বিএমডিএ’র আট প্রকৌশলীকে পুনর্বহাল

18

স্টাফ রিপোর্টার : বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) স্ট্যান্ডরিলিজ করা আট প্রকৌশলীকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ওই আদেশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তা বাতিল করা হলো। জানা গেছে, কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিক ওই আদেশ স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার দুপুরে আদেশটি প্রত্যাহার করা হয়। বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশিদ জানান, বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওই আট কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু রোববার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই ওই বদলি আদেশ স্থগিত হয়েছে। ফলে আপাতত তারা আগের পদেই পুনর্বহাল থাকলেন। তবে বদলিটা স্থগিত করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো মুহূর্তে তাদের বদলি করা হবে। আর আট প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ডরিলিজের কারণ দুর্নীতি বলে প্রচার হলেও তা সত্য নয়। প্রশাসনিক বদলিজনিত কারণে তাদের বদলির আদেশ দেয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন নির্বাহী পরিচালক। পুনর্বহাল হওয়ায় ওই আট কর্মকর্তা হলেন, বিএমডিএ’র প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হোদা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবুল কাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) তরিকুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খান, জয়পুরহাট রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন্ত কুমার বসাক, রাজশাহীর পবা জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাহাত পারভেজ ও দুর্গাপুর জোনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শামসুল আলম। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএমডিএ কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা অভিযোগ তদন্ত শুরু করেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তারা ওই দফতরে অবস্থান করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চালান। পরে সাত কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পান। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করে তারা দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠান। এদিকে, ওইদিন বিকেলে বিএমডিএ চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী এক আদেশে এই আট কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ডরিলিজ করেন। ওই আদেশ অনুযায়ী আজকের মধ্যেই তাদেরকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেয়ার কথা ছিল। জানতে চাইলে বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আবদুর রশীদ বলেন, এগুলো স্ট্যান্ড রিলিজ নয়। বিভিন্ন পদে রদবদল করা হচ্ছিল। চেয়ারম্যানের নির্দেশে সচিব এবং আমি বদলির আদেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু ‘উপর মহলের’ নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়েছে। ‘উপর মহল’ কে তা জানতে চাইলে আবদুর রশীদ বলেন, সেটা চেয়ারম্যানের চেয়েও বড়। সেইভাবে কারও নাম বলা যাবে না। বিএমডিএ’র সচিব আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমি ঢাকায়। বদলির আদেশের বিষয়টি জানি। কিন্তু আদেশ স্থগিতের বিষয়টি জানা নেই। কথা বলতে বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরীকেও ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরার কারণে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিএমডিএ। সম্প্রতি পুকুর খননে প্রশিক্ষণ নিতে বিএমডিএ’র একটি প্রকল্পের এক কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬ জন সরকারি কর্মকর্তার বিদেশ সফরের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অডিট আপত্তি, ৫০ লাখ টাকার হিসাব জালিয়াতি, চলমান প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি পরিপত্র অমান্য করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেতন স্কেল দেওয়া ও পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহারসহ ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সাম্প্রতি লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিএমডিএ’র প্রধান কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে দুদক। অভিযানে প্রাথমিক তদন্তে প্রায় সাত কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পান দুদক কর্মকর্তারা।

SHARE