নগরীতে রাস্তার পাশে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

65

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীতে হাট-বাজারে বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও পরিদর্শকের লাইসেন্স ছাড়াই রাস্তার পাশে যত্রতত্র মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে নগরীর রাস্তার পাশেই দেদারসে বিক্রি হচ্ছে (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার। শহর কিংবা গ্রামে বাসাবাড়ি, খাবার হোটেল সব খানেই রান্নার কাজে ব্যবহার হচ্ছে গ্যাসের সিলিন্ডার। এতে মানুষের জীবন যাত্রার মান সহজ হলেও বাড়ছে ঝুঁকি। সহজলভ্য গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার বাড়ার সাথে বাড়ছে দুর্ঘটনাও। যত্রতত্র সিলিন্ডার রাখায় বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটছে অহরহ। সিলিন্ডর বিস্ফোরণ হওয়ার কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা ঝুঁকি। এক সময় দু’একটি নির্দিষ্ট ডিলারের কাছে পাওয়া যেতো গ্যাসের সিলিন্ডার। সময় গড়ানোর সাথে সাথে ডিলারের সংখ্যাতো বেড়েইছে। উপরন্ত রাজশাহী নগরীর পানের দোকান, মুদির দোকান. থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যায় এই গ্যাসের সিলিন্ডার। নির্দিষ্ট কোন গোডাউনে নারেখে সারিবদ্ধভাবে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় খোলাস্থানে রাখা হয়েছে এসব গ্যাস সিলিন্ডার। সেখানেই চলছে বিক্রি। বর্তমানে এই গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা নগরীর অলি গলিতেও পৌছে গেছে। আবাসিক এলাকাতেও যত্রতত্র এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখা হচ্ছে। ফলে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে নগরীর দুটি স্থানে এই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে শতশত মানুষ ও বসতবাড়ি। এরমধ্যে নগরীর স্টেডিয়ামের সামনে ও তেরখাদিয়া এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা নগরবাসিকে ভাবিয়ে তুলেছে। দেখা গেছে, নগরীর আলুপট্টি, জিরোপয়েন্ট, কাঁচাবাজার, রেলগেট, বর্ণালী, সাধুরমোড়, সিটি বাইপাস মোড়ে, মুন্নাফের মোড়, তালাইমারীসহ বিভিন্ন এলাাকায় যত্রতত্রভাবে এলপিজি গ্যাস দোকানে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। এরমধ্যে অধিকাংশ ব্যবসায়ীদের বৈধ কোন লাইসেন্স নেই। এমনকি বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কোন সম্মতি বা অনুমতিপত্রও নেই। প্রতিদিন সকালে দোকানের সামনে গ্যাস সিলিন্ডার সাজিয়ে রেখে মধ্যরাত পর্যন্ত তা বিক্রি করা হয়। এসব দোকানে যমুনা, বসুন্ধরা, ওমেরা, জি এবং নাভানা গ্যাসসহ ১০ টিরও বেশি কোম্পানির বিভিন্ন ওজনের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে অবশ্যই বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু অনুমতি না নিয়েই প্রসাশনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যত্রতত্রভাবে ছোট দোকানগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ জং ধরা এলপিজি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার। এলপিজি গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটর জারজিস কাদির জানান, সরকারী নীতিমালা মেনে লাইসেন্স নিয়ে টাকা খাটিয়েও এ ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে। বর্তমানে বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্সিগুলো যার তার কাছে সিলিন্ডার বিক্রির জন্য দিয়ে যাচ্ছে। এটা কোন নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এতে যারা লাইসেন্স নিয়ে শহরে ব্যবসা করছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়াও বর্তমানে গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেকে এটাকে লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বেছে নিচ্ছে। যার কারণে যত্রতত্রভাবে বিক্রিও বেড়েছে। তিনি দাবি করেন সকল কোম্পানীর উচিত আইন মেনে এই গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা। এছাড়াও যারা লাইসেন্স ছাড়াই ছোট দোকানপাটে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন তাদের বিক্রি বন্ধ করে দেয়া উচিৎ বলে মনে করছেন তিনি। এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, যত্রতত্র গ্যাস বিক্রি এটা খুবি দুঃখজনক। এব্যাপারে খুব শিঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষে কাজ চলছে। সবাই যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সে জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারি পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়ে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা মারাত্মক বিপদজনক। আবাসিক এলাকায় অবৈধভবাবে এলপি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার মজুদ রাখাসহ যত্রতত্র বিক্রি বন্ধে কার্যকর ববস্থা গ্রহণের জন্য আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। তবে বর্তমানে জনবল সংকট থাকার কারণে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে এ কাজে। তারপরও বিষয়টি তাদের নজরে আছে বলে জানান তিনি।

SHARE