অবশেষে চালু হলো সেই বালুমহাল

29

স্টাফ রিপোর্টার : সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালু হয়েছে রাজশাহীর চর খিদিরপুর ও চরশ্যামপুর বালুমহালের কার্যক্রম। দেড়মাস পর রোববার সকাল থেকে এই বালুমহালের কার্যক্রম শুরু হয়। এবার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় এনে বালুমহালটি চালু করা হয়েছে। বৈধ-অবৈধ বিতর্ক এড়াতে এবং নিয়ম বহির্ভুতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে কি না তার রেকর্ড রাখতে এ বালুমহালে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজারাদার। বালুমহালটি চালু হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী এবং এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা।
হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনের রুলের বরাত দিয়ে গত ২৪ জুলাই রাজশাহী জেলা প্রশাসনের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত এই বালুমহালের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল। এ নিয়ে গত ২০ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগে আরেক রিট পিটিশনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ দেন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী রাজশাহী জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে বালুমহালটি চালু করা হয়েছে।
বালুমহাল ইজারাদার আজিজুল আলম বেন্টু বলেন, বালুমহালটিতে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর জন্য গত ২২ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনের সঙ্গে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের আইনজীবীর সার্টিফিকেট ও দৈনিক কজলিস্ট সংযুক্ত করা হয়েছে। যার কপি বিভাগীয় কমিশনারকেও দেয়া হয়েছে। এর পর বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। নিয়ম বহির্ভুতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে কিনা তা রেকর্ড রাখতে এবার এ বালুমহালে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইজারা অনুযায়ী চরখিদিরপুর ও চরশ্যামপুর মৌজার পদ্মার মধ্যচর থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে আসা হবে। এরপর সে বালু পদ্মা পাড়ের তার ইজারা নেয়া জায়গায় মজুদ করে সেখান থেকে ট্রাক যোগে পরিবহন করা হবে।
বালুমহাল ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রিট পিটিশনকারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছেন, রাজশাহী নগরের বুলনপুর এলাকার বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের রিট পিটিশনের (রিট নং- ৬২০১/১৯) ভিত্তিতে যে আদেশ প্রদান করা হয়েছে বা ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) রাজশাহীকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বা যে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা চরখিদিরপুর ও চরশ্যামপুর বালুমহাল ইজারা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আমিন ট্রেডার্স’ এর প্রতি প্রযোজ্য হতে পারে না।’ ফলে এ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের বাধা নেই।
অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, আনোয়ার হোসেন যে রিট পিটিশন (রিট নং- ৬২০১/১৯) করেছিলেন হাইকোর্ট তার উপর রুল জারি করেন। রুলে রাজশাহীর ডিসিকে পবা উপজেলা এলাকায় অবৈধ বালুমহাল বন্ধ করে হাইকোর্টকে জানানোর নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের এই রুলের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একটি বৈধ বালুমহাল বন্ধ করেছে। সেটি রুলের নির্দেশনা লংঘন হয়েছে বলে হাইকোর্ট বেঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন বলে জানান এই আইনজীবী।

আজিজুল আলম বেন্টু জানান, দরপত্রে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আমিন ট্রেডার্স’ চরশ্যামপুর ও চরখিদিরপুর মৌজার ১২০ একরের বালুুমহাল দুই কোটি দুই লাখ টাকায় ইজারা পায়। গত ১৪ এপ্রিল থেকে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়াও বালু পরিবহনের জন্য ইজারার শর্ত মোতাবেক (সুবিধাজনক স্থান দিয়ে বালু পরিবহন) চরশ্যামপুর মৌজার উত্তর পাশে বাজে কাজলা মৌজার পদ্মা পাড়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি লিজ নিয়ে মজুদ করা হয়। সেখান থেকে বালু পরিবহনের জন্য তালাইমারি সড়ক ব্যবহারে সিটি করপোরেশনের কাছে টোল ইজারা নেয়া হয়েছে। সব নিয়ম মেনে এ বালুমহালে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল বলেও জানান তিনি।
এদিকে, স্থানীয় এক পুরাতন ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বাজে কাজলা মৌজার পদ্মা পাড়ের ওই স্থান দিয়ে বালু পরিবহন হয়ে আসছে। এ কারণে ওই স্থানটি তালাইমারি বালুঘাট হিসেবে পরিচিতি পায়। প্রকৃতপক্ষে কাগজ কলমে কাজলা বা তালাইমারি বালুঘাট নামে কোনো ঘাট নেই। শুধুমাত্র পদ্মার বুক থেকে বালু উত্তোলন করে এ স্থান দিয়ে পরিবহন হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের জীবন জীবিকার একটি উৎস বালু পরিবহনের এই স্থানটি। এ পথে বালু পরিবহন চালু থাকলে এখানে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। তাই এটি ফের চালু হওয়ায় এ এলাকার মানুষ অত্যান্ত খুশি বলে জানান তিনি।

SHARE