পবায় আ’লীগ প্রার্থীদের জয়জয়াকার

84

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থীদের জয়জয়াকার। বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলাফলে জানা যায়, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুনসুর রহমান। উপজেলা আওয়ামী লীগের এই সভাপতি ‘নৌকা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত ‘হাতুড়ি’ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক এসএম আশরাফুল হক তোতা পেয়েছেন ৬ হাজার ৬১১ ভোট। মঙ্গলবার রাতে এই ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে মঙ্গলবার পবায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা থেকে উপজেলার ৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। পরে গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আরও একজন প্রার্থী ছিলেন। তার নাম আফজাল হোসেন সুমন। ৭৯ কেন্দ্রে স্বতন্ত্র এই প্রার্থী ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৪২ ভোট। নির্বাচনে ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ‘তালা’ প্রতীকের প্রার্থী পবা উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি ওয়াজেদ আলী খান । তিনি পেয়েছেন ১৬ হাজার ১৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ‘বই’ প্রতীকের প্রার্থী আবদুর রাজ্জাক পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪৯৯ ভোট। এছাড়া অপর তিন প্রার্থীর মধ্যে ‘মাইক’ প্রতীকের প্রার্থী এএফএম আহসান উদ্দিন ৬ হাজার ২৮৮, ‘উড়োজাহাজ’ প্রতীকের প্রার্থী রবিউল জামাল বাবলু ৩ হাজার ২৬৬ এবং ‘টিউবওয়েল’ প্রতীকের প্রার্থী আলমগীর হোসেন ২ হাজার ১৫৬ ভোট পেয়েছেন। এদিকে মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ‘কলস’ প্রতীকের প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেত্রী আরজিয়া বেগম । তিনি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি রিতা বিবি ‘ফুটবল’ প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৩৪২ ভোট। অপর প্রার্থী সুফিয়া বেগম ‘হাঁস’ প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ২১১ ভোট। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপেই রাজশাহীর অন্য উপজেলাগুলোর সঙ্গে পবারও ভোট গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কথা বলে উচ্চ আদালতে করা এক রিটের কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এরপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে পঞ্চম ধাপে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এবারও রিট হয় উচ্চ আদালতে। তবে আদালত এবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষেই রায় দেন। ফলে এ উপজেলার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলো। অবশ্য এরও আগে ২০১৫ সালে একই কারণে তফসিল ঘোষণার পরও চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। অবশেষে দীর্ঘ দিন পর পবার ভোটাররা উপজেলা নির্বাচনের ভোট দিলেন। পবায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ১২৭ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদের প্রতীকে ৪৪ হাজার ৬০০ জন ভোট দেন। এর মধ্যে বাতিল হয়ে গেছে ১ হাজার ৬২৮টি ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রতীকে মোট ভোট পড়ে ৪৪ হাজার ৫৩১ ভোট। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ২ হাজার ১৪৮ ভোট। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রতীকে ভোট পড়ে ৪৪ হাজার ৫৩৮টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৬৬৭ ভোট। প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ভোটার ভোটকেন্দ্রেই যাননি।

SHARE