শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষকের বিচার দাবিতে মানববন্ধন

36

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় গ্রেফতারকৃত অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালী পৌর এলাকার রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে আয়োজিত এ মানববন্ধনে কাটাখালির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করতে দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম রাজশাহীর কাটাখালীর আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ভূগোল বিভাগের শিক্ষক। গত ৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীর মায়ের দায়েরকৃত যৌন হয়রানি মামলায় রাতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং পরদিনই কারাগারে পাঠায়।

এদিকে কাটাখালি আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষকে দেয়া মোবাইল ফোনে বিয়ে ও কু-প্রস্তাবের মাধ্যমে বিরক্ত করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ কয়েক ঘণ্টা পর থানার গিয়েই বদলে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া কলেজেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হলেও এজাহারে বর্ণিত ঘটনার দিন কলেজে ছুটি চলছিল। ওইদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কেউই কলেজে যাননি বলে নিশ্চিত করেছেন কলেজটির অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম কাটাখালি পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। কাটাখালি পৌরসভার বিগত নির্বাচনে তিনি বর্তমান মেয়র আব্বাস আলীর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন। এছাড়াও তিনি পার্শ্ববর্তী শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সম্প্রতি তিনি ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে মেয়র আব্বাস আলীর প্যানেলকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন।

অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে ওই ছাত্রী ও মা কলেজে গিয়ে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে কু-প্রস্তাব ও বিয়ের জন্য একমাস ধরে মোবাইল ফোনে বিরক্ত করার লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগ পেয়েই তিনি সাত দিনের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য অভিযুক্তকে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেন। পরের দিনই পিয়নের মাধ্যমে অভিযুক্তের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কাটাখালি পৌর মেয়র আব্বাস আলীর সঙ্গে তার গাড়িতে করে কাটাখালি থানায় গিয়ে চক বেলঘরিয়ার ওই ছাত্রীর মা অধ্যাপক সিরাজুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রেকর্ড করে রাতেই পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই শ্যামপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মেয়র আব্বাস আলী এবং অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে আটটি পদেই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুলের প্যানেল বিজয়ী হয়। সূত্র মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে স্কুলের সভাপতি নির্বাচনের কথা রয়েছে। কিন্তু মেয়র আব্বাস তার পক্ষের একজনকে সভাপতি করতে সিরাজুলকে প্রস্তাব দেন। কিন্তু সিরাজুল মেয়রের সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। এনিয়ে উভয়ের দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়। ফলে একমাসের বেশি সময় পরেও সভাপতি পদে নির্বাচন আর হয়নি।

অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদিন বলেন, ঈদ-উল-আযহা, জাতীয় শোক দিবস ও শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গত ১০ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত কলেজে ছুটি চলছিল। কলেজের সর্বশেষ কার্যদিবস ছিল ৮ আগস্ট। ৯ আগস্ট ছিল শুক্রবার। ছুটি শেষে কলেজ খুলেছে ২৪ আগস্ট।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, এজাহারে উল্লেখিত ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনার তারিখ ২২ আগস্টও কলেজে ছুটি চলছিল। ছুটির দিনে কলেজ তালাবদ্ধ থাকে। ওই দিন কলেজে কারও আসার কথা নয়। এছাড়া কলেজে অধ্যাপক সিরাজুলের কোনো কক্ষ নেই। শিক্ষকদের কক্ষেই তিনি বসেন। কলেজে এ ধরণের ঘটনার অভিযোগ আগে কেউ করেনি। তবে যেদিন রাতে মামলা হয় সেদিন বিকেলে তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নগরীর কাটাখালি থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, বাদীর ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী মামলা রেকর্ড এবং আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার দিন কলেজে ছুটি চলছিল কিনা অথবা ওইছাত্রী অধ্যক্ষের কাছে কি অভিযোগ দিয়েছে সেটি তিনি জানেন না। বিষয়টি মামলা তদন্তের সময় খতিয়ে দেখা হবে।

SHARE