চারঘাটে কীটনাশক অপব্যবহারে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে কৃষক

16

স্টাফ রিপোর্টার, চারঘাট : নাকে-মুখে কোনো মাস্ক বা কাপড় নেই। হাতে নেই কোনো হাত মোজা বা গ¬াভস। কাঁধের মধ্যে ঝোলানো কিটনাশকের মেশিন। মুখে একটা বিড়ি নিয়ে মাঠে বিস্তিন্ন ধানক্ষেতে কিটনাশক স্প্রে করছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের কৈডাঙা গ্রামে ফজলু নামের এক কৃষক। ছবি তুলতে গেলে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘আমার গাঁয়ে (গ্রামে) সবাই তো জমিতে এমন করেই বিষ ছিটায়’। কৃষক ফজলু বলেন, বিষ গিলে খাইলেও আমার কিচ্চু হবে না, সারাজীবন তো এমন করেই (এ ভাবেই) সারা জমিত বিষ ছিটে আসতিছি (আসছি)’! উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ভরদুপুরে তাদের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। কারও নাকে-মুখে কোনো কাপড় বা মাস্ক নেই। অনেক কৃষককে দেখা গেল তারা টি-শার্ট পরে জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। কেউবা আবার ধানের জমিতে সারের সাথে আগাছানাশক মিশিয়ে গ¬াভস ছাড়াই হাত দিয়ে ছিটাচ্ছেন। কীটনাশকের প্যাকেট বা বোতলের গায়ে স্পষ্ট অক্ষরে ‘বিষ’ লেখা থাকলেও তা কেউ আমলেই নিচ্ছেন না। নিয়মনীতি না মেনেই এলাকার কৃষকরা যে যার মত করে জমিতে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন। ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের কৃষক আলতাফ আলী বলেন, জমিতে কীটনাশক স্প্রে করার বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। এমনকি এলাকার ব্লক সুপারভাইজার কীটনাশক প্রয়োগ বিষয়ের উপর কোনো পরামর্শ দেয় না। তিনি বলেন, ত্রিশ বছর থেকে কৃষি কাজ করি, একদিনও তো কোনো অফিসার এসে আমাদের গ্রামে আমাদেরকে কীটনাশক স্প্রে করার ব্যাপারে কোনো প্রশিক্ষণ দেননি বা সতর্ক করেননি। পরানপুর গ্রামের কৃষক শরীফ কে দেখা গেলো তিনি হাফহাতা শার্ট গায়ে দিয়ে জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। খালি গায়ে কেন এ কাজ করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে কথা ঘুরিয়ে তিনি বললেন, ‘বাড়িতে গিয়ে সাবান দিয়ে ভালো করে গা ধুইলেই তো সব পরিষ্কার হবে’। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চলতি বছরে চারঘাট উপজেলায় প্রায় চার হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান ও ১২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরণের সবজি ও ফল চাষ হচ্ছে। এসব জমিতে আমন ধান, সবজি ও ফল কে ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের হাত থেকে রক্ষা করতে কৃষকরা বিভিন্ন ধরণের কীটনাশক ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ‘সুষম তরল সার’ জাতীয় পিজিআর ভিটামিন ও হরমোন স্প্রে করছেন। উপজেলা বিসিআইসি সার ও কীটনাশকের ডিলার বাবুল আকতার বলেন, বিভিন্ন কীটনাশক পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি আমাদের যখন প্রশিক্ষণ দেন তখন তারা আমাদেরকে জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করার সময় নাকে-মুখে মাস্ক ও হাতে গে¬াভস ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর সেই পরামর্শগুলোই কীটনাশক বিক্রয়ের সময় আমি সাধারণ কৃষকদের দিয়ে থাকি। তে চাইলে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মোজাম্মেল হক বলেন, মুখে মাস্ক ও হাতে গে¬াভস ব্যবহার না করে কেউ কীটনাশক স্প্রে করলে তিনি বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। এ ছাড়াও ওই ব্যক্তি মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরানো, বমিবমি ভাব, চর্মরোগ, চোখ ও শরীরে এলার্জি, শ্বাসকষ্ট এমন কি ফুসফুসে বড় ধরণের রোগও হতে পারে। তিনি বলেন, কীটনাশক ব্যবহারের কারনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগী আমরা মাঝে মধ্যেই পাই।বিয়টি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর দরকার। এ ব্যাপারে চারঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুনজুর রহমান বলেন, কৃষকদেরকে উপজেলায় ডেকে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকৃষি অফিসারগণ মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদেরকে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলায় প্রায় ৪১হাজার কৃষক রয়েছেন।সবাই নিজে থেকে সতর্ক না হলে কীটনাশকের অপব্যবহার রোধ সম্ভব না।

SHARE