স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যাওয়া খ্রিস্টান ‘ক্ষ্যাপা বাউলের’ সন্ধান

30

নাটোর প্রতিনিধি : স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যাওয়া খ্রিস্টান বাউলকে উদ্ধার করেছে নাটোর জেলা পুলিশ।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, কোন অপহরণ কিংবা আত্মগোপন নয়, শুধুমাত্র যোগ সাধনার উদ্দেশে নিভূত স্থানে অবস্থানের জন্য জাগতিক সকল কিছু পরিত্যাগ করেছিলেন খ্রিস্টান বাউল ওরফে ক্ষ্যাপা বাউল সুবাস রোজারিও।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুবাস রোজারিও (৪০) নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানার চামটা গ্রামের মৃত লুকাস রোজারিওর ছেলে। তিনি অবিবাহিত ও প্রখ্যাত লালন শিল্পী। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ১১টার সময় সুবাস রোজারিও তার ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তনের লক্ষ্যে গ্রামের বাড়িতে আসে। ২৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় গাজীপুরে ভাতিজা সানি রোজারিওর কাছে যাওয়ার উদ্দেশে জোনাইল বাজার থেকে ড্রাইভার সুবাস রোজারিও (৪০)-র সিএনজিযোগে চাটমোহর রেলস্টেশনের উদ্দেশে রওনা হয়। ২৫ সেপ্টেম্বরে সুবাস বাউল গাজীপুরস্থ সানি রোজারিওর কাছে না পৌঁছলে সে তার চাচা লুইস রোজারিওকে মোবাইল ফোনে জানায়। পরে সকালে সুবাসের মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে অপরিচিত ব্যক্তি জানায় এটা চায়ের দোকান গতরাতে ১ ব্যক্তি তার দোকানে এই মোবাইল ফোন ও ১ টি ব্যাগ রেখে চলে গেছে। এরপরে মোবাইল ফোন বন্ধ পেলে ওইদিন রাত ১০টার সময় লুইস চট্টগ্রাম থেকে নিজবাড়িতে এসে ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে সিএনজি ড্রাইভার সুবাসকে ফোন দেয়। পরে সে জানায় ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় চাটমোহর স্টেশনে বাউল সুবাসকে নামিয়ে দিয়েছে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে বাউল সুবাসকে পাওয়া না গেলে লুইস ৫ অক্টোবর বড়াইগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে নাটোর পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহার সার্বিক দিক নির্দেশনায় এবং বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদ ও বড়াইগ্রাম থানার মামলা তদন্তকারী অফিসার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সুমন আলীসহ একটি দল ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার হরিনারায়নপুর গ্রামের শ্মশান হতে ক্ষ্যাপা বাউল সুবাস রোজারিওকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে সুবাস রোজারিও বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ি চামটা থেকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে সিএনজি যোগে চাটমোহর রেলস্টেশন রাত সাড়ে ১১টায় পৌঁছলে সেখানে ১টি চায়ের দোকানে চা ও সিগারেট খাওয়ার সময় আধ্যাত্মিক গান শুনে মনোজগতে পরিবর্তন হয়। পরে তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ সবকিছু চায়ের দোকানে রেখে ভাব জগতের চিন্তা থেকে অজানার উদ্দেশে রওনা দেন। তাকে কেউ অপহরণ করেনি বা সে নিজে আত্মগোপন করেনি। শুধুমাত্র যোগসাধনার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত স্থানে অবস্থানের জন্য তিনি জাগতিক সকল কিছু পরিত্যাগ করে অজানার উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলেন।

SHARE