ফলাফল প্রত্যাখ্যান, দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পুনর্নিবাচনের দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৪ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার : সদ্য অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন রাজশাহীর দুটি আসনের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। পাশাপাশি তারা ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে পুনর্নিবাচনের দাবি জানিয়েছেন। বুধবার (১০ জানুয়ারি) রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলন করা দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন- রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য রাহেনুল হক রায়হান এবং রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে কাঁচি প্রতীকে লড়াই করা তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মুণ্ডুমালা পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম রাব্বানী।

জানা যায়, রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী বর্তমান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী পুনর্নিবাচিত হয়েছেন।

বুধবার বেলা ১২টায় প্রথমে সংবাদ সম্মেলনে আসেন রাজশাহী-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হেরে যাওয়া রাহেনুল হক রায়হান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোটে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আমি সন্তুষ্ট নই, আমি মনে করি, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী কালো টাকা ব্যবহার করেছেন। নির্বাচনের পরেও আমাদের কর্মীদের একের পর এক মারধরসহ বাড়িঘর পুড়ানো হচ্ছে। আমার কর্মীরা অনেকে এখন মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

রাহেনুল হক বলেন, যারা ভোটের কাজে নিয়োজিত ছিলেন- পোলিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রিজাইডিং অফিসার, সবার আচরণ পক্ষপাতিত্বমূলক ছিল। আমি যখন বিভিন্ন কেন্দ্রে যাই তখন দেখেছি কক্ষ বন্ধ রেখে তারা কাজ করছিল। আমি তাদের প্রশ্ন করলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন রাহেনুল হক রায়হান। এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পান বর্তমান শাহরিয়ার আলম। নির্বাচন শেষে বেসরকারি ফলাফলে নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ১ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বর্তমান এমপি শাহরিয়ার আলম। কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী রায়হান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ২৭৮ ভোট।

এদিকে, দুপুর ১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রায় একই অভিযোগ তুলে পুনর্নিবাচনের দাবি জানান রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমি ভোটে জয়যুক্ত হয়েছি। কিন্তু ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করে আমাকে পরাজিত দেখানো হয়েছে। যার যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত আমার নিকট আছে। ভোটের দিন বাইরের পরিবেশ শান্তশিষ্ট থাকলেও গোদাগাড়ী-তানোরের বিভিন্ন ইউনিয়নে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় প্রিজাইডিং অফিসারগণ ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। আমি এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি এবং পুনর্নিবাচনের দাবি জানাচ্ছি।

রাব্বানী বলেন, কৌশলে প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন, তারা আমার এজেন্টদের নিকট থেকে ফলাফলের পূর্বেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করে নিয়ে তাদেরকে ভোট গণনার সময় কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। ফলাফল স্থগিত করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর ভোটের দিনই একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

তিনি আরও বলেন, কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকগণ আমার কর্মী-সমর্থকদের উপর নির্যাতন শুরু করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে লাঞ্ছিত করছে। মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা অফিসে নৌকার সমর্থকরা হামলা করে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ আমার বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আঘাত করেছে এবং ওই অফিসের চেয়ার, টেবিল পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি এসব বন্ধের দাবি জানাচ্ছি, প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফলাফল প্রত্যাখ্যান, দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পুনর্নিবাচনের দাবি

আপডেট সময় : ০৭:৫২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার : সদ্য অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন রাজশাহীর দুটি আসনের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী। পাশাপাশি তারা ঘোষিত ফলাফল বাতিল করে পুনর্নিবাচনের দাবি জানিয়েছেন। বুধবার (১০ জানুয়ারি) রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলন করা দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন- রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য রাহেনুল হক রায়হান এবং রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে কাঁচি প্রতীকে লড়াই করা তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মুণ্ডুমালা পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম রাব্বানী।

জানা যায়, রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী বর্তমান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী পুনর্নিবাচিত হয়েছেন।

বুধবার বেলা ১২টায় প্রথমে সংবাদ সম্মেলনে আসেন রাজশাহী-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হেরে যাওয়া রাহেনুল হক রায়হান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোটে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আমি সন্তুষ্ট নই, আমি মনে করি, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী কালো টাকা ব্যবহার করেছেন। নির্বাচনের পরেও আমাদের কর্মীদের একের পর এক মারধরসহ বাড়িঘর পুড়ানো হচ্ছে। আমার কর্মীরা অনেকে এখন মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

রাহেনুল হক বলেন, যারা ভোটের কাজে নিয়োজিত ছিলেন- পোলিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রিজাইডিং অফিসার, সবার আচরণ পক্ষপাতিত্বমূলক ছিল। আমি যখন বিভিন্ন কেন্দ্রে যাই তখন দেখেছি কক্ষ বন্ধ রেখে তারা কাজ করছিল। আমি তাদের প্রশ্ন করলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন রাহেনুল হক রায়হান। এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পান বর্তমান শাহরিয়ার আলম। নির্বাচন শেষে বেসরকারি ফলাফলে নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ১ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বর্তমান এমপি শাহরিয়ার আলম। কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী রায়হান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ২৭৮ ভোট।

এদিকে, দুপুর ১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রায় একই অভিযোগ তুলে পুনর্নিবাচনের দাবি জানান রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমি ভোটে জয়যুক্ত হয়েছি। কিন্তু ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করে আমাকে পরাজিত দেখানো হয়েছে। যার যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত আমার নিকট আছে। ভোটের দিন বাইরের পরিবেশ শান্তশিষ্ট থাকলেও গোদাগাড়ী-তানোরের বিভিন্ন ইউনিয়নে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় প্রিজাইডিং অফিসারগণ ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন। আমি এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি এবং পুনর্নিবাচনের দাবি জানাচ্ছি।

রাব্বানী বলেন, কৌশলে প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন, তারা আমার এজেন্টদের নিকট থেকে ফলাফলের পূর্বেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করে নিয়ে তাদেরকে ভোট গণনার সময় কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। ফলাফল স্থগিত করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর ভোটের দিনই একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

তিনি আরও বলেন, কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকগণ আমার কর্মী-সমর্থকদের উপর নির্যাতন শুরু করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে লাঞ্ছিত করছে। মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা অফিসে নৌকার সমর্থকরা হামলা করে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ আমার বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আঘাত করেছে এবং ওই অফিসের চেয়ার, টেবিল পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি এসব বন্ধের দাবি জানাচ্ছি, প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ করছি।