মাদকসেবীদের আখড়া পুঠিয়ার পরিত্যক্ত ৬ গণমিলনায়তন

39

স্টাফ রিপোর্টার : ১৯৮০ সালে দেশের ১৯টি মডেল উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিষ্ঠা করা হয় গণমিলনায়তন। রাজশাহীর মডেল উপজেলা হিসেবে পুঠিয়ার ছয় ইউনিয়নে গণমিলনায়তন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। সেখানে নিয়োগ করা হয় দু’জন করে সমাজকর্মী। উদ্দেশ্য ছিল তৃণমূল পর্যায়ের মানুষদের কারিগরি শিক্ষা, স্বল্প ও সহজ ঋণ সুবিধা প্রদান করে স্বাবলম্বী করে তোলা। সেখানে হতো গ্রাম্য সালিশ ও স্থানীয় আচার অনুষ্ঠান। তবে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখিয়ে ১৯৯২ সালে গণমিলনায়তন বন্ধ করে দেয়া হয়।

সেখানকার কার্যক্রম সরিয়ে নেয়া হয় উপজেলা সদরে। ফলে মিলনায়তনগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরিত্যক্ত এসব মিলনায়তনে এখন রোজ নিয়ম করে বসে মাদকের আখড়া। সমাজসেবা অধিদফতরের অধীনে একসময়ে যেখানে সমাজের মানুষের মঙ্গলে কাজ করা হতো, সেখানে এখন চলে কিশোর, তরুণ ও যুবকদের মাদক বিকিকিনি ও সেবন।

এনিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তারা বলছেন, গণমিলনায়তনগুলো মাদকের আখড়ামুক্ত করে দ্রুত সেখানে সমাজসেবা অধিদফতর থেকে সমাজের মঙ্গলে কাজ করা হোক। তবে সমাজসেবা অধিদফতর বলছে, সেখানে যেসব আসবাবপত্র ও সরঞ্জামাদি ছিল তা এখন লুট হয়ে গেছে। অবকাঠামোও ব্যবহারযোগ্য নয়। যে দু’একটি ভালো আছে, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় তা সংস্কার করাও সম্ভব হয়ে উঠছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুঠিয়ার শিলমাড়িয়া, জিউপাড়া, ভালুকাগাছি, বানেশ্বর, বেলপুকুর ও সদর ইউনিয়ন এলাকায় একটি করে গণমিলনায়তন রয়েছে। ভবনগুলোর মধ্যে দুইটিতে ছাদ এবং বাকিগুলোতে টিনশেড দেওয়া। তবে সবকটি ভবনের পলেস্তার খসে পড়ছে। তবে মিলনায়তনগুলোর দরজা-জানালাসহ অবশিষ্ট থাকা আসবাবপত্রগুলো দামি কাঠের তৈরি। ভেতরে নোংরা পরিবেশ ও দুর্গন্ধে ভরা। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিতে আছে মাদক সেবনের বিভিন্ন উপকরণ।

জিউপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী আশরাফ আলী বলেন, ‘বোর্ডঘরে (গণমিলনায়তন) আগে এলাকার বেকার ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতে দেখেছি। অনেকে সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে অল্প টাকার লোন পেয়েছে। তা দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করে স্বাবলম্বীও হয়েছে। যারা অক্ষরজ্ঞানহীন তাদেরকে সেখানে পড়ালেখাও করানো হতো। পরে ২০/২২ বছর ধরে এটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। সেখানে রাতদিন এলাকার যুবক ছেলেরা কী যে করে বোঝা মুশকিল। আমি গিয়ে দেখিনি, তবে শুনেছি সেখানে সবাই গাঁজা-মদ খাই। পুলিশ কয়েকবার সেখান থেকে অনেককে ধরেও নিয়ে গেছিল।’

শিলমাড়িয়া ইউপি এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক ঋণ প্রদানের পাশাপাশি মিলনায়তনে গ্রাম্য সালিশ হতো। আমরা সেখানে স্থানীয় বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান উদযাপন করতাম। বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের আর নজরদারি নেই। এখন মিলনায়তন বখাটে ছেলেদের দখলে। আগে তারা বিভিন্ন ধরনের নেশা করত ইদানীং শুনেছি কিশোর গ্যাং চর্চাও করে সেখানে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ছয়টি গণমিলনায়তন কেন্দ্রের মধ্যে এখনো দু’একটি ব্যবহার উপযোগী আছে। তবে আমাদের ফান্ড নেই। তাই পরিত্যক্ত ভবনগুলো এই মুহূর্তে রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। সেখানে মাদকের আখড়া বসানোর বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করেছি।’

জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হীরা বাচ্চু বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের জন্য ইউপি গণমিলনায়তন কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যেকোনো কারণে সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। অচিরেই গণমিলনায়তনগুলো সংস্কার ও পূর্বের ন্যায় সাধারণ মানুষের প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

SHARE