শহীদ পরিবারের অশ্রুসিক্তকন্ঠে কালরাত্রির বর্ণনায় প্লাবিত গ্রিনপ্লাজা

83

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবের ৯ম দিনে নগর ভবনের গ্রিনপ্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গতকাল সোমবার সকাল ১০ টায় সাংস্কৃতিক সংগঠন খেলাঘর ২৫ মার্চ বিভীষিকাময় কালরাত্রির ভয়াল চিত্র অভিনয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করে। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পিত গণহত্যা, যার মধ্যমে তারা ১৯৭১ এর মার্চ ও এর পূর্ববর্তী সময়ে সংঘটিত বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দমন করতে চেয়েছিল। অপারেশনটির আসল উদ্দেশ্য ছিল ২৬ মার্চ এর মধ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সব বড় বড় শহর দখল করে নেয়া। এবং রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধীদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। এই সামরিক আক্রমণ ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে ত্বরান্বিত করে। এই গণহত্যা বাঙালিদের ক্রুদ্ধ করে তোলে যে কারণে পাকিস্তান সেনবাহিনীর বাঙ্গালি সেনাপতি ও সৈনিকেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই ভয়াবহ গণহত্যা ১৯৭১ এর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায় এবং বাঙালিরা দখলদারী পাকিস্তানী বাহিনীকে বিতারিত করার সংগ্রামে লিপ্ত হয়। খেলাঘরের উপস্থাপিত এই অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে নৃশংসতম গণহত্যা দিবসের ভয়াবহতা।
অংশগ্রহণকারী শিল্পী লাবিব হক জানান, তাদের এই অভিনয়ে ২০ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেছে, যাদের অধিকাংশই শিশু।
গণহত্যা দিবসের ঘটনা ও ভয়াবহতা বর্তমান প্রজন্মকে জানানোর উদ্দেশ্যে খেলাঘরের এই পরিবেশনা।
এছাড়া বিকেল পাঁচটায় পঞ্চম সঙ্গীত বিদ্যালয়ের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় দলীয় সঙ্গীত। শহীদ পরিবারের সদস্য অধ্যাপক মাসতুরা খানম, চম্পা সমাদ্দার, শাহীনা বেগম সঞ্জীব কুমার হালদারের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা পর্ব। তাদের অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বর্ণনা করেন নৃশংস সেই রাতের কথা। তাদের সঙ্গে উপস্থিত সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। ভারত পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমন্ত্রিত অতিথি শিল্পী সোনিয়া পাল ওলি, লাডলি মহন মৈত্র নৃত্য পরিবেশন ও শুভেন্দু মাইতি সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে নিহতদের স্মরণে তিন হাজার মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক সুখন সরকার ও তার দল পরিবেশন করে মাইম। চাপাই নবাবগঞ্জ থেকে আমন্ত্রিত গানের দল চমৎকার গম্ভীরা গান পরিবেশন করে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের চিন্তক থিয়েটারের ছিল গীতি নৃত্যনাট্য।
আগামীকাল সকাল ১০টায় খেলাঘর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রদর্শনী। বিকেল পাঁচটায় স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ভাষাসৈনিক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অতিথিদের শধ্যে আরো থাকবেন প্রফেসর মুনতাসির মামুন, কবি আসাদ মান্নান, স্বদেশ রায়। পরে নৃত্য ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে বর্ণিল আতসবাজির মাধ্যমে।

SHARE