রাবিতে ছিনতাইগুরু বনি গ্রেফতার

39

স্টাফ রিপোর্টার, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিভিন্ন সময় ছিনতাইয়ে নেতৃত্ব দানকারী অনিক মাহমুদ বনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ আনামের কাছ থেকে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার ওপর হামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী অনিক মাহমুদ বনি। তার সঙ্গে ছিলেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু। ঘটনার পর রাত ১০টার দিকে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ঠিক সে সময়ে নিজের ফেসবুকে রক্তাক্ত ফিরোজের ছবি দিয়ে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাস শেয়ার করেন অনিক মাহমুদ বনি। অথচ গতকাল রোববার বনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অবলীলায় স্বীকার করেন হামলায় নেতৃত্ব দেয়ার সত্যতা। ‘নিজে মেরে, নিজেই বিচার চাওয়ার কৌশল’ বনি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন বলে জানিয়েছেন খোদ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বনির ওই স্ট্যটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। হামলার মূল হোতা বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ কর্মী বনির সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন আরেক হামলাকারী মোস্তাফিজুর রহমান মিঠুও। মিঠু বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মির্জাপুর এলাকার মোস্তাকিনের ছেলে। গতকাল তাদের দু’জনকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফিরোজের দায়েরকৃত হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফিরোজ আনামের ওপর হামলার ঘটনায় প্রথমে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা অনিক মাহমুদ বনি ও মোস্তাফিজুর রহমান মিঠুকে গ্রেফতার করে। হামলার সময় ফিরোজের সঙ্গে থাকা তার বান্ধবী বনি ও মিঠুকে দেখে শনাক্ত করেন। তাদেরকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তাদেরকে জেলহাজতে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। হামলার সময় বনি ও মিঠুর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে বলে জানান ওসি। এদিকে, হামলার পরদিন গত শনিবার জড়িত সন্দেহে যে তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল, তাদের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, বনিকে দুই বছর আগে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। সে বিভিন্ন সময়ে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শিক্ষার্থী আনামের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অন্যজন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী। গতরাতে মাদারবখ্শ হল থেকে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল আটক করা হয়। বোববার তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

SHARE