রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে বেড়েছে মাদকদ্রব্যের প্রবেশ, সতর্ক বিজিবি

26

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে হঠাৎ করেই ফেনসিডিল পাচার বেড়েছে। গত আট মাসে ২১ হাজার ১৫৪ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের চোরাচালান প্রতিরোধে তাই সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি)-১ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। বর্তমানে তারা দিনরাত কাজ করছেন।
গতকাল রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিজিবি-১ ব্যাটেলিয়নের নতুন অধিনায়ক লে. কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ এ তথ্য জানান। মতবিনিময় সভায় বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পরিচালক মেজর আসিফ বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।
ফেরদৌস মাহমুদ বলেন, রাজশাহীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে। যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আবার নদীপথ। চোরাকারবারিরা তাই এই রুটে মাদক চোরাচালানের নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে।
আর ইয়াবা ট্যাবলেট পাশের দেশ মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তবে বর্তমানে তা ভারতীয় সীমান্ত দিয়েও দেশে প্রবেশ করছে বলে জানান বিজিবির অধিনায়ক।
ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন বলেন, চোরাকারবারিদের সঙ্গে পাল্লা দিতে বিজিবি সদস্যরাও নিজস্ব প্রযুক্তি ও সোর্সকে কাজে লাগিয়ে ফেনসিডিলসহ মাদকের চোরাচালানগুলো জব্দ করছেন। ফলে রাজশাহী সীমান্তের কোনো না কোনো রুট থেকে প্রতিদিনই মাদকের চালান জব্দ হচ্ছে।
তিনি জানান, গত জানুয়ারি থেকে রোববার পর্যন্ত স্থানীয় বিজিবি সদস্যদের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ব্যাটালিয়নের গুদামে রাখা হয়েছে। শিগগিরই তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হবে।
তথ্যানুযায়ী, গত আট মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ফেনসিডিল ২১ হাজার ১৫৪ বোতল, ইয়াবা আট হাজার ২৭৫ পিস, হেরোইন ৭৪৩ গ্রাম, গাঁজা ৬৩ কেজি, ভারতীয় মদ ৩২৪ বোতল, গেলিসিক্স ইঞ্জেকশন এক হাজার ১২০ পিস।
এছাড়া বিজিবির সহযোগিতায় রাজশাহীর করিডোর দিয়ে বৈধ পথে ২২ হাজার ৭৭১টি গবাদিপশু আমদানি করা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা। আমদানি হওয়া পশুর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ঘোড়া, ১১ হাজার ৪৬৮টি গরু এবং ১১ হাজার ২৯৮টি মহিষ।

SHARE