বাঘায় নতুন ড্রেন পানি নিস্কাশন বন্ধ, জনদুর্ভোগ

138

বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেন নির্মান করার কারণে ৮ মাসেয় পানি নিস্কাশন বন্ধ। সরকারের প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যায় এসব ড্রেন এখন বন্ধ। ফলে বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসীরা।

জানা গেছে, বাঘা পৌরসভা থেকে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাছ আলী গত ডিসেম্বর মাসে তাঁর নির্বাচনী মেয়াদ শেষ হওয়ার পুর্বে উপজেলার পুরাতন বাসটার্মিনাল-সড়কঘাট পদ্মানদী পর্যন্ত ৬ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি ড্রেন নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।

একই সাথে বলিহার চ্যাংমারি কালভাট থেকে বাঘা বাজার পূর্বপ্রান্তের ক্যানেল পর্যন্ত ৩ কোটি টাকা ব্যায়ে অনুরুপ একটি ড্রেন নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।

যাতেকরে বৃষ্টির সময় রাস্তাসহ আশ-পাশের পানি ড্রেনের মাধ্যমে যাতে করে নদী এবং ক্যানেলে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেটি হচ্ছে না। কারণ পরিকল্পনা মাফিস এই ড্রেন নির্মান করা হয়নি এমনটি অভিযোগ স্থানীয়দের। এর ফলে হালকা বৃষ্টি হলে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে হাটু পানি জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার পর বাঘা বাজারে গিয়ে দেখা যায় একটি স্থানে প্রায় হাটু পরিমান পানি জমে আছে। অথচ সেই পানি ড্রেন দিয়ে নামছে না। অপর দিকে বাঘা পুরাতন বাস টার্মিলালে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর দিকের পানি দক্ষিনের পদ্মায় না গিয়ে বিপরিত দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে সেখানেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বাঘা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল মানিক বলেন, এটা নতুন কোন ঘটনা নয়, বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাসহ দোকানের সামনে পানি জমে। আমরা ব্যবসায়ীরা ভেবে ছিলাম নতুন ড্রেন হওয়ার পর এ থেকে মুক্তি পাবো। কিন্তু বাঘা পৌর সভার সাবেক মেয়ার আক্কাস আলীর নিজেস্ব ঠিকাদারের মাধ্যমে এতো নি¤্ন মানের ড্রেন হয়েছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তার মতে, রাস্তার চেয়ে ড্রেন অনেক বেশি উচু এ কারনে পানি গড়াই না।

আবার অনেকই মন্তব্য করে বলেন, যে পরিমান রড়-সিমেন্ট দিয়ে ড্রেন তৈরী করা হয়েছে তার ভবিষ্যৎ মোটেও ভাল নয়। এটি পানির চাপ পড়লে যে কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে।

এ বিষয়ে বাঘা পৌর সভার বর্তমান মেয়র আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্যানেল মেয়রের সাথে কথা বলতে বলেন।

জানতে চাইলে প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু বলেন, পুর্বের মেয়র আক্কাস আলী ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ার সুবাদে তাঁর নিজেস্ব ঠিকাদার দ্বারা পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পুর্বে ইচ্ছেমত কাজ করে অর্ধেক বিল তুলে নেন। পরে জানুয়ারীতে আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাঁকি বিল চাপের মুখে প্রদান করি। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পৌরসভার প্রকৌশলীর সাথে কথা বলতে বলেন।

বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, বাস টার্মিনাল এলাকার সমস্যা আগে ছিল। তবে নতুন করে কিছু স্থানে ড্রেনের কাজ করায় এখন উত্তেরের পানি দক্ষিন দিকে’র নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। আর বাঘা বাজারের যে স্থানে পানি জমে আছে এটি নিচু যায়গা। নতুন করে রাস্তা হওয়ার সময় সেখানে উচু করে রাস্তার কাজ করলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

SHARE