নৌকার প্রার্থী কালামের বিরুদ্ধে ইসির দুই মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার: আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার বাগমারা থানায় মামলা দুটির এজাহার দেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল মজিদ।

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মো. আব্দুছ সালাম উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ মামলা করতে নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেন। শুক্রবার (০৫ জানুয়ারি) স্বাক্ষরিত এ দুটি চিঠির একটি মধ্যরাতে এবং অপরটি শনিবার দুপুরে পান নির্বাচন কর্মকর্তা।

রাতের চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কর্মকর্তা শনিবার দুপুরে বাগমারা থানায় একটি মামলা করেন। পরে দুপুরে পাওয়া চিঠির ভিত্তিতে বিকালে থানায় গিয়ে আরেকটি এজাহার দেন তিনি।

সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল মজিদ বলেন, দুপুরের মামলাটা রেকর্ড হয়ে গেছে। এই মামলা নম্বর হলো-৮। তারিখ- ০৬/০১/২০২৪। বিকালে যে এজাহার দিয়েছেন তার মামলা নম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত পাননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পেয়ে যাবেন।

নির্বাচন কর্মকর্তাকে মামলা করার নির্দেশ দিয়ে যে চিঠি দেওয়া হয় তার প্রথমটিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ গত ২৬ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হককে উদ্দেশ্য করে প্রাণনাশের হুমকি, অশ্লীল ভাষায় বক্তব্য এবং নৌকার বাইরে কোন মাস্তানি চলবে না বলে বিভিন্ন প্রকার আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। এ কারণে ইসি তার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আর দ্বিতীয় চিঠিতে বলা হয়, গত ১০ ডিসেম্বর আবুল কালাম আজাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হকের কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ব্যাপারে এই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশন আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

দুটি চিঠিরই অনুলিপি রাজশাহীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে এজাহারের অনুলিপিসহ তা ইসিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠির অনুলিপি রাজশাহীর পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছেও পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহীর এসপি সাইফুর রহমান বলেন, ‘প্রথম মামলাটা রেকর্ড করার বিষয়টি ইসিকে অবহিত করা হয়েছে। মামলার এজাহারের অনুলিপিও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় মামলাটির ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলছে। এটির এজাহারও ইসিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

রাজশাহী-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করছেন।

আর এ আসনের কাঁচি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক ২০০৮ সাল থেকেই এলাকার সংসদ সদস্য। পর পর তিনটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে করলেও এবার মনোনয়ন পাননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক।

আবুল কালাম আজাদ মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই সভা-সমাবেশে নানা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচার মিছিলে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কালামের বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

তাকে বেশ কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয় এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। তারপরেও তিনি সংযত হননি। শেষে গত সোমবার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসিতে সুপারিশ করে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নৌকার প্রার্থী কালামের বিরুদ্ধে ইসির দুই মামলা

আপডেট সময় : ০২:১৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার: আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার বাগমারা থানায় মামলা দুটির এজাহার দেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল মজিদ।

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মো. আব্দুছ সালাম উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ মামলা করতে নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেন। শুক্রবার (০৫ জানুয়ারি) স্বাক্ষরিত এ দুটি চিঠির একটি মধ্যরাতে এবং অপরটি শনিবার দুপুরে পান নির্বাচন কর্মকর্তা।

রাতের চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কর্মকর্তা শনিবার দুপুরে বাগমারা থানায় একটি মামলা করেন। পরে দুপুরে পাওয়া চিঠির ভিত্তিতে বিকালে থানায় গিয়ে আরেকটি এজাহার দেন তিনি।

সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল মজিদ বলেন, দুপুরের মামলাটা রেকর্ড হয়ে গেছে। এই মামলা নম্বর হলো-৮। তারিখ- ০৬/০১/২০২৪। বিকালে যে এজাহার দিয়েছেন তার মামলা নম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত পাননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পেয়ে যাবেন।

নির্বাচন কর্মকর্তাকে মামলা করার নির্দেশ দিয়ে যে চিঠি দেওয়া হয় তার প্রথমটিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ গত ২৬ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হককে উদ্দেশ্য করে প্রাণনাশের হুমকি, অশ্লীল ভাষায় বক্তব্য এবং নৌকার বাইরে কোন মাস্তানি চলবে না বলে বিভিন্ন প্রকার আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। এ কারণে ইসি তার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আর দ্বিতীয় চিঠিতে বলা হয়, গত ১০ ডিসেম্বর আবুল কালাম আজাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হকের কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ব্যাপারে এই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশন আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

দুটি চিঠিরই অনুলিপি রাজশাহীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে এজাহারের অনুলিপিসহ তা ইসিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠির অনুলিপি রাজশাহীর পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছেও পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহীর এসপি সাইফুর রহমান বলেন, ‘প্রথম মামলাটা রেকর্ড করার বিষয়টি ইসিকে অবহিত করা হয়েছে। মামলার এজাহারের অনুলিপিও পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় মামলাটির ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলছে। এটির এজাহারও ইসিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

রাজশাহী-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করছেন।

আর এ আসনের কাঁচি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক ২০০৮ সাল থেকেই এলাকার সংসদ সদস্য। পর পর তিনটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে করলেও এবার মনোনয়ন পাননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক।

আবুল কালাম আজাদ মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই সভা-সমাবেশে নানা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচার মিছিলে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কালামের বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

তাকে বেশ কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয় এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। তারপরেও তিনি সংযত হননি। শেষে গত সোমবার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসিতে সুপারিশ করে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।