স্বতন্ত্রের মিছিলে নৌকার হামলা

  • আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান এমপি এনামুল হকের প্রচার মিছিলে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার বিকালে বাগমারা উপজেলার মাদারগঞ্জ বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এই প্রচার মিছিলে কাঁচি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক নিজেও ছিলেন। হামলার সময় কর্মীরা তাকে কোনরকমে রক্ষা করেন। এনামুল হকের দাবি, হামলায় তাঁর কমপক্ষে ১০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক তার সমর্থকদের নিয়ে প্রচার মিছিল বের করলে নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে নৌকা নৌকা বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে মিছিল লক্ষ্য করে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এ সময় পায়ের জুতা-স্যান্ডেল ফেলে দিকবিদিক পালাতে থাকেন কাঁচির সমর্থকেরা। পরে উভয়পক্ষের মধ্য ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাঁধে । খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এই ঘটনার পর এনামুল হক কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চাই। এভাবে আক্রমণ করে কাঁচির প্রচার বন্ধ করা যাবে না। বাগমারার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে কাঁচি মার্কা প্রতীক পৌঁছে গেছে। ৭ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে আমরা জবাব দেব। তখন এই সন্ত্রাসীদের চিরতরে বিদায়ের ব্যবস্থা করব। আঘাতের প্রতিঘাত আমরা করব ইঞ্চি ইঞ্চি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলব- হামলকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করুন। লেভেল প্লেইং ফিল্ড হবে। জনগণ যাকে ভোট দিবে, সেই হবে আগামী দিনের সংসদ সদস্য। কাঁচি মার্কার প্রতীকের পক্ষে মানুষের ঢল নেমেছে। তা সহ্য হচ্ছে না বলেই তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছে।’
কথা বলার জন্য নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তাঁর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক জাকিরুল ইসলাম সান্টু ফোন ধরলেও সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আর ফোন ধরেননি।
সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া হলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকারও। বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, খোঁজ নিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন।
রাজশাহীর এসপি সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, নৌকার কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছে। হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নৌকার দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বতন্ত্রের মিছিলে নৌকার হামলা

আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান এমপি এনামুল হকের প্রচার মিছিলে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার বিকালে বাগমারা উপজেলার মাদারগঞ্জ বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এই প্রচার মিছিলে কাঁচি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক নিজেও ছিলেন। হামলার সময় কর্মীরা তাকে কোনরকমে রক্ষা করেন। এনামুল হকের দাবি, হামলায় তাঁর কমপক্ষে ১০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক তার সমর্থকদের নিয়ে প্রচার মিছিল বের করলে নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে নৌকা নৌকা বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে মিছিল লক্ষ্য করে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এ সময় পায়ের জুতা-স্যান্ডেল ফেলে দিকবিদিক পালাতে থাকেন কাঁচির সমর্থকেরা। পরে উভয়পক্ষের মধ্য ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাঁধে । খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এই ঘটনার পর এনামুল হক কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চাই। এভাবে আক্রমণ করে কাঁচির প্রচার বন্ধ করা যাবে না। বাগমারার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে কাঁচি মার্কা প্রতীক পৌঁছে গেছে। ৭ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে আমরা জবাব দেব। তখন এই সন্ত্রাসীদের চিরতরে বিদায়ের ব্যবস্থা করব। আঘাতের প্রতিঘাত আমরা করব ইঞ্চি ইঞ্চি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলব- হামলকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করুন। লেভেল প্লেইং ফিল্ড হবে। জনগণ যাকে ভোট দিবে, সেই হবে আগামী দিনের সংসদ সদস্য। কাঁচি মার্কার প্রতীকের পক্ষে মানুষের ঢল নেমেছে। তা সহ্য হচ্ছে না বলেই তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছে।’
কথা বলার জন্য নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তাঁর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক জাকিরুল ইসলাম সান্টু ফোন ধরলেও সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে আর ফোন ধরেননি।
সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া হলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকারও। বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, খোঁজ নিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন।
রাজশাহীর এসপি সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, নৌকার কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছে। হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নৌকার দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।