গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি

88

স্টাফ রিপোর্টার : গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নানা কর্মসূচিতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ দাবি উত্থাপন করেন। এসময় তারা বলেন, ২৫ শে মার্চ আমাদের ভয়াল কালোরাত্রি। এই রাতেই পাক হানদারবাহিনীরা আমাদের নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্বিচারে হত্যা করে। পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় হত্যাযজ্ঞ আর ঘটেনি। সেই হত্যাযজ্ঞকে স্মরণ করতেই এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। যাতে করে শুধু বাংলাদেশের মানুষ না, সারা পৃথিবীর মানুষ শোককে শক্তিকে পরিণত করে বিনম্র শ্রদ্ধাভরে এই দিনটি স্মরণ করে।
গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সন্ধ্যায় সরকারি-বেসরকারি দফতর ও সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্নস্থানে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। বের করা হয় মশাল মিছিল। এছাড়া আলোচনা সভা ও গণহত্যার উপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীও করা হয়।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন : দিবসটি উপলক্ষে শহিদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নগরভবনের গ্রিনপ্লাজায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের উদ্বোধন করেন তিনি।
ভয়াল ২৫শে মার্চ কালরাতে শহীদদের স্মরণে নগরভবনজুড়ে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব উদ্যাপন পরিষদ। সোমবার সন্ধ্যায় নগরভবনের গ্রিনপ্লাজায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির সামনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।
এ সময় উৎসব উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক, সদস্য সচিব কবি আরিফুল হক কুমার, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাওগাতুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মোমবাতি প্রজ্জ্বলন শেষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব উদ্যাপন পরিষদ আয়োজিত মুখোভিনয় মাইম প্রর্দশনীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।
উল্লেখ্য, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশে এই প্রথম ১০ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাংষ্কৃতিক উৎসব নগরভবনের গ্রিনপ্লাজায় অনুষ্ঠিতর হচ্ছে। গত ১৭ মার্চ জাতির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে পর্দা নামবে এই বর্ণিল উৎসবের।
নগর আওয়ামী লীগ : দিবসটি উপলক্ষে শহিদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, র‌্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে নগর আওয়ামী লীগ। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে শহিদদের স্মরণে নগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হয়। এ সময় মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনসহ অংশগ্রহণকারীরা জ¦লন্ত মোমবাতি হাতে নিয়ে র‌্যালিতে অংশ নেন। র‌্যালিটি সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট ঘুরে মনিচত্বর হয়ে রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এতে অংশ নেন, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের রাজশাহী মহানগরের বর্তমান সহ-সভাপতি ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্না, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, মোহাম্মদ আলী কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, নাইমুল হুদা রানাসহ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবন্দ, মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলীসহ যুবলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জেলা আওয়ামী লীগ : দিবসটি উপলক্ষে শহিদদের স্মরণে জেলা আওয়ামী লীগ রাত ৮টায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছে। এতে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ, সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান রবু, অ্যাড. মো. মকবুল হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলফোর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. পূর্ণিমা ভট্টাচার্য, বন ও পরিবেশ সম্পাদক অ্যাড. এহেসান উদ্দিন শাহীন, উপ-দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক শরিফুল ইসলাম, সদস্য বদিউজ্জামান, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আজম সেন্টু, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ খানসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের পর শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
জেলা প্রশাসন : দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জেলা শিশু একাডেমিতে গণহত্যার উপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী করা হয়। সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা এবং গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গীতিনাট্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নগরীর বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিহতদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয় রাজশাহীর চিহ্নিত সব বধ্যভূমিতে। এছাড়া রাত ৯টা থেকে ৯টা এক মিনিট পর্যন্ত স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান ও ভবনে প্রতীকী ব্ল্যাক আউট পালন করা হয়।
জেলা পুলিশ : দিবসটি উপলক্ষে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে শহীদ পুলিশ সুপার শাহ আব্দুল মজিদ স্মৃতি ফলকে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, এক মিনিট নিরবতা পালন ও শহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি : দিবসটি উপলক্ষে নির্মূল কমিটির উদ্যোগে আলোর মিছিল বের করা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় মিছিলটি নগরীর বঙ্গবন্ধু চত্বর আলুপট্টি থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভুবন মোহন পার্কে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে গিয়ে সংগঠনের উদ্যোগে কর্মীদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

SHARE