রাজশাহীতে প্রার্থীদের সঙ্গে সিইসির মতবিনিময়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ ১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এই সভায় অন্যান্য প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী সার্কিট হাউসে প্রার্থীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার সভা করেন সিইসি। সভা শেষে রাজশাহীর ছয়টি আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সিইসির কাছে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করেছেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর), রাজশাহী-৪ (বাগমারা) ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের প্রার্থীরা।
সভায় রাজশাহী-১ আসনের নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী এবং রাজশাহী-৬ আসনের নৌকার প্রার্থী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন না। অন্য সব আসনের আওয়ামী লীগসহ অন্য দল কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি বলেছেন, সাংবাদিকরা তার আসনের দিকে নজর রেখেছেন। তাই সরাসরি তাকে হুমকি দেওয়া হয়নি। তবে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। মাইক ভাড়া করার পরেও পরে দেওয়া হয়নি ভেঙে দেওয়া হবে এই আশঙ্কায়। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি বর্তমান এমপি ও নৌকার প্রার্থীর নাম উচ্চারণ না করলেও ইঙ্গিত করেছেন তার দিকেই। এ আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম রাব্বানীও নৌকার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনে অভিযোগ উঠেছে কম। এ আসনের জাসদের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী বলেছেন, নগরীর কোর্ট স্টেশন এলাকায় শহীদ জামিল আকতার রতন স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ের সামনে তার পোস্টার লাগানো হয়েছিল। তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন না হয় তিনি সেই দাবি জানান।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিএনএমের প্রার্থী মতিউর রহমান মন্টু বলেন, একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের আশায় তারা ভোটে এসেছেন। এ আসনে এখনও ভোটের পরিবেশ শান্ত। তবে পোস্টার লাগানোর ক্ষেত্রে আচরণবিধি মানা হচ্ছে না। এ বিষয়টা যেন নির্বাচন কমিশন দেখে। আর ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত যেন ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে, সবাই যেন ভোট দিতে পারে তিনি সেই দাবি জানান।
রাজশাহী-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান এমপি এনামুল হক আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। বলেন, তার কর্মী-সমর্থকদের মারধর করছেন নৌকার সমর্থকেরা। প্রচারণা শুরুর পর থেকে কয়েকটি এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে তারা মামলাও করেছেন। কিন্তু এখনও হুমকি-ধামকি পাচ্ছেন। পাল্টা অভিযোগ তুলে ধরেন নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদও।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা ওবায়দুর রহমানও নানা অভিযোগ তুলে ধরেন নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ওবায়দুর রহমান বলেন, পোস্টার লাগাতে গেলে তার কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও করেছেন। তিনি এসবের প্রতিকার চান।
রাজশাহী-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা রাহেনুল হকও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য রাহেনুল হক বলেন, প্রতিনিয়ত নানা হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে তাদের। তার বাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল হামলা হয়েছে। নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এলাকায় একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে তিনি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সভায় স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল সাংবাদিকদের বলেছেন, সব প্রার্থীকেই আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনকে আশ^স্ত করেছেন যে সবাই আচরণবিধি মেনে চলবেন। তারপরও কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে পুলিশ-প্রশাসন যেন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে প্রার্থীদের সঙ্গে সিইসির মতবিনিময়

আপডেট সময় : ০৬:২১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এই সভায় অন্যান্য প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী সার্কিট হাউসে প্রার্থীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার সভা করেন সিইসি। সভা শেষে রাজশাহীর ছয়টি আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সিইসির কাছে নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করেছেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর), রাজশাহী-৪ (বাগমারা) ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের প্রার্থীরা।
সভায় রাজশাহী-১ আসনের নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী এবং রাজশাহী-৬ আসনের নৌকার প্রার্থী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন না। অন্য সব আসনের আওয়ামী লীগসহ অন্য দল কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি বলেছেন, সাংবাদিকরা তার আসনের দিকে নজর রেখেছেন। তাই সরাসরি তাকে হুমকি দেওয়া হয়নি। তবে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। মাইক ভাড়া করার পরেও পরে দেওয়া হয়নি ভেঙে দেওয়া হবে এই আশঙ্কায়। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি বর্তমান এমপি ও নৌকার প্রার্থীর নাম উচ্চারণ না করলেও ইঙ্গিত করেছেন তার দিকেই। এ আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম রাব্বানীও নৌকার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনে অভিযোগ উঠেছে কম। এ আসনের জাসদের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী বলেছেন, নগরীর কোর্ট স্টেশন এলাকায় শহীদ জামিল আকতার রতন স্মৃতি সংসদের কার্যালয়ের সামনে তার পোস্টার লাগানো হয়েছিল। তার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন না হয় তিনি সেই দাবি জানান।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিএনএমের প্রার্থী মতিউর রহমান মন্টু বলেন, একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের আশায় তারা ভোটে এসেছেন। এ আসনে এখনও ভোটের পরিবেশ শান্ত। তবে পোস্টার লাগানোর ক্ষেত্রে আচরণবিধি মানা হচ্ছে না। এ বিষয়টা যেন নির্বাচন কমিশন দেখে। আর ভোট গ্রহণের দিন পর্যন্ত যেন ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে, সবাই যেন ভোট দিতে পারে তিনি সেই দাবি জানান।
রাজশাহী-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান এমপি এনামুল হক আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। বলেন, তার কর্মী-সমর্থকদের মারধর করছেন নৌকার সমর্থকেরা। প্রচারণা শুরুর পর থেকে কয়েকটি এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে তারা মামলাও করেছেন। কিন্তু এখনও হুমকি-ধামকি পাচ্ছেন। পাল্টা অভিযোগ তুলে ধরেন নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদও।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা ওবায়দুর রহমানও নানা অভিযোগ তুলে ধরেন নৌকার প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ওবায়দুর রহমান বলেন, পোস্টার লাগাতে গেলে তার কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও করেছেন। তিনি এসবের প্রতিকার চান।
রাজশাহী-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা রাহেনুল হকও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য রাহেনুল হক বলেন, প্রতিনিয়ত নানা হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে তাদের। তার বাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল হামলা হয়েছে। নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এলাকায় একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে তিনি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সভায় স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল সাংবাদিকদের বলেছেন, সব প্রার্থীকেই আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনকে আশ^স্ত করেছেন যে সবাই আচরণবিধি মেনে চলবেন। তারপরও কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে পুলিশ-প্রশাসন যেন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা করছেন।