রাবির ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

23

স্টাফ রিপোর্টার, রাবি : কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষ ভর্তি পরিক্ষা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সি ইউনিটের তিনটি গ্রুপের পরীক্ষার মাধ্যমে এবারের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ভর্তি এবারের পরীক্ষায় কোনো জালিয়াতি বা অসদুপায় অবলম্বনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান কেন্দ্রেগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও বিএনসিসি, রেঞ্জার, রোভার স্কাউটের সদস্যরা বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান করেছিলো। যানবাহনগুলো কাজলা এবং বিনোদপুর দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এবং প্রধান ফটক দিয়ে বের হতে দেখা যায়। পরীক্ষা চলাকালীন ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে মোবাইল কোড সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। এদিকে মাত্র একটি ইউনিটের তিনটি গ্রুপের পরীক্ষা থাকায় গতদিনের চাইতে ভিড় কম ছিল। সকাল থেকেই বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। সকাল নয়টার আগেই পরীক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবনগুলোর পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে শুরু করেন। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ৬টি হেল্পডেস্ক কাজ করেছে। সহকারী প্রক্টরগণ এসব হেল্পডেস্কে উপস্থিত থেকে পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করছেন। এছাড়াও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা শিক্ষার্থীদেরকে সার্বিক সহযোগিতায় নিয়োজিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবার নারী অভিভাবকদের রাত্রিযাপনের জন্য ছাত্রী জিমনেশিয়ামে থাকার ব্যবস্থা করে। এছাড়াও পরীক্ষা চলাকালে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিশ্রামের জন্য শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি) ভবন ও কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন খুলে দেয়া হয়। ভর্তি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও কারসাজিরোধে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সতর্কীকরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করার ফলে এ জাতীয় কর্মকাণ্ড রোধ করা গেছে। পরীক্ষা চলাকালে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগ করার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় ছিল। ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিকল্পনার সাথে সংগতি রেখে ভর্তি প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে মোবাইল ফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো ও প্রবেশপত্রে পরীক্ষার ভবন, কক্ষ ও আসন নম্বর দেয়ার ফলে আসন খুঁজে পাওয়া ও হল ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে। আগামীতে এই পদ্ধতি আধুনিকায়নের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত করা যাবে বলেও উপাচার্য জানান। এবছর তিনটি ইউনিটের অধীনে ৪ হাজার ৭১৩টি আসনের বিপরীতে ‘এ’ ইউনিটে ৩১ হাজার ১২৯ জন, ‘বি’ ইউনিটে ১৫ হাজার ৭৩২ জন, ‘সি’ ইউনিটে ৩১ হাজার ২২৯ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছে। ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিতে এবার বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) ও লিখিত (এসএকিউ) অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল, সাক্ষাৎকার ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভর্তিচ্ছুসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ধফসরংংরড়হ.ৎঁ.ধপ.নফ থেকে জানা যাবে।

SHARE