পার্চিং পদ্ধতিতে রাজশাহীর ৯৭ শতাংশ জমিতে পোকা দমন

32

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭৪ হাজার ৯৮১ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হচ্ছে ৭৬ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ জমিতে পোকা দমনে বালাইনাশকের পরিবর্তে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। কৃষি প্রধান বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠ ঘুরেও বিষয়টির সত্যতা মিলেছে।

কৃষি বিভাগের ধারাবাহিক সচেতনতামূলক প্রচার ও গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে এটি সম্ভব হয়েছে দাবি কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তাদের। তারা এটিকে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির সুফল বলে নিজেদের সফলতার দাবি করছেন। তাদের লক্ষ্য- কৃষি প্রধান বরেন্দ্র অঞ্চলে শতভাগ পার্চিং পদ্ধতি নিশ্চিত করা।

তবে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের দাম না থাকা ধারাবাহিক লোকসান এবং বাজারে নকল ক্ষতিকর বালাইনাশকের ভয়ে পার্চিং ব্যবহারে তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়েছেন। তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তারা। গত ‍বছর বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠে মাঠে কৃষকরা নকল বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে শীষ বের হওয়ার আগে ধান পুড়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পার্চিং পদ্ধতির ব্যবহার ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরা এখন আউশ ধান কাটা এবং আমন ধানের যত্ন নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে আউশের চেয়ে মাঠে আমন ধান বেশি চাষাবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হলেও সেপ্টেম্বর মাসে দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় আমন আবাদে তেমন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এখন মাঠজুড়ে আমন ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। এসময়ে সাধারণত বালাই আক্রমণ বেশি হয়।

জেলার গোদাগাড়ী, মোহনপুর, তানোর, বাঘা ও চারঘাটে আমনের ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। তবে বিগত সময়ের মতো এবার কৃষকদের বাজারের ক্ষতিকর বালাইনাশক ব্যবহারে আগ্রহ দেখা যায়নি। তারা স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে পোকা দমনে ঝুঁকেছেন। ফলে মাঠজুড়ে আমনের ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি চোখে পড়ছে। তাতে সুফলও পাচ্ছেন চাষিরা।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামিমুল ইসলাম বলেন, ‘পার্চিং সাধারণত জীবন্ত ও মৃত এই দুই ধরনের হয়ে থাকে। আমন খেতে ধইঞ্চা গাছের জীবন্ত পার্চিং এবং বিভিন্ন ডাল দিয়ে মৃত পার্চিং তৈরি করা হয়। পার্চিং আইল থেকে কিছুটা দূরে দেওয়া ভালো। পার্চিংটিকে চুনের দ্রবণে চুবালে অনেকটা ধবধবে সাদা দেখাবে এবং ক্ষেতের অনেক দূর থেকে দৃষ্টিগোচরে আসবে। চুনের পরিবর্তে সাদা পেইন্ট দিয়েও পার্চিংয়ের ওপরের অংশকে রঙ করা যাবে।’

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক সামছুল হক বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে আমরা আমন মৌসুমে জেলার প্রত্যেক উপজেলায় পার্চিং উৎসব ও মাঠ দিবস পালন করছি। ধীরে ধীরে কৃষকদের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এবার প্রায় ৯৭ শতাংশ জমিতে যে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কৃষি অধিদফতরের প্রচেষ্টার ফসল। আমাদের লক্ষ্য- কৃষি প্রধান বরেন্দ্র অঞ্চলে শতভাগ পার্চিং পদ্ধতি নিশ্চিত করা।’

পার্চিং বিষয়ে কৃষি অধিদফতরের এই কর্মকর্তা জানান, পার্চিং ব্যবহারে পরিবেশ ভাল থাকে, উৎপাদন খরচ কম হয়, কীটনাশক কম লাগে। আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে বিপিএইচের উপস্থিতি সহজে বোঝা যায়। আলো দেখলে বাদামি গাছ ফড়িং বা বিপিএইচ পোকা ছুটে এসে এক জায়গায় মিলিত হয়। এতে এলাকার কৃষকগণ উপকারী ও অপকারী পোকা সহজে চিনতে পারছে। পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য চাষিদের পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

SHARE