রাজশাহীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

96

স্টাফ রিপোর্টার : যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে ব্যাপক কর্মসূিচর মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের শুভ সূচনা করে সকালে স্মৃতি ফলকে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বে-সরকারি ভবনসমুহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় । সকালে হেতেম খাঁ বড় মসজিদে কোরআন-খানি, দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ।

সকাল সাড়ে আটটায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর উর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে প্যারেড পরিদর্শন, কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ, শারীরিক কসরত প্রত্যক্ষণ এবং পুরস্কার বিতরণ করেন।

কুচকায়াজ অনুষ্ঠানে রাজশাহী পুলিশের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন বিপিএম, পুলিশ কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বিপিএম, জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের ও পুলিশ সুপার মো: শহীদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার নূর উর রহমান মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী। তিনি বাংলার মানুষকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করতে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পর এদেশকে স্বাধীন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই এদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিভাগীয় কমিশনার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহবান জানান।

এদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। জাতির শান্তি, অগ্রগতি, কল্যাণ কামনা করে সকল মসজিদে বাদ যোহর ও অন্যান্য উপাসনালয়ে সুবিধা মত সময়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। হাসপাতাল, কারাগার, শিশুসদন, শিশু-দিবাযত্ন কেন্দ্র সমুহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। বিকেলে রিভারভিউ কালেক্টরেট স্কুলে মহিলাদের ক্রীড়া ও আলোচনা অনুষ্ঠান এবং মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক একাদশ বনাম মুক্তিযোদ্ধা একাদশ ও মেয়র একাদশ বনাম বিভাগীয় কমিশনার একাদশ এর মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে শিল্পকলা একাডেমিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া শিল্পকলা একাডেমিতে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সন্ধ্যায় লক্ষীপুর মোড়, আলুপট্টি মোড় ও শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং প্রবেশ মূল্য ছাড়া যাদুঘর, পার্ক, চিড়িয়াখানা, শিশুদের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ২৬ মার্চ সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বে-সরকারি ভবন ও সড়ক দ্বীপসমুহে আলোকসজ্জা করা হয়।

এছাড়া রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করে।

SHARE