কারা হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধ হয়নি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতালের অনিয়ম এখনও থামেনি। এখানে টাকা দিলেই থাকতে পারেন সুস্থ বন্দীরা। আর শীতের মধ্যে সাধারণ ওয়ার্ডে থেকে কষ্ট পান সাধারণ বন্দীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই কারাগারের অসাধু কিছু কর্মকর্তা অবৈধভাবে সুস্থ মানুষকে হাসপাতালের সুযোগ দিয়ে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কারা কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও আসলে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকে। হাসপাতালে থাকার ব্যবস্থা শুধুমাত্র অসুস্থ বন্দীদের জন্য। কারাগারের বিভিন্ন সেলের চেয়ে হাসপাতালে থাকলে বেশকিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন বন্দীরা। আর এই সুযোগটি পেতে অনেক বন্দী হাসপাতালে থাকার চেষ্টা করেন। তিনি অসুস্থ হন বা না হোক। বিশেষ করে হাজতিরা হাসপাতালে থাকার চেষ্টা করেন বেশি।
তাদের এই সুবিধাটা পাইয়ে দেওয়ার জন্য কারাগারের ভেতর তৈরি হয়েছে সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট ও কয়েকজন কারারক্ষী। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ফার্মাসিস্ট ফারুক হাজতিদের হাসপাতালের সুবিধা পাইয়ে দিতে কারারক্ষী আসিফ ইকবালসহ বেশ কয়েকজন কারারক্ষী দিয়ে তৈরী করেছেন সিন্ডিকেট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, “জেলখানার হাসপাতালে রাখার জন্য আসিফ ইকবালকে ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলাম, আসিফ ইকবাল আমার আত্মীয়কে একসপ্তাহ হাসপাতালে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।”
অনেক সময় টাকা নিয়েও হাসপাতালে জায়গা করে দেয় না। আবার টাকা ফেরত চাইলে নানা রকম তালবাহানা করে। ভুক্তভোগীরা ভয়ে কিছু বলার সাহস করে না। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে কারারক্ষী আসিফ ইকবাল এই প্রতিবেদককে জানান, “আমরা বন্দীদের স্বজনদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে ফার্মাসিস্ট ফারুককে দিই। ফার্মাসিস্ট ফারুক আমাদেরকে কিছু টাকা কমিশন দেয়।”
জানতে চাইলে কারাগারের জেলার নিজাম উদ্দিনের জানান “আমার কারাগারে তিনজন আসিফ ইকবাল আছে কোন আসিফ ইকবাল সুনির্দিষ্ট কোন আসিফ ইকবাল জানা হলে বিষয়টি দেখবো আর ফার্মাসিস্ট ফারুক বিষয়টি অস্বীকার করেছে”।
টাকার বিনিময়ে রাজশাহী কারা হাসপাতালে থাকার বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল এসব অনিয়মের বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, কারাগারে এমন সিন্ডিকেট থাকলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কারা হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধ হয়নি

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতালের অনিয়ম এখনও থামেনি। এখানে টাকা দিলেই থাকতে পারেন সুস্থ বন্দীরা। আর শীতের মধ্যে সাধারণ ওয়ার্ডে থেকে কষ্ট পান সাধারণ বন্দীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই কারাগারের অসাধু কিছু কর্মকর্তা অবৈধভাবে সুস্থ মানুষকে হাসপাতালের সুযোগ দিয়ে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কারা কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও আসলে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকে। হাসপাতালে থাকার ব্যবস্থা শুধুমাত্র অসুস্থ বন্দীদের জন্য। কারাগারের বিভিন্ন সেলের চেয়ে হাসপাতালে থাকলে বেশকিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন বন্দীরা। আর এই সুযোগটি পেতে অনেক বন্দী হাসপাতালে থাকার চেষ্টা করেন। তিনি অসুস্থ হন বা না হোক। বিশেষ করে হাজতিরা হাসপাতালে থাকার চেষ্টা করেন বেশি।
তাদের এই সুবিধাটা পাইয়ে দেওয়ার জন্য কারাগারের ভেতর তৈরি হয়েছে সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট ও কয়েকজন কারারক্ষী। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ফার্মাসিস্ট ফারুক হাজতিদের হাসপাতালের সুবিধা পাইয়ে দিতে কারারক্ষী আসিফ ইকবালসহ বেশ কয়েকজন কারারক্ষী দিয়ে তৈরী করেছেন সিন্ডিকেট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, “জেলখানার হাসপাতালে রাখার জন্য আসিফ ইকবালকে ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলাম, আসিফ ইকবাল আমার আত্মীয়কে একসপ্তাহ হাসপাতালে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।”
অনেক সময় টাকা নিয়েও হাসপাতালে জায়গা করে দেয় না। আবার টাকা ফেরত চাইলে নানা রকম তালবাহানা করে। ভুক্তভোগীরা ভয়ে কিছু বলার সাহস করে না। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে কারারক্ষী আসিফ ইকবাল এই প্রতিবেদককে জানান, “আমরা বন্দীদের স্বজনদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে ফার্মাসিস্ট ফারুককে দিই। ফার্মাসিস্ট ফারুক আমাদেরকে কিছু টাকা কমিশন দেয়।”
জানতে চাইলে কারাগারের জেলার নিজাম উদ্দিনের জানান “আমার কারাগারে তিনজন আসিফ ইকবাল আছে কোন আসিফ ইকবাল সুনির্দিষ্ট কোন আসিফ ইকবাল জানা হলে বিষয়টি দেখবো আর ফার্মাসিস্ট ফারুক বিষয়টি অস্বীকার করেছে”।
টাকার বিনিময়ে রাজশাহী কারা হাসপাতালে থাকার বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল জলিল এসব অনিয়মের বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, কারাগারে এমন সিন্ডিকেট থাকলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।