রাজশাহীতে ট্রাফিক সার্জেন্ট লাঞ্ছিত

201

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর সড়কে নিয়মিত চেকিং-এর সময় ট্রাফিক সার্জেন্টের সাথে অসৌজন্য মূলক আচণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে নগরীর আমচত্ত্বর এলাকায় কর্তব্যরত ট্রফিক প্রাইভেট কারের চালকের কাছে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে চালকের সাথে থাকা একজন নারী কর্তব্যরত সার্জেন্টসহ বাংলাদেশের পুলিশকে অশ্লিল ভায়ায় গালি দিয়ে বলেন, কিছুদিন আগে এতো কিছু হয়ে গেল তাও লজ্জা নাই না। এসময় প্রত্যক্ষ দর্শীরা পুরো বিষয়টি ভিডিও করেন।
গালি দেয়া সেই নারী গাড়ি চালকের মেয়ে বলে জানা গেছে। চালকের নাম দেবেন্দ্রনাথ বর্মন। তর্কের এক পর্যায়ে চালক নিজেকে নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেলদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছেন। তবে পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি তানোর উপজেলার মুন্ডুমাল পৌরসভার বাসিন্দা ভবানী চন্দ্র বর্মন এর ছেলে। বর্তমানে রাজশাহী নগরীর একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) নগরীর আমচত্ত্বরে নিয়মিত ট্রাফিক চেক পোস্ট বসিয়ে থাকেন। নগরীর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটিতে শনিবার সকাল থেকে সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট তোহা ও তার সঙ্গীয় ট্রাফিক কন্সটেবলগণ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য মতে, দুপুর আনুমানিক ১২টার পর পবার দিক থেকে আসা নীল রংয়ের একটি টাটা ন্যানো (ঢাকা মেট্রো ক ১২-০২৫৬) গাড়িকে ট্রাফিক পুলিশ থামতে বলে। গাড়ি চালানো অবস্থায় সিট বেল্ট পরে থাকার নিয়ম থাকলেও ড্রইভার সেই সময় সিট বেল্ট পরে ছিলেন না। গাড়িটি থামলে, চালকের কাছে গাড়ির কাগজসহ ড্রইভিং লাইসেন্স আছে কিনা জানতে চান ট্রাফিক পুলিশ। চালক প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। পাশে থাকা সার্জেন্ট তোহা বিষয়টি লক্ষ করে গাড়িটির কাছে যান। সার্জেন্ট তোহা তখন চালকে আবার কাগজ দেখাতে বললে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। আশপাশে লোকজন জড়ো হয়ে গেলে, একপর্যায়ে তিনি গাড়ির ব্লুবুকটি বের করে সার্জেন্টের হাতে দেন। তবে গাড়ির কাগজ চালকের নামে না থাকলেও তিনি গাড়িটি নিজের বলে দাবি করেন।
এসময় গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজ সহ ড্রইভিং লাইসেন্স না দেখান ও চালক সিটবেল্ট পরে না থাকার দ্বায়ে সার্জেন্ট কেস লিখতে গেলে চালক সার্জেন্টের হাতে থাকা গাড়ির ব্লুবুবটি কেড়ে নেন এবং তাকে ধমক দিয়ে বলতে থাকেন, ‘নিটোল মটর্স এর নামে মামলা দেন। আমার নামে কোন মামলা দিবে না।’
একপর্যায়ে চালকের সাথে থাকা তার মেয়ে উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে একটি অশ্লিল ভাষায় গালি দেয় (‘পুলিশ কোন চ্যা.. বা.’) এবং বলতে থাকে, ‘আমাকে দেখে নেন ভালো করে, আজকেই দিবেন হেড লাইন্স। আপনাদের (পুলিশদের) জানা আছে। কিছুদিন আগে এতো কিছু হলো, তাও লজ্জানাই আপনাদের, না’। এসময় সার্জেন্ট গাডি চালকের পরিচয় জানতে চাইলে মেয়েটি তার বাবাকে (চালকে) উদ্দেশ্য করে বলেন, পরিচয় দিবা না। পরে জানতে পারবে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, সার্জেন্ট আর সবার কাছে যে ভাবে কাগজ (গাড়ির ও ড্রাইভিং লাইসেন্স) দেখতে চান সেভাবেই চেয়েছিলেন। তবে ওই চালক ও তার সাথে থাকা দুইজন মহিলা সার্জেন্ট সহ পুলিশদের সাথে খারাপ আচরণ করে। তারা পুলিশকে গালি দিয়েও কথা বলেছে।

ঘটনার পর সার্জেন্ট তোহার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, চালক সিট বেল্ট পরে ছিলেন না এবং তিনি কর্তব্যরত পুলিশকে ড্রইভিং লাইসেন্সসহ গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়া গাড়িটি তার নামেও রেজিস্ট্রি নাই। এবিষয়ে তাকে মামলা দিতে গেলে তার সাথে থাকা একজন নারী আমাকে সহ সকল পুলিশকে উদ্দেশ্য করে গালি দেন। পরে চালক গাড়ির ব্লুবুক বের করে দেন। এসময় তার নামে বিধিসম্মত উপায়ে মামলা দিতে গেলে তিনি সেই ব্লুবুকটি আমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেন। সার্জেন্ট আরও জানান, পুরো বিষয়টি পাশে থাকা পুলিশসহ স্থানীয় জনগণের সামনেই ঘটেছে। শাহমখদুম থানা পুলিশকে এবিষয়ে অবগত করা হলে তারা আসেন এবং থানা পুলিশের সামনেও চালাকসহ তার সাথে থাকা দুইজন নারী আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজ করেন।
আরএামপি’র মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, ঘটনার পর চালকসহ গাড়িটি শাহমখদুম থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় তিনি তার দুর্ব্যবহারের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে পুলিশের কাজে বাঁধা দেয়ায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত এর আগে গত মাসে ঢাকায় ও গেল সপ্তাহে চট্টগ্রামে দুইজন নারী সড়কে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে তাদের কাজে বাঁধা প্রাদনের পাশাপাশি তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। যে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরার হয়।

SHARE