রাজশাহী সদর আসন: স্বতন্ত্র প্রার্থীকে জেতাতে আ.লীগের অঙ্গীকার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ ০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-২ (সদর) আসনে নৌকা বাদ দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে জেতাতে অঙ্গীকার করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মিলনায়তনে দলীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশার হাত উচিয়ে তাঁকে বিজয়ী করার অঙ্গীকার করেন। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
এ আসনে কাঁচি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা। ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। ২০০৮ সাল থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টানা তিনবার এমপি হয়েছেন। এবারও নৌকা পেয়েছেন। তবে এবার তাকে বাদ দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে থাকার সিদ্ধান্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগের।
তাই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়ার জন্য এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। সভা পরিচালনা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মুসাব্বিরুল ইসলাম। এই সভায় রাজশাহী মহানগরে ওয়ার্ড-মহল্লা কমিটি থেকে শুরু করে সব কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়াম একেবারে কানায় কানায় ভর্তি ছিল। স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশা সভামঞ্চে বসেছিলেন।
সভায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল বলেন, তারা নৌকার পক্ষে। কোনো নৌকার বিপক্ষে নন। তারা বিভিন্ন জায়গায় নৌকার জন্য কাজ করছেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকার জন্য কাজ করছেন। কিন্তু ফজলে হোসেন বাদশা যদি নৌকা প্রতীক পেয়ে তাদের নেতা খায়রুজ্জামান লিটনকেই না ডাকেন তাহলে কি তাদের ঠেকা পড়ে গেছে যে, তার বাসায় গিয়ে তার জন্য কাজ করতে হবে? তখন নিচ থেকে নেতাকর্মীরা না বলে চিৎকার দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন বলেন, ‘আমাকে যেখানেই ডাকা হয়, সেখানেই যাই। কিন্তু নৌকার প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা আমাকে নির্বাচন করার জন্য আমন্ত্রণ জানাননি। এখন আমরা যদি আপনাদের মতামত নিয়ে দলের সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদশাকে সমর্থন দিই তাহলে কোনো অপরাধ হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে না। এ জন্য যদি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জবাব দিতে হয়, তাহলে সেই জবাব আমি দিব, সেই জবাব দিবেন খায়রুজ্জামান লিটন।’
তিনি বলেন, আমরা যখন নেমে গেছি তখন আমাদের দলের সহভাপতি শফিকুর রহমান বাদশাকে বিজয়ী করে আনতে হবে। আমরা নৌকার বিপক্ষে নই। আমরা ফজলে হোসেন বাদশার বিপক্ষে। তাকে আমরা দেখিয়ে বিদায় করব যে রাজশাহীতে তাঁর কোনো জনসমর্থন নাই।’ তিনি বলেন, ‘আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলে মতামত নিলাম। আমরা নৌকার বিপক্ষে নই, ফজলে হোসেন বাদশার বিপক্ষে, ওয়ার্কার্স পার্টির বিপক্ষে। তারা দেখাক তাদের কত ভোট আছে। আমাদের প্রার্থীকে জয়ী করে নিয়ে আসার দায়িত্ব রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের।’
এ সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘এই ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা খায়রুজ্জামান লিটনকে কটুক্তি করেছিলেন। তিনি এখনো রাজশাহীতে আছেন-এটা তার বাপের ভাগ্য।’ তিনি ফজলে হোসেন বাদশাকে অসভ্য জানোয়ার বলে প্রত্যাখান করার আহবান জানান।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৌমকি সাহা বলেন, গত ১৫ বছরে ফজলে হোসেন বাদশাকে নৌকা প্রতীক দেওয়াতে নৌকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য আতিকুর রহমান কালু, আব্দুস সালাম, রাজপাড়া থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ আনসারুল হক খিচ্চু, মতিহার থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, নগর শ্রমিক লীগের সভাপতি মাহাবুবুল আলম, নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ রনি, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী সদর আসন: স্বতন্ত্র প্রার্থীকে জেতাতে আ.লীগের অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৮:২৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-২ (সদর) আসনে নৌকা বাদ দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে জেতাতে অঙ্গীকার করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মিলনায়তনে দলীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশার হাত উচিয়ে তাঁকে বিজয়ী করার অঙ্গীকার করেন। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
এ আসনে কাঁচি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা। ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। ২০০৮ সাল থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টানা তিনবার এমপি হয়েছেন। এবারও নৌকা পেয়েছেন। তবে এবার তাকে বাদ দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে থাকার সিদ্ধান্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগের।
তাই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়ার জন্য এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। সভা পরিচালনা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মুসাব্বিরুল ইসলাম। এই সভায় রাজশাহী মহানগরে ওয়ার্ড-মহল্লা কমিটি থেকে শুরু করে সব কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়াম একেবারে কানায় কানায় ভর্তি ছিল। স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশা সভামঞ্চে বসেছিলেন।
সভায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল বলেন, তারা নৌকার পক্ষে। কোনো নৌকার বিপক্ষে নন। তারা বিভিন্ন জায়গায় নৌকার জন্য কাজ করছেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকার জন্য কাজ করছেন। কিন্তু ফজলে হোসেন বাদশা যদি নৌকা প্রতীক পেয়ে তাদের নেতা খায়রুজ্জামান লিটনকেই না ডাকেন তাহলে কি তাদের ঠেকা পড়ে গেছে যে, তার বাসায় গিয়ে তার জন্য কাজ করতে হবে? তখন নিচ থেকে নেতাকর্মীরা না বলে চিৎকার দেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন বলেন, ‘আমাকে যেখানেই ডাকা হয়, সেখানেই যাই। কিন্তু নৌকার প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা আমাকে নির্বাচন করার জন্য আমন্ত্রণ জানাননি। এখন আমরা যদি আপনাদের মতামত নিয়ে দলের সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদশাকে সমর্থন দিই তাহলে কোনো অপরাধ হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে না। এ জন্য যদি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জবাব দিতে হয়, তাহলে সেই জবাব আমি দিব, সেই জবাব দিবেন খায়রুজ্জামান লিটন।’
তিনি বলেন, আমরা যখন নেমে গেছি তখন আমাদের দলের সহভাপতি শফিকুর রহমান বাদশাকে বিজয়ী করে আনতে হবে। আমরা নৌকার বিপক্ষে নই। আমরা ফজলে হোসেন বাদশার বিপক্ষে। তাকে আমরা দেখিয়ে বিদায় করব যে রাজশাহীতে তাঁর কোনো জনসমর্থন নাই।’ তিনি বলেন, ‘আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলে মতামত নিলাম। আমরা নৌকার বিপক্ষে নই, ফজলে হোসেন বাদশার বিপক্ষে, ওয়ার্কার্স পার্টির বিপক্ষে। তারা দেখাক তাদের কত ভোট আছে। আমাদের প্রার্থীকে জয়ী করে নিয়ে আসার দায়িত্ব রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের।’
এ সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আল গালিব বলেন, ‘এই ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা খায়রুজ্জামান লিটনকে কটুক্তি করেছিলেন। তিনি এখনো রাজশাহীতে আছেন-এটা তার বাপের ভাগ্য।’ তিনি ফজলে হোসেন বাদশাকে অসভ্য জানোয়ার বলে প্রত্যাখান করার আহবান জানান।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৌমকি সাহা বলেন, গত ১৫ বছরে ফজলে হোসেন বাদশাকে নৌকা প্রতীক দেওয়াতে নৌকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য আতিকুর রহমান কালু, আব্দুস সালাম, রাজপাড়া থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ আনসারুল হক খিচ্চু, মতিহার থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, নগর শ্রমিক লীগের সভাপতি মাহাবুবুল আলম, নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ রনি, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।