বিএনপি এখন বেসামাল হয়ে পড়েছে : কাদের

165

অনলাইন ডেস্ক : বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তাদের কোনো নীতি নৈতিকতা নেই। তারা এখন বেসামাল হয়ে পড়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপিরই লোক, তাই সেনাপ্রধানকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার না করলে বিএনপিকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সেতু নির্মাণ কাজ পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিষফোঁড়া হিসেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার আসামিদের মতো ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার ঘটনায় হত্যায় জড়িতদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে বিএনপির নির্ধারিত একটি অংশ। এ ঘটনায় বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ড. কামাল হোসেন ও ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আর যারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নীতি আদর্শের কথা বলেন, তারা এখন যোগ দিয়েছেন খুনি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। এসময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শালীনতা বজায় রেখে কথা বলার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিক্ষিত রেল সংযোগেরও উদ্বোধন হবে: এদিকে, গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের টোলপ্লাজার কাছে মঞ্চ পরিদর্শন শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ যুক্ত হচ্ছে, যা জনদাবি ছিল। বহু প্রতিক্ষিত সেই রেল সংযোগেরও কাল (আজ রোববার) উদ্বোধন হবে। এটাও একটা নতুন ডায়মেনশন। অধীর আগ্রহে কালকের দিনের জন্য অপেক্ষা করছি। এসময় তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণে আপনারা ঝড়, বৃষ্টি, কুয়াশা উপেক্ষা করে এমনকি ঈদের দিনেও আমার পাশে ছিলেন। নিউজ কভারেজ দিয়েছেন। এজন্য অবশ্যই আপনাদের ধন্যবাদ প্রাপ্য। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। সতর্কভাবে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব। মন্ত্রী আরো বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণে যেসব সফলতা, অবদান ও কৃতিত্ব সবকিছু বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। দৃশ্যমান পদ্মাসেতু শেখ হাসিনার একক সাহসী নেতৃত্বের সোনালী ফসল। এখানে অন্য কারো কোনো অবদান নেই। অত্যন্ত সংকটের সময় তিনি আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখন বিশ্ব ব্যাংক সেতু নির্মাণে অর্থায়ন করবে না বলে সরে গিয়েছিল। তিনি আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা বিপদসংকুল। কিন্তু আমি আমার লিডারের দেওয়া সেই দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করেছি। আমি একা নই, এখানে একটি দল কাজ করেছে। এখানে সচিব, পিডি, সেনাবাহিনীর মূল্যবান অবদান ছিল। ওবায়দুল কাদের বলেন, এমন একটা সময় ছিল যখন হলি আর্টিজান হামলার পর পদ্মাসেতুতেও হামলার ষড়যন্ত্র ছিল। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি এ ক্ষেত্রে কতটা কাজে লেগেছে তা বাস্তবে হাড়ে হাড়ে আমি টের পেয়েছি। অস্বীকার করার কিছু নেই। বিদেশি প্রকৌশলী, পরামর্শকরা চলে যেতে চেয়েছিলেন। এইরকম প্রতিকূল পরিবেশে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাহস যুগিয়েছে। বাস্তবে এই সত্যতা অস্বীকার করার কিছু নেই। অস্বীকার করার কিছু নেই পদ্মা পাড়ের মানুষের অবদান। শিবচর, জাজিরা, লৌহজং, শ্রীনগর উপজেলার জনগণ, জনপ্রতিনিধি সীমাহীন কষ্ট স্বীকার করেছেন। পৈত্রিক সম্পত্তি ছেড়ে দিতে হয়েছে। পৈত্রিক সম্পত্তি ছেড়ে দেওয়ার বেদনা অংকুরে বিদ্যমান। সেই ত্যাগ স্বীকার করেছেন এই দুই পাড়ের মানুষ। পদ্মাসেতু নির্মাণ এই পর্যায়ে আসার পেছনে উভয় পাড়ের জনগণের সীমাহীন ত্যাগ ও অবদান রয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন-মুন্সিগঞ্জ ২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

SHARE