পদে পদে ভোগান্তিতে ভর্তিচ্ছুকরা

147

অনলাইন ডেস্ক : ‘আসেন মামা, আসেন আসেন। ক্যাম্পাস ভার্সিটি গেলে আসেন। জনপ্রতি ২৫ টাকা, ২৫ টাকা। এমন বলে অটোরিকশা চালকরা যাত্রীদের ডাকছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর শহিদ কামারুজ্জামান চত্বরে এমন ভাবে অটোরিকশা চালকদের যাত্রী ডাকতে দেখা যায়। অটোররিকশা চালক রাজু বলেন, ‘একটা দিনিই তো মামা। আর রাস্তায় অনেক যানজট। সময় লাগছে বেশি। এই জন্য ভাড়া দু-পাঁচ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। কারণ একটি ট্রিপ মারাতে দুইটা ট্রিপের সময় লাগছে। আর রাস্তা পুরোটাই ভাঙা। কি করবো বাধ্য হয়ে একটু বেশি নিচ্ছি।’
নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালী বাজার এলাকার সাইমা খাতুন। তিনি নিউ মার্কেট এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাকে প্রতিদিন যাওয়া আসা করতে হয় এই সড়কে। তিনি কাটাখালী থেকে গোরহাঙ্গা রেলগেট এলাকায় আসেন ১২ থেকে ১৫ টাকা। তার কাছে থেকে ৩০ টাকা ভাড়া চাওয়া হয়েছে। তিনি বাধ্য হয়ে ২৫ টাকায় কাটাখালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অটোরিকশায় রওনা হয়েছেন।
কিন্তু অটোরিকশা চালক বিনোদপুর বাজারে এসে ওই নারীকে অন্য অটোরিকশায় তুলে দেন। তিনি সেখান থেকে অন্য অটোরিকশায় ৫ টাকা ভাড়ায় কাটাখালী যান।

জেলার মোহনপুর থেকে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি বিনোপুর এসে তিনজনের ভাড়া দিলেন ৬০ টাকা। যেখানে অন্য দিন একজনের ভাড়া ১০ টাকা। সবমিলে ৩০ টাকা। কিন্তু তার কাছে থেকে ৩০ টাকা অতিরিক্ত বেশি নেওয়া হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা গতকাল সোমবার দুইদিন ব্যাপি শুরু হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ¯œাতক ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষা চলে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। এতে করে রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রাজশাহী-নাটোর সড়কে দেখা দেয় দীর্ঘ অটোরিকশার সারি। সেই সাবাদে এক শ্রেণির অটোরিকশা চালক (যাত্রী) শিক্ষার্থীদের থেকে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন।
আর সময়ের কথা ভেবে শিক্ষার্থীরা (যাত্রী) উঠছেন অটোরিকশা। আর বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা (যাত্রী) জানে না আসলে ভাড়া কত? সেই জন্য বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তাদের। আর প্রকৃত ভাড়া যেনোও লাভ হয়নি শিক্ষার্থীদের। কারণ অটোরিকশা চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া ছাড়া যাত্রীদের নিতে অপরাগত জানাচ্ছেন।
কুষ্টিয়া থেকে আসা পরীক্ষার্থী রিতা বলেন, তিনি রোববার নগরীর সাগরপাড়ায় খালার বাসায় উঠেছিলেন।
সাগরপাড়া থেকে তালাইমারী নর্দানের মোড় সাত টাকা ভাড়া। সেখানে তাকে দিতে হয়েছে ২০ টাকা। আর নর্দান মোড় থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতে অটোরিক্সা ভাড়া নিয়েছে ২০ টাকা।
রিতার বাবা নওশাদ জানায়, ‘অটোরিকশা চালকরা ডাবলের বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। অনেক সময় ডাবল ভাড়ায় খুসি হচ্ছেন না তারা। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেখা দরকার।’

SHARE