রাজশাহীতে ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

19

স্টাফ রিপোর্টার: বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সোমবার  রাজশাহীতে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ-উল-আজহা। মুসলমানদের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ অনুয়ায়ী পশু কোরবানি দিচ্ছেন। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন ঈদের জামাতে সমাবেত হন  মানুষ। নামাজ আদায়ের পর মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্বের শান্তি কামনা করা হয়।

ভোরে আকাশে সামান্য মেঘ থাকলেও রৌদ্রজ্জ্বোল হয়ে ওঠে সকাল। এর পর থেকেই চলছে মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা। তবে এখন পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে তাই গুমট আবহাওয়া আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই ঈদ উদযাপন চলছে রাজশাহীবাসীর।

হজরত শাহ্ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারি-বেসরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ এক কাতারে শরিক হয়ে ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন।

ঈদের নামাজের পর মহানগরীর মোড়ে মোড়ে ধর্মপ্রাণ মানুষ কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন পশু কোরবানি নিয়ে।

ঈদের এই প্রধান জামাতে সতর্ক অবস্থায় ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে দৃষ্টি রাখা হয়েছিল ঈদগাহ ও এর আশপাশের রাস্তাগুলোর দিকে।

রাজশাহীতে একই সময় ঈদের দ্বিতীয় বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে নগরীর টিকাপাড়া ঈদগাহ ময়দানে। একই সময় রাজশাহীর অন্যতম বড় ঈদের জামাত হয়েছে নগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায়।

তবে নগরীতে প্রথম দুটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টায়। নগরীর আমচত্বর আহলে হাদীস মাঠ এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ দুটি ঈদ জামাত।

এদিকে, ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন, তালাইমারী কিউবিক চত্বর, ভদ্রা স্মৃতি অম্লান, সিএনবির মোড় বিমান চত্বর সুসজ্জিত করা হয়েছে।

ঈদের আগের দিন থেকে রাতে এ সড়কগুলিতে আলোকসজ্জা শোভা পাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রধান সড়কে জাতীয় পতাকা ছাড়াও ‘ঈদ মোবারক’ এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাললাহ্’ খচিত রংবেরঙের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে। হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু সদন, শিশু নিবাস, সেফ হোম, ছোট মণি নিবাস, শিশুপল্লী ও এতিমখানাগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। ঈদের জামাত আদায়কালে মহানগরজুড়ে র‌্যাব ও পুলিশ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ-উল-আজহা উদযাপনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সে ব্যাপারে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কোথাও কোনো অপরিচিত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেলে নিকটস্থ থানা অথবা পুলিশ ফাঁড়িকে জানানোর জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া পাড়া-মহল্লায় কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা নিয়ে যেনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। তবে শান্তি, সৌহার্দপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশেই ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি বলেও জানান পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

রাজশাহী জেলা ও মহানগরীর অন্যান্য ঈদগাহগুলোতে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজের সময় রাজশাহীর কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে মুসল্লিরা ঈদগাহেই ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরেছেন।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে রাজশাহীর হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশু পল্লী, শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সেফ হোম এবং অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

SHARE