ঈদের ছুটিতে বাড়তি সতর্কতা কাম্য

25

ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হারে এখনও তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। শনিবারও ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৬৪৯ রোগী ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখনও ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা ঢাকাতেই সবচেয়ে বেশি। সামনে ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ছেড়ে মানুষ গ্রামের বাড়িতে যাবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত অর্ধকোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে দেশজুড়ে নিজেদের গ্রামের বাড়িতে যাবেন। এতে করে জ্বরাক্রান্তরা গ্রামাঞ্চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে পারে ভাইরাসটি।

ফলে জ্বরাক্রান্তদের জ্বর নিয়ে গ্রামে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির পক্ষ থেকে। আমরা মনে করি, গ্রামাঞ্চলে জ্বরটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছাড়াও নিজেদের যথাযথ চিকিৎসার জন্য ডেঙ্গু আক্রান্তদের ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে না যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

ঈদের ছুটিতে টানা বৃষ্টি বা টানা রোদ হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসতে পারে; কিন্তু যদি থেমে থেমে বৃষ্টি হয় তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে তাতে সন্দেহ নেই। এরই মধ্যে মধ্য আগস্ট তথা ঈদের ছুটির সময় থেকে বৃষ্টিপাত ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে আবহাওয়া সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। ফলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বাড়তি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়ার বিকল্প নেই।

এরই মধ্যে অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের সব কর্মীর ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে; একই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেলায়ও। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ঢাকার বাইরে সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।

ফেনীর সিভিল সার্জন ছুটিতে রয়েছেন। গত তিন দিন ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এভাবে অন্যরাও যদি সরকারের নির্দেশনা পালনে অবহেলা করে তবে প্রয়োজনের মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বৈকি।

আমাদের সমস্যা হল যখন মাথাব্যথা হয়, তখন মাথাব্যথার ওষুধ কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়া এবং অনেক মানুষের প্রাণহানির পর মশক নিধনের কীটনাশক কেনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। অথচ তাদের প্রধানতম কাজটিই হল মশক নিধন ও নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

বলার অপেক্ষা রাখে না, মানসম্মত কীটনাশকের অভাব এবং নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালু না রাখার কারণেই বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঈদের ছুটির সময়ে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে চিন্তিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এখন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের উচিত হবে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণে যেন কোনো ধরনের হেলাফেলা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।

ঢাকার বাইরে বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সেটি বলার উপায় নেই। আগস্ট মাসের প্রথম তিন দিনে ঢাকায় যেখানে ৫ হাজার ৮৪ রোগী ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন, বাইরে সেখানে এ সংখ্যা ২ হাজার ৩৮১।

জানুয়ারি থেকে সরকারি হিসাবে ২২ হাজার ৯১৯ রোগী ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৪৭। চিকিৎসাধীন আছেন ৬ হাজার ৮৫৮। মারা গেছেন ১৮ জন। যদিও এ সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার কথা।

ঢাকার বাইরে সমস্যা হল ডেঙ্গুর চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। নেই প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞ ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান। এ অবস্থায় ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সব ধরনের আগাম ব্যবস্থা নিয়ে রাখতে হবে।

SHARE