আজ পদ্মাসেতু পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

186

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার পদ্মাসেতু পরিদর্শনে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া যাচ্ছেন। তাঁর সফরের আগে ষষ্ঠ স্প্যানটি জোড়া লাগানোর ফলে এখন মাওয়া প্রান্ত থেকে দেখা যাচ্ছে পদ্মা সেতু। গত শুক্রবার সকালে মাওয়ার দিকে সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির উপর ধূসর রংয়ের ‘১এফ’ নম্বরের ষষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হয়। আজ রোববার মাওয়া সফরে এসে সেতুর নামফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উদ্বোধন করবেন সেতুর ৬০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি, রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ, মাওয়া-কান্দিপাড়া-যশোলদিয়া এলাকায় ১৩০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষামূলক কাজ উদ্বোধন করবেন। তিনি একটি জনসভায়ও বক্তব্য রাখবেন। এজন্য পদ্মা সেতুর মাওয়া টোল প্লাজার পাশের গোল চত্বরে তৈরি হয়েছে জনসভার মঞ্চ। নৌকার আদলে তৈরি করা এই মঞ্চ ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনির প্রস্তুতি চলছে। প্রায় তিন বছর পর শেখ হাসিনার মাওয়া সফর নিয়ে প্রশাসনে এখন তুমুল ব্যস্ততা। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম সভাস্থল পরিদর্শনসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক অবদান পদ্মা সেতু, এখানে আমাদের কোনো কৃতিত্ব নেই। নেত্রীর নির্দেশ ও পরিকল্পনায় এই পদ্মা সেতু।
জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে মাওয়ার দোগাছির পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়ার-১ এর মাঠে নামবেন। এরপর গাড়িতে যাবেন সেতু এলাকায়। মাওয়া থেকে গিয়ে বিকালে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ওপারের জাজিরা প্রান্তে ইতোমধ্যে পাঁচটি স্প্যান বসানো হয়েছে। এখন এই প্রান্তেও একটি স্প্যান বসল। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আনপ্রেডিকটেবল নদী পদ্মা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আমাজন থেকেও পদ্মা নদী বেশি আনপ্রেডিকটেবল। তবে খুশির সংবাদ হল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে গত শুক্রবার মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যান বসেছে। মাওয়া প্রান্তে সদ্য তোলা স্প্যানটি ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটির উপর বসানোর কথা ছিল। কিন্তু খুঁটি দুটো প্রস্তুত না হওয়ায় এবং কুমারভোগের বিশেষায়িত ওয়ার্কশপে জায়গা না থাকার কারণে স্প্যানটি অস্থায়ীভাবে ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির উপর তোলা হয়েছে। ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটি উঠে যাওয়ার পর স্প্যানটি সেখানে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অথচ সর্বপ্রথম এই খুঁটি দুটিরই কাজ শুরু হয়েছিল। সেই অনুযায়ী চীন থেকে সর্বপ্রথম ‘১এফ’ স্প্যানটি বাংলাদেশে এসেছিল। নদীর তলদেশে মাটি নরম থাকার কারণে এই খুঁটির নকশা পরিবর্তন করতে হয়। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ৭ নম্বর খুঁটিতেই পাইল স্থাপনের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে মূল সেতুর কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। পদ্মা সেতুর ৪২টি খুঁটিতে ৪১টি স্প্যান বসবে। এর মধ্যে ১৪টি খুঁটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। আর নদীতে ১৮০টি পাইল স্থাপন করা হয়েছে।

SHARE