নগরীতে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

36

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফারদিন আশারিয়া রাব্বিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মহানগরীর হেতেমখাঁ ও বর্ণালীর মোড় এালাকার মাঝামাঝি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বির বাড়ি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানার মমিনপুর গ্রামে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে নিহত কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি ছিনতাইকারীদের আঘাতে রাব্বি নিহত হয়েছেন প্রাথমিকভাবে তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। বর্তমানে এ ব্যাপারে ওই এলাকার আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করা হয়। এ সময় রাব্বির মাথার ওপরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। মাথা থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য কলেজছাত্র রাব্বি ট্রেন ধরতে রেলওয়ে স্টেশনে যাচ্ছিলেন। ভোরে ফজরের আযানের পর পরই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যার পর সেখানে মরদেহ ফেলে রেখে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার ব্যাগ, মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন পড়েছিল। গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, তার পরিচয় সনাক্তের পর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। বাড়ি যাওয়ার আগে রাব্বি রওনা দেওয়ার কথা পরিবারকে জানিয়ে ছিলেন রাব্বি। ভোরে ছাত্রাবাস থেকে বের হওয়ার সময় বোনের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার। বোনের সাথে কথা বলার কিছুক্ষণ পর পরই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বারবার তার মেবাইলে ফোন করেও পাচ্ছিলেন না। মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহের কাছে পাওয়া তার মোবাইল ফোন থেকেই রাব্বির পরিবারের সঙ্গে কথা হয় পুলিশের। আর পুলিশের কাছে থেকেই পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে, রাব্বি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এরই মধ্যে তারা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি। তবে অভিযান শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হবে বলেও জানান মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস। আরএমপির মুখপাত্র আরও জানান সম্ভাব্য সকল কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পর রাব্বির ট্রাভেল ব্যাগ, মানিব্যাগ এমন কি মোবাইল ফোনটিও ঘটনাস্থলেই পড়েছিল। পুলিশ সেগুলো জব্দ করেছে। এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয় নি। তবে আশা করা হচ্ছে, খুব কম সময়ের মধ্যেই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য বেরিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, নিহত রাব্বি ট্রেনে করে বাড়ির যাওয়ার উদ্দেশ্যে আনুমানিক ভোর ৬টার দিকে মেস থেকে বের হয়। এরপর সাড়ে ৬টার দিকে তাকে সাবেক বর্ণালী হলের পেছন সাইডে হেতমখাঁ রাসত্মায় তার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে স’ানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়।
তিনি বলেন, নিহতের পেছন দিক থেকে ধারালো কোন অস্ত্র বা চাপাতি দিয়ে হামলা করা হয়েছে। তার মাথার পেছন মারাত্মক জখম রয়েছে এবং ঘটনাস’লে তার কাপড় ভর্তি ব্যাগ ও মোবাইল পাওয়া গেছে। ওসি আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস’ল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদনত্ম শেষে তার পরিবারের কাছে হসত্মানত্মর করেছে। এ ব্যাপারে পরিবারের পড়্গ থেকে থানায় মামলা হয়েছে।

SHARE