রাজশাহীর মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অটোরিকশা

26

স্টাফ রিপোর্টার : সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ১ আগস্ট দেশের মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর চার বছর পেরোতে চলেছে। কিন্তু বৃহত্তর রাজশাহীসহ উত্তরের জেলাগুলোর মহাসড়েকে অবৈধ অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়নি। কালেভদ্রে এ নিয়ে মহাসড়কে চেকপোস্ট ও পুলিশি অভিযান চালোনো হলেও কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছেনা অটোরিকশার দৌরাত্ম্য। অথচ দেখা গেছে মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানীর অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কম গতির এই অটোরিকশার চলাচল। গতবছর ঈদুল আজহার ছুটিতে নাটোরে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এর পর কয়েক দিন মহাসড়কে অটোরিকশাসহ অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধে অভিযান জোরদার করা হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার সপ্তাহ না পেরোতে আবারও আগের রূপেই ফিরে যায় মহাসড়ক। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহী-ঢাকা, রাজশাহী-নওগাঁ ও রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে দিন-রাত সমানতালে অটোরিকশা চলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা বড় যানবাহনগুলোর সাথে যাত্রী তোলা নিয়ে অসম প্রতিযোগিতাও করছে। বেশি ভাড়ার আশায় শহরে মধ্যে চলাচলা না করে কেউ কেউ রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে মহাসড়ক হয়ে আশপাশের উপজেলাসহ নিকটবর্তী জেলাগুলোতে যাত্রী পরিবহন করছে। তাদের বেশিরভাগেরই আবার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। মহাসড়কের প্রবেশ মুখগুলোয় পুলিশ থাকলেও তারা কেবল মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই নিয়েই ব্যস্ত। তাদের পাশ দিয়ে অটোচালকরা নির্বিঘ্নে চলাচল করে। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ রাজশাহী জেলা শাখা কমিটির সভাপতি তৌফিক আহসান টিটু বলেন, ‘মহাসড়কে দ্রুত এবং ধীরগতির বাহন একসাথে চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। মহাসড়কে যদি বিভিন্ন গতির যানবাহন একসাথে চলে এবং সেগুলোর মধ্যে যদি গতির পার্থক্য বেশি হয়, তাহলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তার কথায়, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করতেই হবে’। তবে রাজশাহী উইমেন চেম্বারের চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা রোজেটি নাজনীন বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা, সিএনজি চালিত অটোরিকশা কিংবা লেগুনা এবং নসিমন-করিমনের মতো বাহনগুলো গ্রামীণ সমাজের মানুষের জীবনে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এতে সময় এবং খরচ দুটোই কম লাগে। তাদের বিকল্প ব্যবস্থা না করে এসব বাহন বন্ধ করা ঠিক হবে না বলেও মনে করেন তিনি। একইভাবে রাজশাহী মহানগর অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এমন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অমানবিক’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘মাথা ব্যথা হলে মাথা কাটতে হবে? না তা করলে সমস্যার সমাধান হবে না। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে হাজার হাজার অটোরিকশা চালক-মালিকের ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ও সংশোধ হওয়া জরুরি। সেই পর্যন্ত রুটি-রুজির তাগিদে অটোরিকশা চালকরা মহাসড়কে থাকুক বলেও মন্তব্য করেন এই শ্রমিক নেতা। আর রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মনজুর রহমান পিটার বলেন, তারা দীর্ঘ দিন থেকে মহাসড়কে কম গতির ছোট যানবাহনগুলোর চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। কারণ দুর্ঘটনার জন্য এই যানবাহনগুলো অনেকাংশেই দায়ী। বাস মালিক-চালকরা তাই এই নিয়ে আন্দোলনও করে আসছেন। মাঝেমধ্যে ধর্মঘটও ডাকা হয়। কিন্তু লাভ হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মহাসড়কে ছোট যানবাহন চলাচল করছেই। এ ব্যাপার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতে খায়ের আলম বলেন, মহাসড়েক যেন কোনো ধরনের অটোরিকশা চলাচল করতে না পারে সেই ব্যাপারে নির্দেশনাে আছে। রাজশাহী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ সকল থানাকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের পুঠিয়া এলাকায় অটোরিকশা আটক করে পুকুরে ফেলেও দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। এছাড়া মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে নিয়মিতভাবে অভিযান চালানো হয় বলেও জানান জেলা পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

SHARE