান উদ্দিনের মামলা নেন না। এখন তিনি কোর্টে মামলার আশ্রয় নিয়েছেন। মানববন্ধনে বলা হয়, সাবান উদ্দিন কখন কার বিরুদ্ধে মামলা করেন সেটি কেউ জানেন না। যখন থানা থেকে মামলা তদন্তে আসে তখন বোঝা যায় তিনি মামলা করেছেন। সম্প্রতি ওই রাস্তা নিয়ে জালাল উদ্দিনের সাথে সাবান উদ্দিনের ঝামেলা হয়। সাবান উদ্দিন ও তার ছেলেরা জালাল উদ্দিনকে ব্যাপক মারপিট করেন। এর প্রেক্ষিতে মতিহার থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

এর কিছুদিন পর জালাল উদ্দিন জানতে পারেন তিন লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, মামলাবাজ সাবান উদ্দিন যখন মামলা করেন তার আসামী পরিমান থাকে ১২ থেকে ১৫জন। যারা ঘটনার সূত্রপাতটুকু জানে না তার বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে ওই পাড়ায় এখন সবাই সাবান উদ্দিনের দায়ের করা মামলার আসামী। শুধু তাই নয়, চরে সাবান উদ্দিনের কার্যক্রম রয়েছে। সেখানে তার ছেলেদের বা তার সাথে কারো দ্বন্দ্ব অথবা মারপিটের ঘটনা ঘটলেও তিনি মামলা করেন প্রতিবেশিদের উপর। মানববন্ধনে স্থানীয় নারী পুরুষসহ প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি মামলাবাজ সাবান উদ্দিনের বিচার দাবি করেন।

এব্যাপারে রাসিকের ২৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহের হোসেন বলেন, ওই এলাকার লোকজন গণস্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ আমাকে দিয়েছেন। আমি বিষয়টি সুরাহার জন্য চেষ্টা করছি। তবে সাবান উদ্দিন সুবিধাজনক মানুষ না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নগরীতে মামলাবাজের হাত থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয়দের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০১:১৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৯ নং ওয়ার্ডের সাতবাড়িয়া এলাকার এক মামলাবাজ ব্যক্তির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা। সামান্য ৫০ ফিট রাস্তাকে কেন্দ্র একের পর এক স্থানীয় লোকজনদের উপর হামলা, মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব মামলা ও হামলার প্রতিবাদে স্থানীরা সাবান নামে ওই ব্যক্তির বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে এলাকার স্থানীয় প্রায় দেড় শতাধিক নারী পুরুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, সাতবাড়িয়া এলাকার সাবান উদ্দিন একটি ছোট রাস্তাকে কেন্দ্র করে এলাকার প্রায় অধিকাংশ লোকজনের বিরুদ্ধে কারণে অকারেণ মামলা দায়ের করেছেন। এ যাবৎ তার মামলার শিকার হয়েছেন যুবক বৃদ্ধসহ অনেকেই। তিনি বলেন, সাবান উদ্দিনের বাসার দক্ষিন পাশ দিয়ে ছোট একটি রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটি দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকার লোকজন হাটাচলা করেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাস্তাটি সংস্কার করতে গেলে সাবান উদ্দিন ওই রাস্তার জমি তার দাবি করে বন্ধ করে দেন। পরে সার্ভেয়ার দিয়ে রাস্তাটির মাপা হয়। তার দাবির প্রেক্ষিতে তিনি যতটুকু জায়গা পাবেন সেই জায়গা ছেড়ে দিয়ে রাস্তাটি করা হয়।

যদিও রাস্তাটির পুর্ব থেকে পশ্চিম পাশের মাথা পর্যন্ত মাত্র ২৫ ফিটের মত কাজ শেষ করেই রাসিক কাজ সমাপ্ত করেছে। তিনি বলেন রাস্তার শেষের মাথায় প্রায় ৮ থেকে ১০ টি বাড়ি রয়েছে। যারা ওই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। কিন্তু সাবান উদ্দিন এই রাস্তা নিয়ে প্রতিনিয়ত স্থানীয়দের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন। কেউ কিছু বললে তার বিরুদ্ধে দায়ের করেন মামলা।

 

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ওই রাস্তা নিয়ে একের পর এক সমাধানে বসেছেন। তারপরও সাবান উদ্দিনের কারণে সমাধান হয়নি। রাস্তার ব্যাপারে কেউ কিছু বললে সাবান উদ্দিন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ছোট্ট একটি রাস্তা নিয়ে নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়েরের পরিমান এতোটাই বেশি যে থানা পুলিশও এ ব্যাপারে আর সাবান উদ্দিনের মামলা নেন না। এখন তিনি কোর্টে মামলার আশ্রয় নিয়েছেন। মানববন্ধনে বলা হয়, সাবান উদ্দিন কখন কার বিরুদ্ধে মামলা করেন সেটি কেউ জানেন না। যখন থানা থেকে মামলা তদন্তে আসে তখন বোঝা যায় তিনি মামলা করেছেন। সম্প্রতি ওই রাস্তা নিয়ে জালাল উদ্দিনের সাথে সাবান উদ্দিনের ঝামেলা হয়। সাবান উদ্দিন ও তার ছেলেরা জালাল উদ্দিনকে ব্যাপক মারপিট করেন। এর প্রেক্ষিতে মতিহার থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

এর কিছুদিন পর জালাল উদ্দিন জানতে পারেন তিন লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, মামলাবাজ সাবান উদ্দিন যখন মামলা করেন তার আসামী পরিমান থাকে ১২ থেকে ১৫জন। যারা ঘটনার সূত্রপাতটুকু জানে না তার বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে ওই পাড়ায় এখন সবাই সাবান উদ্দিনের দায়ের করা মামলার আসামী। শুধু তাই নয়, চরে সাবান উদ্দিনের কার্যক্রম রয়েছে। সেখানে তার ছেলেদের বা তার সাথে কারো দ্বন্দ্ব অথবা মারপিটের ঘটনা ঘটলেও তিনি মামলা করেন প্রতিবেশিদের উপর। মানববন্ধনে স্থানীয় নারী পুরুষসহ প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি মামলাবাজ সাবান উদ্দিনের বিচার দাবি করেন।

এব্যাপারে রাসিকের ২৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহের হোসেন বলেন, ওই এলাকার লোকজন গণস্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ আমাকে দিয়েছেন। আমি বিষয়টি সুরাহার জন্য চেষ্টা করছি। তবে সাবান উদ্দিন সুবিধাজনক মানুষ না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।