হিজাব পরে মুসলিমদের পাশে নিউজিল্যান্ডের নারীরা

125

গণধ্বনি ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনায় মুসলমানদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজাব পরেছেন সে দেশের নারীরা। শুক্রবার দেশটির বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার নারীরা হিজাব পরে রাস্তায় নেমে আসেন। খবর রয়টার্স।

অকল্যান্ডের চিকিৎসক থায়া আশমান এ কর্মসূচির আহ্বান জানান।

আশমান বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আপনার সঙ্গে আছি, আমরা চাই আপনি ঘরের মতো রাস্তায়ও যেন নিরাপদবোধ করেন, আমরা আপনাকে ভালোবাসি, সমর্থন ও শ্রদ্ধা করি’।

এ দিন জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের মানুষেরা আল নুর মসজিদের সামনে জড়ো হন। অকল্যান্ড, ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চের নারীরা হিজাব পরে ছবি তুলে তা প্রচার করছেন। অনেকের সঙ্গে তাদের সন্তানরাও ছিল।

ক্রাইস্টচার্চের এক নারী বেল সিবলি বলেন, আজ কেন আমি হিজাব পরছি? আমার প্রথম কারণ হলো যদি কেউ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় তাহলে আমি বন্দুকধারী যাকে লক্ষ্য করেছে তার ও হামলাকারীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাধা দিতে চাই। আমি চাই না হামলাকারী পার্থক্য করতে পারুক। কারণ এখানে কোনও পার্থক্য নেই।

অনেক মুসলিম নারী পর্দার অংশ হিসেবে প্রকাশ্যে বের হলে মাথায় হিজাব পরেন। যদিও অনেকে এটা নারীর প্রতি নিপীড়ন উল্লেখ করে হিজাবের সমালোচনা করেন।

গত সপ্তাহে মুসলিমদের প্রতি শোক ও সংহতি জানাতে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডার্ন কালো রঙের হিজাব পরে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার হামলায় নিহতদের দাফন করা হয়েছে ক্রাইস্টচার্চ সমাধিস্থলে। সেখানে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে। তার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও মাথায় স্কার্ফ রয়েছে।

সম্প্রীতির জন্য মাথায় স্কার্ফ কর্মসূচির প্রধান র‍্যাচেল ম্যাকগ্রেগর জানান, তিনি যখন মাথায় স্কার্ফ পরে অফিসে প্রবেশ করেন তখন মানুষজনের তাকানোতে তিনি উদ্বিগ্ন বোধ করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রথম আমি সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারলাম সংখ্যালঘু হওয়া ও সংখ্যাগরিষ্ঠরা যে পোশাক পরে না তা পরলে কেমন অনুভূতি হয়।

ইসলামি পোশাক হিজাব ও নিকাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বেশ কিছু দেশ এগুলো নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করছে বিশেষ নিকাব। তবে অনেক দেশে নারীদের এসব পরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

SHARE